গত কয়েকদিন ধরে লকডাউনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ভাবাবেশ কাটতে-না কাটতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার জায়গা পেয়েছে নেতিবাচক সংবাদে। যেহেতু এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, সে হিসেবে প্রত্যেকটি ভালো সংবাদে যেমন উচ্ছ্বসিত হই, সম্মানিত বোধ করি। ঠিক তেমনি যে কোনো নেতিবাচক সংবাদই হৃদয়ে দাগ কাটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলতা নিয়ে, শিক্ষার্থীদের চলমান সংকটে বাড়িতে পৌঁছানো নিয়ে যখন সর্বমহলে প্রশংসায় মুখরিত- ঠিক সে মুহূর্তে সিন্ডিকেটের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমপাড়ায় এখন তোলপাড়। দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে- টক শো, কলাম, সংবাদের মধ্য দিয়ে বিষয়টি সর্বমহলের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সুশীল সমাজের প্ল্যাটফর্ম, আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক তারা সিন্ডিকেটের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত নানান মানুষের কাছ থেকে প্রশ্ন আসছে বিষয়টি নিয়ে। এ বিষয়ে কোনো লেখা না লিখে নিরব থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মনে মনে। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় সেটি পারছি না। যেহেতু আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষক। আমার চোখে দেখা চলমান সংকটটি নিয়ে অভিমত জানানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রধানত সিন্ডিকেটের দুটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিডিয়া মহলে নেতিবাচক অবস্থানে আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একটি সংবাদ হলো, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষা নিয়ে একজন শিক্ষার্থীর বৃত্ত ভরাটে ভুল করায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মেধা তালিকায় চলে আসা। সে তথ্য সংবাদমাধ্যমে সরবরাহকারীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনটিই অনেক গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর।
প্রথম কথা হলো, এ সংবাদে বেশকিছু তথ্যগত ভুল আছে। দ্বিতীয় কথা হলো, বিষয়টি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। প্রথমত সিন্ডিকেট উক্ত ঘটনায় তথ্যদাতাকে শাস্তি দেয়নি। বরং তদন্তে এমন দোষ প্রমাণিত হলে, বিভাগীয় ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য হলে তবেই শাস্তি পাবেন। বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সিন্ডিকেট। আর প্রকৃত বিষয়টিও গণমাধ্যমে আংশিক এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা একটি সংবেদনশীল বিষয়। কমিটিতে যারা থাকেন, বিষয়টি যেহেতু খুব সংবেদনশীল সুতরাং তাদের সবাইকে এ সময়ে মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখার নির্দেশনা থাকে।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থীর নাম অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মেধা তালিকায় চলে আসে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল সেটি পরীক্ষা কমিটি অনুসন্ধান করার আগেই বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে যায়। যা পরীক্ষা কমিটির নির্ধারিত সদস্য ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সম্ভব না, যা বিশ্ববিদ্যালয়র ভর্তি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যাওয়া খুব অবাক করার বিষয় নয়। আবার ভুলকে ভুল বলা যাবে না সেটিও নয়। বরং প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেরই প্রশাসনিক কাঠামোর কিছু বিষয় থাকে। কাজ করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেলেও সব বিষয় গণমাধ্যমে আসে না। বরং নিজেদের ভুলগুলো নিজেরাই সংশোধন করে নেয়। সেটি সম্ভব না হলে তখনই এটি গণমাধ্যমে আসে। এ ধরনের চর্চা সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানেই আছে। সেটি না থাকলে পরে পুরো কাঠামোটিই ভেঙে পড়ে।
সুতরাং এমন একটি ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষক সমিতি এ বিষয়ে মানববন্ধন করে। সে সময়ে দলমত নির্বিশেষে শিক্ষকরা দাবি করেন, যিনি বা যারা এ কাজটি করেছেন তার উদ্দেশ্য ভালো নয়, যে ভুলটি নিজেরা সংশোধন করে ফেলতে পারত সে বিষয়টিকে যিনি বা যারা সুযোগ না দিয়ে, মোবাইলের ব্যবহারের অনুমতি না থাকলেও সেটি ছবি তুলে গণমাধ্যমের কাছে দিয়েছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়র স্বার্থকে না দেখে, ঘরের বিষয় পরকে জানিয়ে ‘হিরো’ হতে চান। সে হিসেবে সে সময়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেই এর তদন্ত দাবি করা হয়।
