সংবাদ পাঠক ও অভিনেতা কাফি খানের মৃত্যু

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের একসময়ের সংবাদ পাঠক এবং অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী কাফি খান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ভার্জিনিয়া সেন্টার হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কাফি খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে রাফি খান।

সত্তরের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের শুরুতে জিয়াউর রহমানের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কাফি খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

যুক্তরাষ্ট্র সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর সুগারল্যান্ড রোডের অ্যাডামস সেন্টার মসজিদে কাফি খানের জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হবে।

দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক কাফি খান ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ থেকে অবসর নেন ১৯৯৪ সালে। তারপর যুক্তরাষ্ট্রেই পরিবার ও স্বজনদের সান্নিধ্যে অবসর জীবন কাটাচ্ছিলেন।

কাফি খানের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকার কাজীপাড়া গ্রামে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম ১৯২৯ সালের ১ মে।

গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে বারাসত গভার্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করে বিকমে ভর্তি হন। ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকা চলে আসেন কাফি খান। তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতেই থেকে যান।

ঢাকায় এসে পাকিস্তানের রাজস্ব বিভাগে কেরানির চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি ১৯৫১ সালে পাকিস্তান রেডিওর ঢাকা শাখায় বেতার-নাটকে কণ্ঠদানও শুরু করেন। এছাড়া ঢাকায় মঞ্চনাটকের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও কাজ করতে থাকেন।

১৯৬৬ সালে কাফি খান প্রথমবার ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের কর্মী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন কিছু প্রবাসীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গঠনে কাজ করেন তিনি। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভয়েস অব আমেরিকার চাকরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হন কাফি খান।

মঞ্চনাটক, কবিতা আবৃত্তি ও বেতার অনুষ্ঠান ছাড়াও, ষাটের দশকে ঢাকায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

কাফি খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতেও শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।