নাফ নদী সাঁতরে আসা সেই হাতি দুটি অবস্থান করছে শাহপরীর দ্বীপে

মিয়ানমার থেকে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে চলে আসা হাতি দুটি বর্তমানে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে অবস্থানে করছে।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত হাতি দুটিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর এলাকায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া পরিবেশ টাওয়ারের পূর্ব পাশে নাফ নদীর প্যারাবন এলাকায় হাতি দুটিকে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।

ওই দিন বিকেলে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট–সংলগ্ন বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে নাফ নদীতে হাতি দুটি আশ্রয় নেয়। সারা রাত হাতি দুটি পানিতেই অবস্থান করে।

তিনি জানান, সোমবার সকালের দিকে হাতি দুটি সাঁতরে সেন্ট মার্টিনের দিকে যেতে চাইলে কোস্টগার্ড সদস্যদের সহযোগিতায় চার–পাঁচটি ট্রলারের মাধ্যমে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। হাতি দুটিকে কলাগাছসহ বিভিন্ন ধরনের লতাপাতা খেতে দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, হাতি দুটিকে বর্তমানে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের এলাকা দিয়ে টেকনাফে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। হাতি দুটির বয়স ৪০ বছরের বেশি হতে পারে। এগুলোর উচ্চতা ৭ থেকে ৯ ফুট। রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি দলছুট হয়ে সাঁতরে নাফ নদী পেরিয়ে আসতে পারে। হাতি দুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরীও হাতি দুটিকে টেকনাফের বনে ফেরানোর চেষ্টার কথা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত শনিবার টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়স্ক আরও দুটি মা হাতি উদ্ধার করে টেকনাফের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ৪ আগস্ট মিয়ানমার থেকে সাঁতরে একটি মা হাতি এসেছিল। সেটিকে টেকনাফের বনাঞ্চলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।