বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে যাওয়া এমপিকে ধাওয়া: তদন্তে আওয়ামী লীগের কমিটি

কয়রায় বাঁধ পরিদর্শনে যাওয়া এমপিকে স্থানীয়দের ধাওয়া দেওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখন কয়রায় অবস্থান করছে। 

এর আগে ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাশ্রমে তা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ অবস্থায় কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আকতারুজ্জামান বাবু ও কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল হোসেনসহ একাধিক দলীয় নেতাকর্মী ১ জুন মঙ্গলবার ট্রলারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় স্থানীয়রা সংসদ সদস্যকে ধাওয়া দেন। ওই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ও পরিদর্শক দলের ওপর  হামলার সুষ্ঠু তদন্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির গঠিত কমিটি মঙ্গল ও বুধবার সরোজমিন পরিদর্শন করে। 

কমিটির আহ্বায়ক করা হয় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমএম মজিবর রহমান। সদস্য করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব সরফুদ্দীন বিশ্বাস বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খালেদীন রশিদী সুকর্ন, দপ্তর সম্পাদক এম রিয়াজ কচি ও সদস্য অসিত বরন বিশ্বাসকে। 

কমিটি মঙ্গলবার কয়রা উপজেলা ডাকবাংলায় দুপুর থেকে তদন্তের কাজ শুরু করে। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, উপজেলা প্রশাসন, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশিল সমাজ, দলী নেতাকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বক্তব্য সংগ্রহ করেন। 

গঠিত কমিটি বুধবার সকালে ঘটনাস্থল দশালিয়া বেড়িবাঁধ সরোজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের কাছ থেকে উল্লেখিত ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। 

এ বিষয় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী পরিচয় গোপন করার শর্তে জানান, নৌকার বিদ্রোহীরা বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড় বড় পদে অবস্থান করছেন। 

তারা জানান, ঘটনার সময় সংসদ সদস্যের ট্রলার বাঁধে অবস্থান করার মুহূর্তে দলের কতিপয় ব্যক্তির নির্দেশে উশৃঙ্খল লোকজন সংসদ সদস্যকে কাদা ছুড়ে ট্রলার থেকে না নামার হুমকি দেন। যা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে বুধবার বিকেলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. এমএম মজিবর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কয়রায় দুদিন অবস্থান করেছেন বলে জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, তদন্ত দলের অপর চারসদস্যসহ মঙ্গলবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি (যিনি ঘটনার দিন ট্রলারে ছিলেন) আনোয়ার ইকবল মন্টুর সঙ্গে কথা বলেন। ওই দিন কয়রায় ডাকবাংলায় গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি, উপজেলা প্রশাসন, সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তের শেষে সঠিক তথ্য আমরা গঠিত কমিটি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করব এবং ঘটনার বিষয়ে কোনো সত্য গোপন করা হবে না।