আবাসিক হোটেলে কিশোরীকে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার রওনক আবাসিক হোটেলে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের মামলায় মো. শরীফুল ইসলাম নূর নামে এক যুবক ও হোটেল ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় সোনাইমুড়ীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে কিশোরীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। 

গ্রেপ্তাররা হলো, চাটখিল উপজেলার ৫ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া রমজান আলী মিজি বাড়ির শরীফুল ইসলাম নূর (২৬), সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভানুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এবং হোটেল ম্যানেজার দীন মোহাম্মদ জনি (৩২)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী চাটখিল উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। শরিফুল কিছুদিন যাবত ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাবসহ দিয়ে আসছিল। বিষয়টি কিশোরী তার পরিবারকেও জানায়। পরিবারের লোকজন শরীফুলকে সতর্কও করে দেয়। এরপর রোববার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যায় ওই কিশোরী। অভিযুক্ত শরীফুল ওই ছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় কিশোরীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে শরীফুল তাকে সোনাইমুড়ীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রোববার রাতে ওই হাসপাতাল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, রোববার রাতে সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে হাসপাতালে ছাত্রীর অস্ত্রোপচার করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ শরীফুল ও হোটেল ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে। মেয়ে সুস্থ হলে তার বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।