রাশিয়ার জলসীমায় ‘অবৈধভাবে প্রবেশ’ করা ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজটিকে ডুবিয়ে দিলেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতো না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ব্রিটিশ জাহাজে গুলি ছোড়া প্রসঙ্গে গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উল্টো সামরিক উসকানি দিয়েছে।
রাশিয়ার নিজ ভূখণ্ডের অংশ করে নেওয়া ক্রিমিয়ার জলসীমা দিয়ে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডিফেন্ডার পার হওয়ার সময় রাশিয়া সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এই নিয়ে গত সপ্তাহে মস্কো ও লন্ডনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই জলসীমা দিয়ে তাদের যাওয়ার অধিকার আছে বলে দাবি করে ব্রিটেন।
অপরদিকে রাশিয়া জানায়, কৃষ্ণ সাগরে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজ আবার এ ধরনের উসকানিমূলক কিছু করলে সেটির ওপর বোমা ফেলবে তারা।
এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির অভিযোগ তোলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের ভেতরে কিংবা দেশটির কাছাকাছি কোনো স্থানে সামরিক ঘাঁটি তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সেদিন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজটি রাশিয়ার পানিসীমায় প্রবেশ করেছিল। ওই অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিমানও যুক্ত ছিল।
কৃষ্ণ সাগরে সেদিন রুশ বাহিনীর ভূমিকা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরির উসকানি ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, এই মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি নেই। এমনকি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দিলেও এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতো না।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা জানে এই সংঘাতে তারা জিততে পারবে না। আমরা আমাদের নিজেদের এলাকার জন্য লড়াই করব। তাদের সীমান্তে যেতে আমরা কয়েক হাজার মাইল ভ্রমণ করিনি।’
পুতিনের অভিযোগ, রাশিয়া কীভাবে এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানায় সেটি দেখতেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সমন্বিতভাবে ওই উসকানিমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে।
বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কৃষ্ণ সাগরের ওই অঞ্চলটিকে জোরালোভাবে রাশিয়ার এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন পুতিন। তবে এটি আসলেই রাশিয়ার এলাকায় মার্কিন-ব্রিটিশ উসকানি, নাকি সমুদ্র চলাচলে আইনগত অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা? এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক ফ্র্যাংক গার্ডনারের মতে, এটা নির্ভর করবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তিনি লিখেছেন, ব্রিটেন ইউক্রেনের জোরালো সমর্থক। তাদের যুক্তি, কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে জর্জিয়ায় যেতে যুক্তরাজ্যের এইচএমএস ডিফেন্ডারের জন্য ওটাই ছিল সবচেয়ে সোজা পথ। কিন্তু ওই পথটি ক্রিমিয়ান উপদ্বীপের কয়েক মাইল দূর দিয়ে যায়। রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো ওই দখলদারিত্বের নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রাশিয়ার ওই দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি।
পুতিনের বুধবারের ভাষণে এটা পরিষ্কার যে, কৃষ্ণ সাগরের ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। এ নিয়ে কোনোভাবেই আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় মস্কো।