টানা তিন দিন শতাধিক মৃত্যু

টানা তিন দিন ধরে দেশে করোনায় দৈনিক শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১১২ জন। দেশে করোনা সংক্রমণের পর এক দিনে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এখন পর্যন্ত দেশে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ১১৯ জন, গত ২৭ জুন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজার ৩৮৮ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত নবমবারের মতো দৈনিক মৃত্যু ১০০ ছাড়াল। এর সবগুলোই এ বছরের গত এপ্রিল ও এ মাসের। এর মধ্যে এ বছরের গত ১৬ এপ্রিল প্রথম ১০১ জনের মৃত্যু হয়। এর পরের তিন দিন টানা শতাধিক মানুষ মারা যান। এর মধ্যে ১৭ এপ্রিল ১০১ জনের, ১৮ এপ্রিল ১০২ জনের ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যু হয়। পরে পাঁচ দিন মৃত্যু একশর নিচে থাকলেও ২৫ এপ্রিল পুনরায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর এ মাসের ২৫ তারিখে পুনরায় ১০৮ জনের মৃত্যু হয়। পরে ২৭ জুন ১১৯ জন, ২৮ জুন ১০৪ জন ও গতকাল ১১২ জন মারা যান।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সে মাসের ১৮ তারিখে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ৬৪ জন, ৩০ জুন। এ বছরের ১ জানুয়ারি ১৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বছর শুরু হয়। এখন পর্যন্ত চলতি বছরের সর্বনিম্ন মৃত্যু দুই দিন পাঁচজন করে, ১২ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ।

গতকাল দেশে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডের পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় এক দিনে আরও ৭ হাজার ৬৬৬ জন কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৪ হাজার ৪৩৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে দেশে দৈনিক ৮১ জন করোনায় মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, দৈনিক ৩০ জন করে। এরপর খুলনায় ২৪ জন করে, ঢাকায় ১৭ জন করে, চট্টগ্রামে ১৩ জন করে ও রংপুরে ৫ জন করে মারা যাচ্ছেন। দৈনিক গড় মৃত্যু সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে, ২ জন করে।

এ পর্যন্ত দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলায় ৫ হাজার ৪৮৭ জনের। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারা গেছেন চট্টগ্রাম জেলায় ৮০৬ জন ও তৃতীয় সর্বোচ্চ কুমিল্লা জেলায় ৭০২ জন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জে ৪৫৯ জন, সিলেটে ৩৫২ জন, বগুড়ায় ৩৪১ জন ও নোয়াখালী জেলায় ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার গত দু’দিন ধরে ২৪ শতাংশই রয়েছে। শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ৩০৬৮ জনই ঢাকা বিভাগের, যা মোট শনাক্তের ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক দিনে। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরও ৪ হাজার ২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ১১ হাজার ৭০০ জন।

ঢাকা নগরীসহ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ২২৬৫ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় ৩৬৮ জন, রাজশাহী জেলায় ৩৬৩ জন, খুলনা জেলায় ৩৭৮ জন এবং যশোরে ৩০৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলে ১৯৩ জন, কুষ্টিয়ায় ১৮০ জন, কুমিল্লায় ১৭৫ জন, নাটোরে ১৬১ জন, বগুড়ায় ১৫২ জন, দিনাজপুরে ১৪৪ জন, নোয়াখালীতে ১৩৭ জন, গোপালগঞ্জে ১২১ জন, ফরিদপুরে ১১৬ জন, বাগেরহাটে ১১৬ জন, নওগাঁয় ১১৩ জন, ফেনীতে ১০৯ জন, ময়মনসিংহে ১০৭ জন এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ১০৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক দিনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫৬৫টি ল্যাবে ৩১ হাজার ৯৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮২২টি নমুনা।

গতকাল যে ১১২ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬১ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ২৪ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। মৃতদের ৬৭ জন ছিলেন পুরুষ, ৪৫ জন ছিলেন নারী। ৭৭ জন সরকারি হাসপাতালে, ২১ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১৩ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একজনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।