বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ জুলাই ১৯৭১ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দুই শিশুপুত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৬ ডিসেম্বর যখন দেশ স্বাধীন হয় তখন মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। আজকে আওয়ামী লীগ সরকারও খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে রেখেছে। সেদিনটিকে স্মরণ করে গতকাল শুক্রবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মনে করেছিল খালেদা জিয়াকে বন্দি করলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে থামানো যাবে। কিন্তু তারা ভুল করেছিল। দুই শিশুপুত্রসহ খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পরও জিয়াউর রহমান যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। কারণ তিনি সত্যিকারের যোদ্ধা ছিলেন। ছিলেন ভিন্নধর্মী নেতা।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলছে, বিএনপি স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি নয়। তাদের অপপ্রচারের জবাব দিতে বিএনপি এই দিবসটি পালন করছে। আজকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। এজন্য রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছে। রাজনীতি ধ্বংস করে দিয়ে এক ব্যক্তি, এক দল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আজকে মানুষের জীবনের মূল্য নেই। আইনের শাসন নেই। সংবিধান কেটে ছুড়ে ফেলেছে।’
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহামনের স্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুই শিশুপুত্রসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল। বিএনপি আত্মপ্রচারে বিশ^াস করে না বলে এতদিন এ নিয়ে আমরা কথা বলিনি। এখন বলছি কারণ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তাই আমরা আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো ওয়ান-ইলেভেনের সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল। একইভাবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে সাজা দিয়েছে। আজকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’
মুক্তিযুদ্ধকালে হানাদার বাহিনীর হাতে খালেদা জিয়ার বন্দিত্বের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দি হন বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকো। তারা ছয় মাস বন্দি ছিলেন। এর আগের তিন মাস ফেরারি জীবন কাটান খালেদা জিয়া।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া দেশ-বিদেশ থেকে ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হন দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।