কিশোরীর আত্মহত্যার ৭ মাস পর ডিএনএ টেস্টে মিলল ধর্ষকের পরিচয়

ফেনীর সোনাগাজীতে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহননের ৭ মাস পর ডিএনএ টেস্ট করে কিশোরীর অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় পাওয়া গেছে। সেখানে ওই অনাগত সন্তান ও ধর্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

শুক্রবার সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল এ তথ্য জানান। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক আবু ইউসুফ নয়নকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ফেনীর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আদালতে আবু ইউসুফ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।

পুলিশ জানায়, গত মাসে ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষাগারে ধর্ষক, ধর্ষণের শিকার মৃত কিশোরী এবং কিশোরীর গর্ভে থাকা সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। গত বুধবার তাদের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সোনাগাজী থানায় পৌঁছায়।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর (১৩) পরিবারের সদস্যরা বগাদানা ইউনিয়নের আবু ইউসুফ ওরফে নয়নের অটোরিকশায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সে সুবাদে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরীর সাথে নয়নের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিয়ের প্রলোভনে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে নয়ন। এতে ওই ছাত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তখন নয়নকে বিয়ে করার জন্য বললে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরে ক্ষোভ ও লোক লজ্জার ভয়ে গত বছরের ২৮ নভেম্বর দুপুরে বিষ জাতীয় ট্যাবলেট খেয়ে ওই ছাত্রী নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ওই দিন থানায় নিয়ে যায়। রাতে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ রাজি হননি।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল বলেন, লাশ থানায় আনার পর নিহত কিশোরীর শারীরিক গঠন দেখে গর্ভে সন্তান রয়েছে বলে আমার সন্দেহ হয়। তাই ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করি। কয়েক দিন পর নিহত ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় বাধ্য করার অপরাধে মামলা দায়ের করেন।

ওসি জানান, এরপর পুলিশ অনুসন্ধানে নেমে এলাকার ও বাইরের সন্দেহভাজন পাঁচ যুবকের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করি। প্রাপ্ত ফলাফলে পাঁচ যুবকের মধ্যে নয়নের ডিএনএর সাথে কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।