করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে চলছে সাত দিনের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবারও গাজীপুর থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। তবে পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি রাস্তায় রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেনি। এতে যাদের বাসা দূরে তারা কারখানায় আসতে নানা জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরার মুখে পড়েছেন। অনেকে রাস্তায় কোনো যানবাহন না পাওয়ায় হেঁটে, বৃষ্টিতে ভিজে কারখানায় আসেন। কারখানা ছুটির পর একইভাবে বাসায় ফেরেন তারা।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, চান্দনা-চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় কাঁচাবাজার, কিছু খাবার দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ। কিছু পোশাকশ্রমিক রিকশাযোগে ও হেঁটে কারখানায় যাচ্ছেন। সড়ক-মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়াও মাঝেমধ্যে শ্রমিকবাহী ছোট-বড় যানবাহন চলছে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে ও যানবাহনে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এছাড়া সড়ক-মহাসড়ক থেকে ভেতরে লক্ষ¥ীপুরা, ভোগড়া, ঝাজর, ইসলামপুর, ভাওয়াল মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান-পাট খোলা ও জনসমাগম থাকতে দেখা গেছে।
হোসনা আক্তার নামে এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহানগরের মালেকেবাড়ি এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে আমাকে কারখানায় আসতে হয়েছে। গাড়ি সংকটের কারণে রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। আবার রিকশাও পাওয়া মুশকিল।’
এদিকে ‘লকডাউনের প্রথম দিন গত বৃহ¯পতিবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ৫০টি চেকপোস্টে কাজ করছেন ৩ প্লাটুন সেনাসদস্য, ৩ প্লাটুন বিজিবি এবং বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম বলেন, শুক্রবার লকডাউন চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলাজুড়ে ৭২ ব্যক্তি ও যানবাহনকে ৪১ হাজার ৪৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ ৫০টি পয়েন্টে কাজ করছে। এরমধ্যে জেলা প্রশাসনের ১৮টি চেক পয়েন্টে এবং জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটনের আরও ৩২টি চেকপোস্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ প্লাটুন সেনাসদস্য, ৩ প্লাটুন বিজিবি ও পর্যাপ্তসংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য ডিউটি করছেন। এসব পয়েন্টে লকডাউনে তারা অন-অনুমোদিত যানবাহন, দোকানপাট খোলা নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদিত গাড়ির চালক, যাত্রী বা শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮টি টিমে ১৮ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জাকির হাসান বলেন, লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাজীপুর মহানগরে তাদের ৪৫০ সদস্য কাজ করছেন। ২৭টি মোবাইল টিম যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা-বন্ধ রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ব্যানার-স্টিকারযুক্ত কিছু কারখানার শ্রমিকবাহী যানবাহন যাচাই সাপেক্ষে চলতে দেওয়া হচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।