টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ

সভাপতির বিয়ে-বিচ্ছেদ, দুই বছরে পূর্ণাঙ্গ হয়নি কমিটি

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে ৩০ কার্যদিবস সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও দুই বছরেরও বেশি সময়ে তা হয়নি। ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে উপজেলা ছাত্রলীগের বছরমেয়াদি এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। শর্ত ভঙ্গ করলে কমিটি বাতিল গণ্য হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ ছিল। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারা এবং শর্ত ভঙ্গ করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম গোপনে বিয়ে করলেও বাতিল হয়নি কমিটি। যদিও স্ত্রীর সঙ্গে শরীফুলের ইতিমধ্যে বিচ্ছেদও হয়ে গেছে।

অন্যদিকে ছয় সদস্যের কমিটির এক নেতা সরকারি চাকরি করছেন এবং আরেক নেতা এক বছরেরও বেশি সময় আগে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। সব মিলিয়ে সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও নতুন কমিটি গঠনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনের তৃণমূল কর্মীরা।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত চিঠিতে শরীফুল ইসলাম শরীফকে সভাপতি এবং রাসেল আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের ছয় সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই চিঠিতে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় সাংসদের সাংগঠনিক যোগাযোগ না থাকায় ওই কমিটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সংগঠনের তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি শরীফুল ইসলামের গোপন বিয়ে ও তালাকের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পরই মূলত উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অকার্যকর কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রলীগকে সক্রিয় ও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল মাহমুদ প্রান্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছরে কমিটির একটি সভাও হয়নি। শরীফুল সভাপতি হওয়ার পর ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি রেজিস্ট্রিমূলে গোপনে বিয়ে করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের অপরাধে তিনি অনেক আগেই বাদ পড়েছেন। এছাড়াও ছয় সদস্যের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিল মাহমুদ সরকারি চাকরি করছেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে নীতিগতভাবে কমিটি এখন বিলুপ্ত।’

উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার রকিবুল হাসান বিজয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগ ছয় সদস্য থেকে কমে গিয়ে তিন সদস্য হয়েছে। আইনত সখীপুর “উপজেলা ছাত্রলীগ” বলতে কিছুই নেই। তাই আমরা ছাত্রলীগকে গতিশীল ও কার্যকরী করতে নতুন কমিটি চাই। যাদের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগ সক্রিয় ও গতিশীল হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সখীপুর ‘উপজেলা ছাত্রলীগ’-এর সভাপতি শরীফুল ইসলাম শরীফ গোপনে বিয়ে করা এবং সম্প্রতি সেই বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে অনেক আগেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই কমিটি এখনো পাস হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রনি আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কোনো সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আঁতাত করে সখীপুরের ছয় সদস্যের একটি কমিটির অনুমোদন আনা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কমিটির শর্তানুযায়ী ওই কমিটি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। সেই শর্ত মোতাবেক সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। শিগগিরই সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘সভাপতির বিবাহের বিষয়টি আমিও শুনেছি। যেহেতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ওই উপজেলা কমিটি দিয়েছে, সেজন্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটিই দেবে।’