পথে পথে নানা বাধাবিপত্তি আর ভোগান্তি। এসব মাথায় রেখেই রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। করোনার সংক্রমণ রোধে গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে সারা দেশে রিকশা ছাড়া যাত্রী পরিবহনে আর কোনো বাহন চলবে না। কিন্তু সরকারঘোষিত এমন সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গতকালও ঢাকা ছেড়েছে অসংখ্য মানুষ। তবে আগের তিন দিনের তুলনায় এ সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য হারে কম।
সারা দেশে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করা হবে গত শুক্রবার এমন খবর পাওয়ার পর থেকে নিষেধাজ্ঞা আর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দলে দলে গ্রামমুখী হচ্ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে পিকআপ ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে ছুটছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এ ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। দেশ রূপান্তরের মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল দক্ষিণবঙ্গগামী মানুষ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় কমেছে যাত্রীর চাপ। গতকাল পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে ঘাট এলাকায়। চেকপোস্ট থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘাটে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ফয়সাল আহমেদ জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৫০০ গাড়ি। সিরিয়াল অনুযায়ী সব গাড়ি পার করা হবে।
এদিকে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ নানা বাহনে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে মানুষ।
গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘরমুখো মানুষকে হেঁটে, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপায়ে ঘাট এলাকায় যেতে দেখা গেছে। মহাসড়কে ঝক্কি ঝামেলা থাকলেও ঘাট এলকায় পৌঁছাতে পারলেই নদী পার হওয়া যাচ্ছে সহজেই।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরি দিয়ে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ সময় মানবিক কারণে কিছু যাত্রীও পার করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ছোট যানবাহন ঢাকা থেকে এলে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে আগের দুদিনের তুলনায় গতকাল সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ ছিল কম। থেমে থেমে অল্প কিছু যাত্রী আসছে পাটুরিয়া থেকে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। তারা ঢাকাগামী প্রাইভেট কার, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা দৌলতদিয়া ও জমিদার ব্রিজ থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবার গাড়ি পার করছি। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ অনেক কম। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৩টি ফেরি জরুরি সেবার যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য ব্যবহত হচ্ছে।