সে আলোকে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেন। যে প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয় ৮০তম সিন্ডিকেটে। সেখানে এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা থাকার, কারও কারও কাজে গাফেলতি থাকার প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। এরপরও সিন্ডিকেট সে বিষয়ে শাস্তি না দিয়ে বরং তারা সরকারি চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। সরকারী চাকরির আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তে এমন বলাটি দোষী হলে শাস্তি হবে আর শাস্তিযোগ্য অপরাধ না হলে শাস্তি হবে না এমনটি জানায় সিন্ডিকেট।
সুতরাং এটি হঠাৎ করে প্রশাসনের কারও প্রতি রূষ্ট হয়ে তাকে শাস্তি দিতে এমনটি করেছেন বিষয়টি তা নয়। বরং তদন্তাধীন বিষয়েদাখিল হওয়া প্রতিবেদনের আলোকে সিন্ডিকেট বিভাগীয় তদন্তের প্রস্তাবনা দেয়, যে বিষয়ে শিক্ষক সমিতির শুরু থেকেই অকুন্ঠ সমর্থন ছিল।
দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি উঠে আসে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ‘টু হুম ইট মে কনসার্ন’ এর মাধ্যমে দেওয়া অভিজ্ঞতাকে আমলে নিচ্ছেন না। তারা ‘টু ফরওয়ার্ডেড’ বা অগ্রায়িত লেখা থাকার শর্ত দিচ্ছেন। এমনটি অনেকের কাছে ছেলেমি মানসিকতা কিংবা খামখেয়ালিপনা হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে লিখতে দেখা যায়, কেউ কেউ বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন। শুরুতে বিষয়টি না জানার কারণে আমারও এমনই মনে হয়েছিলো। আমিও গভীর ষড়যন্ত্র, অন্যায় হিসেবে ভেবেছিলাম।
সাধারণী চোখে ‘টু হুম ইট মে কনসার্ন’ ও ‘টু ফরওয়ার্ডেড’ এর মধ্যে পার্থক্য না দেখা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখানে অনেকগুলো বিষয় বোঝার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮তম সিন্ডিকেটের আগে ‘টু হুম ইট মে কনসার্ন’ লিখিত অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে পদোন্নতি নিয়েছেন অনেক শিক্ষক।
কিন্তু ৬৮তম সিন্ডিকেটে নিয়ম পরিবর্তনের পর এমনটি আর সম্ভব নয়। নিয়মটি কেন পরিবর্তন করা হলো সে বিষয়টিও হয়ত অনেকে সহজেই বুঝবেন; যাতে করে কারও অভিজ্ঞতা না থাকার পরও বিগত সময়ে তারা এমন অভিজ্ঞতার সনদপত্র ‘ম্যানেজ’ করে অভিজ্ঞতা দেখানোর সুযোগ না পায়।
এমন ঘটনা ক্ষেত্র বিশেষ নানা জায়গায় ঘটে থাকে, তেমনটি যেন না হয় সেই সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানসিকতা থেকেই সিন্ডিকেট এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এমন ভালো সিদ্ধান্ত যারা আগে থেকে না জানেন, কিংবা উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রার দ্বারা আবেদনের অনুমতি না নিতে পারেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটি স্বাভাবিক।
এমনটি ঘটেছেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে। তাদের অভিজ্ঞতার সনদ থাকা সত্ত্বেও তারা পরবর্তীতে আর পদোন্নতি পাননি। কেননা ৬৮তম সিন্ডিকেট শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে যাদের রেজিস্ট্রার টু রেজিস্ট্রার ফরওয়ার্ড লেটার আছে তারাই শর্ত অনুযায়ী সুবিধাটি পান।
এই ‘টু ফরওয়ার্ডেড’ সম্বলিত সনদপত্রটি মুলত যখন প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পদের জন্য আবেদন করে, তখন সেই আবেদন ফর্মের ওপর আগে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারে সিলসহ আবেদনটি করতে হয়। সে সময়ে আবেদন না করে যোগদান করলে পরবর্তীতে আগের কর্মরত প্রতিষ্ঠান থেকে ‘টু ফরওয়ার্ডেড’ কথাটি সিল, সইসহ লেখা থাকলেও তা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হবে না। এটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তীতেও স্পষ্ট করেই লেখা থাকে।
সবার বোঝার সুবিধার জন্য সিন্ডিকেটের ৬৮তম সভার সিদ্ধান্তটি সরাসরি তুলে ধরছি। ‘চাকরিরত প্রার্থীদের অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার/ প্রতিষ্ঠান প্রদান কর্তৃক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর অগ্রায়িত হতে হবে অথবা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত মূল আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর ও সিলসমেত ফরওয়ার্ডেড বা অগ্রায়িত শব্দটি লেখা থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন বলে বিবেচিত হবে’।
ফলে ‘টু হুম ইট মে কনসার্ন’ ও ‘টু ফরওয়ার্ডেড’ বাক্যের মধ্যে বেশ ব্যবধান আছে যেটি সাধারণী ভাবনায় চোখে ধরা পড়বে না। যেহেতু ৬৮তম সিন্ডিকেট এ বিষয়ে পরিষ্কার বলে দেওয়া আছে, ব্যাখ্যা আছে, সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেজিস্ট্রার সবাই নিয়মটি মানতে বাধ্য।
তাহলে এখন জিজ্ঞাসু মনে ভাবনা আসতেই পারে এমন ধারা থাকার পরও আমাদের সম্মানিত সে শিক্ষক বেতন ভাতাসহ, ওয়েবসাইটে পদোন্নতির নাম এলো কী করে? এটা কি অন্যায় নাকি ভুল ছিল? তিনি আমার একজন সহকর্মী একজন সম্মানিত শিক্ষক, তাই তার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার বিষয়টি নিয়ে আমিও বিব্রত। এর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটাই বোঝার, জানার, প্রশ্নের ছিলো আমার কাছে!
