পরীর মামলায় জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না নাসির-অমির

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। কিন্তু নাসির ও অমি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তাদের মুক্তি মিলছে না। তাদের অন্য মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গোয়েন্দ পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নাসির ও অমির মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কললিস্টে অনেক ভিআইপির নাম্বার আছে। নাসির ও অমির সঙ্গে পরীমণির কী ধরনের যোগাযোগ ছিল তা নানা কৌশলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন করলেই নাসির বারবার বলছেন পরীমণিকে তিনি চিনতেন না। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। শুধু অমির মাধ্যমেই তার সঙ্গে ঘটনার দিন পরিচয় হয়েছিল। এমনকি পরীও বলেছিল, নাসিরের সঙ্গে অমি পরিচয় করে দিয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অমিই সরাসরি দায়ী। তবে ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে তৃতীয় কোনো পক্ষের যোগসূত্র আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আশকোনায় সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বিগত দেড় যুগ ধরে মানবা পাচার ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির সিন্ডিকেট ‘টপ টেন রিক্রুটিং এজেন্সি’র মূল হোতা। নাসিরের সঙ্গে অমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন তোফাজ্জল। তাকে না পেয়ে তার দুই সহযোগী বাছির ও মশিউরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অমির ক্যাশিয়ার পলাশকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। অমি ভয়ংকর ক্রিমিনাল। তার তথ্য পেয়ে আমরা আঁৎকে উঠছি।

জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় নাসির ও অমির জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে নাসির ও অমি দুজনেই বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আছেন এবং অমি মানব পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতির আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। ফলে পরীমণির মামলায় জামিন পেলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। ওই দুটি মামলাতেই তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গতকাল দুপুরে পরীমণির মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় নাসির ও অমিকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদালতের সাভার থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৩ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান পরীমণির মামলায় আসামি নাসির ও অমির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই ৫ দিনের রিমান্ড গতকাল শেষ হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১৩ জুন রাতে ফেইসবুক পোস্টে পরীমণি অভিযোগ করেন, ৯ জুন উত্তরার বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় তিনি সাভার থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর ১৪ জুন রাতে উত্তরায় তুহিন সিদ্দিকী অমির বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়। এরপর ১৪ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসির, অমিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১৫ জুন নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।