ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে ৯ কোটি টাকায় বিশেষ চশমা

স্পেনের জাউমা পুজ ও কনস্টানজা লুসেরো দম্পতির ঘর আলো করে প্রায় আট বছর আগে জন্ম নেয় ছেলে বিয়েল। মা-বাবার ঘর আলো করে জন্মালেও বিয়েলের চোখে ছিল না ভালো করে দেখার আলো। হাঁটতে শেখার পর থেকে সমস্যা আরও প্রকট হলো। হাঁটতে গেলেই হোঁচট খেয়ে পড়ে, সিঁড়ি বেয়ে উঠতেও সমস্যা তার। ছেলের দৃষ্টি স্বাভাবিক করতে অসংখ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন মা-বাবা। কিন্তু প্রচলিত চিকিৎসা বা চশমায় বিয়েলের দৃষ্টি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তারা।

পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বাবা জাউমা ও চিকিৎসক মা কনস্টানজা নিজেরাই লেগে পড়লেন সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে। তৈরি করে ফেলেছেন উচ্চ প্রযুক্তির এক ধরনের বিশেষ চশমা।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, চোখের দুরারোগ্য এক অসুখে ভুগছে বিয়েল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর সহজ সমাধান নেই। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বিয়েলের দৃষ্টিশক্তি অনেক কম। আর দশটি সাধারণ চোখের রোগের মতো নয় এটি। তাই চশমা বা অস্ত্রোপচারে এর সমাধান নেই।

পরে ২০১৭ সালে কোনো উপায় না পেয়ে বিয়েলের বাবা জাউমা পুজ ও মা কনস্টানজা লুসেরো নিজেরাই লড়াইয়ের মাঠে নামেন। এএফপিকে পুজ বলেন, ‘কম দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নদের জন্য ছড়ি আর গাইড কুকুর ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করি। আমরা জানতাম তাকে সুস্থ করতে পারব তবে কিছুটা সাহায্য তো করতে পারছি।

এএফপি বলছে, গেমিং গগলস ও চশমার সমন্বয়ে নতুন যন্ত্রটি তৈরি করেছেন বিয়েলের মা-বাবা। এতে একটি ডিসপ্লে রয়েছে। সেখানে চশমার সামনে থাকা লেখা ছবি ও ভিডিওগুলো প্রযুক্তির সহায়তায় ফুটিয়ে তোলা হয়। চলার পথে নানা বাধাগুলোও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় চশমাটিতে। চশমাটি পরে চলার পথে কোনো বাধা এলে ডিসপ্লেতে লাল একটি বৃত্ত দেখা যায়।

চশমাটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৯ লাখ ইউরো। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ইউরো দিয়েছেন জাউমা পুজ ও কনস্টানজা লুসেরো। বাকিটা এসেছে নানা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন তহবিল থেকে। চলতি বছরের শেষের দিকে বিয়েল গ্লাস নামের চশমাটি স্পেন ও ডেনমার্কের বাজারে বাণিজ্যিকভাবে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।