ব্রিটিশ ভারতে আধুনিক উচ্চশিক্ষার যাত্রা ১৮৫৭ সালে। গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং এ সময় কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। নানা কারণে মুসলিমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অভিহিত করতেন। তারা মনে করতেন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে তা হবে সর্বভারতীয় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নুতন প্রদেশ গঠিত হলে পূর্ববঙ্গের মুসলিম সমাজ নিজ প্রদেশের শিক্ষা উন্নয়নে সচেতন হয়ে ওঠেন। এর এক বছরের মাথায় ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। এরপর বিভিন্ন ফোরামে যথাক্রমে ১৯০৮, ১৯১০ ও ১৯১১ সালে পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব ওঠে। সর্বশেষ ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রসঙ্গ পরিপূর্ণতা পায়।
পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব
প্রথম প্রস্তাব : পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রথম প্রস্তাব তুলেন অবাঙালি মুসলিম ব্যারিস্টার সাহেবজাদা আফতাব আহমদ খাঁ। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কারনাল জেলায় জন্ম নেওয়া আফতাব আহমদ খাঁ অল ইন্ডিয়া মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্সের অনারারি জয়েন্ট সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন। ১৯০৬ সালে সিমলা ডেপুটেশনের পর মুসলিম নেতাদের কাছে স্যার সলিমুল্লাহ ‘মুসলিম অল-ইন্ডিয়া কনফেডারেসি’ নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে নেতারা বিষয়টি ২৭-২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অল ইন্ডিয়া মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স (নিখিল ভারত মুসলমান শিক্ষা সমিতি) এর ২০তম অধিবেশনে চূড়ান্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী ২৭-২৯ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মুসলমান শিক্ষা সমিতির অধিবেশন এবং ৩০ ডিসেম্বর মুসলিম অল-ইন্ডিয়া কনফেডারেসি গঠনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষের দিন ‘মুসলিম অল-ইন্ডিয়া কনফেডারেসি’ নামের বদলে ‘অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ’ নামে রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জাস্টিস শরফুদ্দীনের সভাপতিত্বে মুসলমান শিক্ষা সমিতির অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে আফতাব আহমদ খাঁ পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন। অধিবেশনে তিনি জানান, মুসলিম প্রধান পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য তার প্রথম প্রস্তাব হলো এ প্রদেশে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
দ্বিতীয় প্রস্তাব : বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পূর্ববঙ্গে ‘নিখিল ভারত মুসলমান শিক্ষা সমিতি’র শাখা ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে চারটি অধিবেশন ঢাকা, ময়মনসিংহ, বগুড়া ও রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৮ সালের ১৮-১৯ এপ্রিল ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত সমিতির দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি মৌলভি আব্দুস সালাম বলেন ‘যথাসময়ে আমি দেখতে চাই ঢাকায় একটি আবাসিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়; যার সঙ্গে থাকবে আবাসিক ইসলামি কলেজ ও স্কুল। আলিগড় কলেজের আদর্শে সেখানে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পড়ানো হবে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও নৈতিক আদর্শ সংক্রান্ত বিষয়। মুসলমান ছাত্রদের সেখানে আবাসনের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।’ সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ঐ অধিবেশনে বলেন ‘এই প্রদেশের মুসলমানদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার বিস্তার সম্বন্ধে আমি যতদূর ভেবে দেখেছি তাতে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ পর্যন্ত আমাদের প্রদেশ তার উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি; কারণ এই প্রদেশে কলেজের সংখ্যা অতি অল্প।’ মৌলভি আব্দুস সালাম কলকাতার পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
তৃতীয় প্রস্তাব : ১৯১০ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকা গভর্মেন্ট হাউজে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ল্যান্সলট হেয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক পরিষদের কাউন্সিল সভায় বাবু অনঙ্গ মোহন নাহা রায় বাহাদুর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলা বোর্ড থেকে নির্বাচিত হয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ঐ সভায় তিনি জানান, ‘এই প্রদেশে উচ্চশিক্ষার উৎসাহ, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার নিকট ভবিষ্যতে ঢাকা শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই প্রদেশের উচ্চ ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। এই প্রদেশে কলা ও বিজ্ঞান শিক্ষা দানের জন্য প্রথম শ্রেণির সরকারি এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তায় চলে এমন অনেক কলেজ আছে এবং খুব শিগগিরই আরও কলেজ স্থাপিত হবে। সরকার কর্তৃক ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি আইন কলেজ। আশা করা হচ্ছে কলেজের মর্যাদায় ঢাকা স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্কুল অব মেডিসিন এর উত্থান প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এই প্রদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করাই হচ্ছে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ নওয়াব আলী চৌধুরীও ১৯১২ সালের ৩-৪ মার্চ কলকাতায় অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের বার্ষিক সভার ২য় দিনের ৩য় অধিবেশনের বক্তৃতায় জানান যে, ‘১৯১০-১১ সালের বাজেট অধিবেশনে অনঙ্গ মোহন নাহা সুনির্দিষ্টভাবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি উত্থাপন করেন।’ সভায় নওয়াব আলী আরও জানান যে, ‘ঢাকার নবাব বাহাদুরও তার ১৯১১ সালের বাজেট বক্তৃতায় একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেন এবং সরকারের উচ্চ সমর্থন লাভ করেন।’ তবে বর্তমানে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র পাওয়া যায় না।