বিষয়টি বিজ্ঞপ্তীতে থাকার পরও যদি তার দৃষ্টিগোচর না হয়, সেখান থেকে তিনি আবেদন করবেন যেহেতু তার অভিজ্ঞতা সনদ আছে সুতরাং এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু তার আবেদনটি কীভাবে অনুমোদন পেল। এটা তো অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেল। তা কীভাবে সম্ভব!
তার এই পদোন্নতির আবেদনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে বিভাগ থেকে। পদোন্নতির আবেদনে বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ দরকার হয়। প্ল্যানিং কমিটিতে সাধারণত বিভাগের সিনিয়র ৩/৪ জন শিক্ষক সদস্য হিসেবে থাকেন। তাদের দায়িত্ব হলো আবেদনপত্র ও সনদপত্র যাচাই-বাছাই করে সবকিছু শর্তপূরন করলে তার পদোন্নতির সুপারিশ করা। তাহলে ৬৮তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত জানার পরও কেন বিভাগ থেকে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ করে বিষয়টি রেজিস্ট্রার ভবনে পাঠানো হলো!
এরপর বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রার দপ্তরে আবেদন পৌঁছালে সাধারণত আবেদনপত্র স্ক্রিনিংয়ের জন্য ৫/৬ জন সহকারী রেজিস্ট্রার থাকেন। তারাও বিষয়টিকে কেন ছেড়ে দিলেন! বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির ভুলটি এখানে এসেও রয়ে গেল, প্ল্যানিং কমিটি, সহকারী রেজিস্ট্রারদের বক্তব্য জানতে পারলে আরো ভালো হতো। সেখান থেকে আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এতগুলো ধাপ পার হয়ে যখন বিষয়টি যখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে, তখন তাদের হাতেও ভুলটি হয়ে সিন্ডিকেট থেকে তার পদোন্নতির বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। পেছন থেকে চলে আসা ভুলটি তারাও করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে সে ভুলটি দৃষ্টিগোচর হলে ৮০তম সিন্ডিকেটে তার পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত করা হয়। এ বিষয়টি গণমাধ্যমে এমনভাবে এসেছে, মনে হয়েছে অনেকটা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াতে প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার, সচেতন হওয়ার, সজাগ দৃষ্টি রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। তেমনি এ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ মিডিয়াকে না বলে আংশিক তথ্য দিয়ে, নানা ফোরাম থেকে বিবৃতি নিয়ে এসে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার বিষয়টিও চোখে ধরা পড়েছে। আংশিক বা খণ্ডিত তথ্য বাড়তি সন্দেহ, সংশয়, ক্ষোভের, ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ করে। এটি সাময়িক সুবিধা দিলেও স্থায়ী ক্ষতি হয়। একজন শিক্ষক হিসেবে, করোনার এই দুর্যোগে চাই সার্বিক বিষয়ের একটি ভালো সিদ্ধান্ত আসুক। যে সিদ্ধান্তে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে। শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ পাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। করোনায় যেমন শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে সারা দেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রেখে, সবার ন্যায্য অধিকার দিতে, কোনো অন্যায়-অবিচার নয় বরং নৈতিক জায়গায় সততার পরিচয় দিয়ে প্রাণের ক্যাম্পাস হয়ে উঠুক মানুষ গড়ার আদর্শ বিদ্যাপীঠ।
মুতাসিম বিল্লাহ: শিক্ষক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।