চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষপূর্তি

চীনকে দমন করতে চাইলে মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে : চিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, চীন কোনো দেশকে দমন করে না। কেউ আমাদের নির্যাতন ও পরাধীন করতে পারবে না। কেউ এমন চেষ্টা করলে গ্রেট ওয়াল অব স্টিলে তাদের মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর বিবিসির।

পেইচিংয়ের তিয়ান আনমেন স্কয়ারে এ অনুষ্ঠানে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সমবেত হন। সামরিক বিমানের ফ্লাই-পাস্ট, কামানের গোলায় তোপধ্বনি ও দেশাত্মবোধক গানে দিবসট উদযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে শি চিন পিং চীনের জনগণ যে ‘নতুন পৃথিবী’ গড়ে তুলেছে তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘চীনের জনগণ শুধু পুরনো বিশ্বকে ধ্বংস করতেই দক্ষতার পরিচয় দেয়নি, তারা নতুন একটি বিশ্বও গড়ে তুলেছে।’

প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে চীনের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলনের’ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা বলেন এবং হংকং ও ম্যাকাওয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেন।

আধুনিক চীনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে চিন পিং বলেন, ‘চীনের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যারা কমিউনিস্ট পার্টিকে আলাদা করতে চান, তারা ব্যর্থ হবেন।’

১৯২১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ৭২ বছর আগে দলটি ক্ষমতায় আসে। শতবর্ষ আগে যে বাড়িতে মাও সে তুং এবং অন্য ১২ জন নেতা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সম্প্রতি সেখানে শি চিন পিং তার পলিটব্যুরোকে নিয়ে নতুন শপথ করান। ১৯২১ সালে সাংহাইয়ের অখ্যাত আঙ্গিনাটি এখন বিলাসবহুল মেমোরিয়াল। এটিই গতকাল কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। শতবর্ষ উদযাপনে প্রকাশ করা ভিডিওতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম পারমাণবিক বোমা, নানা অবকাঠামো, সম্প্রতি মঙ্গলে পাঠানো নভোযানের মতো অর্জন গর্ব করে তুলে ধরে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে চীনকে দ্রুত বের করে নিয়ে আসা এবং বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য শি ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে হংকংয়ে দমনপীড়ন, শিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে বহির্বিশ্বে পেইচিং সমালোচনার মুখে পড়েছে।

একই সঙ্গে বিশ শতকের বড় বড় বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলার বিষয় আড়ালেই থেকে গেছে। ঐতিহাসিকদের মতে, এসব বিদ্রোহে লাখো মানুষ মারা গেছে। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সালের ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ নামের দুর্ভিক্ষ, ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘সংস্কৃতি বিপ্লব’ ও ১৯৮৯ সালে তিয়ান আনমেন স্কয়ারে হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো এখনো মুছে যায়নি।

গত বুধবার প্রকাশিত এক তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর কমিউনিস্ট পার্টিতে ২৪ লাখ ৩০ হাজার নতুন সদস্য যুক্ত হয়। ২০১৩ সালে শি চিন পিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ বছরই সবচেয়ে বেশি লোক দলটিতে যোগ দেয়। বর্তমানে দলটির সদস্যসংখ্যা ৯ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।