চতুর্থ প্রস্তাব : ১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে তদানীন্তন গভর্নর স্যার ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলির শুভাগমন উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান সমিতি’ ও ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লিগ’-এর পক্ষ থেকে দুজনকে দুটি মানপত্র দেওয়া হয়। মুসলমান সমিতির পক্ষ থেকে নওয়াব সলিমুল্লাহ এবং মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে প্রাদেশিক মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক নওয়াব আলী চৌধুরী মানপত্র পাঠ করেন। দুটি মানপত্রেই মুসলমানদের অন্যান্য দাবি-দাওয়ার সঙ্গে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্যার ল্যান্সলট হেয়ার তাদের দাবির যথার্থতা স্বীকার করে বলেন, অর্থের অভাবে সত্বর বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়ার আশা করা যায় না। স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি ১৯১১ সালের ২৮ অক্টোবর লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন। লর্ড হার্ডিঞ্জ তাতে সায় দেননি।
পঞ্চম প্রস্তাব : বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা হতভম্ব ও বিক্ষুব্ধ হয়। নওয়াব সলিমুল্লাহ লর্ড হার্ডিঞ্জকে তার হতাশা প্রকাশ করে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি পূর্ববাংলার পিছিয়ে থাকা অবহেলিত মুসলিমদের শিক্ষার জন্য কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেন। চিঠি পাওয়ার পর লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় গিয়ে মুসলিমদের কথা শোনার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এসে তিনদিন অবস্থান করেন। সেখানে ৩১ জানুয়ারি সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধিদল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধিদল মানপত্রে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি যে, এই সময়ে মুসলিমদের জন্য যে জিনিসটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হচ্ছে শিক্ষা। এটা সবারই জানা যে, মুসলিমরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হিন্দুদের তুলনায় সব দিক দিয়েই কম উপকৃত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে লাখ লাখ অর্থ ব্যয় হয়েছে, এই অর্থ হিন্দুদের মতো মুসলিমদের কাছ থেকেও এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপকৃত হয়েছে শুধু একটি শ্রেণি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বঙ্গভঙ্গের কারণে পূর্ববঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছিল তা রদের ফলে এর ধারাবাহিকতা বিঘিœত হবে। এ প্রসঙ্গে লেখক অধ্যাপক এম. এ. রহিম বলেছেন, প্রতিনিধিদল বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ এবং মুসলিমদের প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরন্তন বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিকার স্বরূপ জোরালেভাবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানায়। মুসলিম প্রতিনিধিদলের কথা লর্ড হার্ডিঞ্জ ধৈর্য সহকারে শোনার পর তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। তিনি ঘোষণা করেন বিগত পাঁচ বছরে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের যথেষ্ট উন্নতি লাভের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এখানকার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এত বেশি উপলব্ধি করেন যে, বিলুপ্ত নতুন প্রদেশের পরিবর্তে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের শিক্ষার সুবিধার্থে শিক্ষা বিভাগে একজন স্বতন্ত্র কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য তারা ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিবের কাছে সুপারিশ প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদ এক প্রবন্ধে জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত। ১৯১১ সালের ২১ ডিসেম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ সলিমুল্লাহর চিঠির ওপর একটি নোট প্রস্তুত করেন। এই ডকুমেন্টে সলিমুল্লাহ প্রস্তাবিত মাদ্রাসা রিফরমস স্কিম ও পাবলিক ইন্সট্রাকশন বিভাগে মুসলিম সহকারী ডাইরেক্টর নিয়োগ করা যায় কি না সে বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়। এই মতামতের সঙ্গে লর্ড হার্ডিঞ্জ একেবারে দৈব্যক্রমে তার কাউন্সিলের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন যে ‘whether it would not be desirable to encourage the creation of a University at Dacca with mahomedan hostels.’ ভাইসরয়ের অভিমত ছিল একবার যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা হবে, তখন এটা মুসলিমদের দ্বারা অভিনন্দিত হবে এবং এর মাধ্যমে মুসলিম শিক্ষাকে উৎসাহিত করার সরকারি ইচ্ছা অনস্বীকার্যভাবে প্রমাণিত হবে। ভাইসরের প্রস্তাব কাউন্সিলের শিক্ষা সদস্য স্টুয়ার্ট বাটলার সমর্থন করেন। ভাইসরয় ইতিমধ্যে ভারত সচিব লর্ড ক্রু-কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পূর্ববঙ্গে পৃথক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ এবং এ প্রসঙ্গে ঢাকায় গমনের আগ্রহের কথা অবহিত করেন। ভারত সচিব এর অনুকূলে তার অভিমত প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেন। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে স্মর্তব্য যে বঙ্গভঙ্গের পর লর্ড হার্ডিঞ্জকে লেখা সলিমুল্লাহর প্রেরিত চিঠিটি ঢাকায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অনুঘটকের মতো কাজ করে। সেই অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় সলিমুল্লাহর কৃতিত্ব সর্বাগ্রে।
উদ্যোগের পরিসমাপ্তি
১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের মৌখিক প্রতিশ্রুতির পর ২ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি ইশতেহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। ৪ এপ্রিল জানানো হয় যে, গভর্নর জেনারেল ঢাকায় টিচিং ও রেসিডেন্সিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৭ মে বাংলা সরকার এক পত্রে রবার্ট নাথানকে প্রেসিডেন্ট করে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠন করে। নাথান কমিটি দ্রুততম সময়ে কাজ সমাপ্ত করে ১০ ডিসেম্বর বাংলা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর নানা জটিলতায় এই স্কিম হিমাগারে থাকার পর ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনে সুপারিশের জন্য প্রেরণ করা হয়। কমিশন দীর্ঘ প্রতিবেদনে নাথান কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ঢাকায় একক, টিচিং ও আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ১৯১৯ সালের ১৮ মার্চ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় আইনসভায় এ বিষয়ে বিল উত্থাপিত হয়। ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ তা অ্যাক্টে পরিণত হয় এবং ২৩ মার্চ তা গভর্নর জেনারেলের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। ১৯২১ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।
লেখক সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
mukammel.ar@gmail.com