ধূমপায়ীর মুখের স্বাস্থ্য

ধূমপায়ীরা জানে তারা আত্মঘাতী নেশায় আসক্ত। শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। ধূমপান দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা, চোয়ালের ভেতর, মুখের মধ্যকার নরম অংশ আস্তে আস্তে ধ্বংস করে দেয়।

মাড়িরোগ

ধূমপায়ীদের মাড়িরোগের প্রবণতা ৪-৬ গুণ বেশি। মাড়িরোগে মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হয়, ধূমপানের কারণে রক্ত সরবরাহ কম থাকায় এমনটা নাও হতে পারে। ফলে মাড়িরোগ বুঝতে না পারায় দাঁতের ধারককলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাঁত নড়ে দুর্বল হয়ে পড়ে যেতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ ও বিবর্ণ দাঁত

নিকোটিন দাঁতের পৃষ্ঠকে ধূসর বা কালো করে দেয়। নিজেরা অনেক সময় বুঝতে না পারলেও মুখের বিব্রতকর গন্ধ মানুষের বিরক্তের সৃষ্টি করে। সাদা ঝকঝকে দাঁত ও গন্ধহীন মুখ ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয়। ধূমপায়ীদের মাড়ি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে গাঢ় খয়েরি থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে।

মুখের ক্ষত

ধূমপায়ীদের মুখে নানা ধরনের ক্ষত হয়। লাল বা সাদা বর্ণের বিভিন্ন ঘা চোয়ালের ভেতরের অংশে, জিহ্বায়, ঠোঁটে ও গলার ভেতর তৈরি হয়। চিকিৎসা না পেলে বা ধূমপান না ছাড়লে এসব ব্যথাহীন ক্ষত আস্তে আস্তে ক্যানসারের মতো রোগের সৃষ্টি করে। তাই মুখের ক্ষত দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে দ্রুত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দাঁতে গর্ত

ধূমপানে মুখ শুষ্ক থাকায় দাঁতের পৃষ্ঠে লেগে থাকা জীবাণু ও খাদ্যকণা সহজেই ক্যারিজ বা দাঁতক্ষয়ের সৃষ্টি করে। শুরুতে ফিলিং করিয়ে না নিলে সংক্রমণ মজ্জাকে আক্রান্ত করে ব্যথার সৃষ্টি হয়। তখন রুট ক্যানেল করাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ।

খাবারের স্বাদ নষ্ট

টেস্ট বাডকে নষ্ট করে খাবারের স্বাদকে কমিয়ে দেয় ধূমপান। মুখে অস্বস্তিসহ জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে। মুখ শুষ্ক থাকায় খাবার গ্রহণ, কথা বলা, মুখ নাড়াতে কষ্ট হয়।

চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা

ধূমপায়ীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রক্তে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে দাঁত তোলা, মাড়ির চিকিৎসা, ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন বা অন্য সার্জারিতে ক্ষত শুকোতে দেরি হয়। রোগীর চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি থাকে।

ধূমপায়ীদের করণীয়

ধূমপায়ীদের ধূমপান বন্ধে সচেষ্ট হতে হবে। নিয়ম মেনে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট, জীবাণুনাশক মাউথ ওয়াশ ব্যবহার, ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশের ব্যবহারসহ জিহ্বা ও মাড়ি পরিষ্কার জরুরি। চিনিমুক্ত চুইংগাম, লবঙ্গ চিবানোসহ ৮ থেকে ১১ গ্লাস পানি পান করার মাধ্যমে মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। ছয় মাস পরপর ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।