বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মুক্তা লা পেরেগ্রিনা

১৫০০ সালের দিকে পানামা উপকূলে খুঁজে পাওয়া যায় ১১ গ্রাম ওজনের প্রাকৃতিক মুক্তা লা পেরেগ্রিনা। হাতবদলের পালায় ২৫০ বছর ফরাসি সাম্রাজ্য ঘুরে দীর্ঘদিন এই মুক্তাটি সংরক্ষিত ছিল ব্রিটিশ অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেইলরের কাছে। লা পেরেগ্রিনার হাতবদলের ইতিহাস লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

লা পেরেগ্রিনা

১৯৬৯ সাল। লাস ভেগাসে বসন্তের ফুরফুরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। শীতের ঝোঁক এখনো পুরোপুরি যায়নি। রাতের দিকে এখনো শীত পড়ছে। ব্রিটিশ অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেইলর তার সিজারস প্যালেসের অ্যাপার্টমেন্টে বসে আছে। দুশ্চিন্তা আর তীব্র আতঙ্কে নীল হয়ে আছেন তিনি। তার সবচেয়ে প্রিয় মুক্তার গহনা সকাল থেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এই বিশেষ আকৃতির মুক্তা খুব সহজে মেলে না। তার ওপরে এই মুক্তাটির রয়েছে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। হাতবদল হতে হতে সেই মুক্তা গিয়ে ঠেকেছে অভিনেত্রীর হাতে। পানির ফোঁটা আকৃতি নিয়ে চমৎকার এই মুক্তাটির নাম লা পেরেগ্রিনা। দৈর্ঘ্যে ২৫.৫ মিলিমিটার (১ ইঞ্চি) ও প্রস্থে ১৭.৫ মিলিমিটার এই মুক্তার ওজন ছিল ১১ গ্রাম। প্রাকৃতিক এই মুক্তার সঙ্গে মিশে ছিল এলিজাবেথের প্রেমময় দাম্পত্যের গল্প। ১৯৬৯ সালে তার হাতে আসার আগে এটি ছিল হ্যামিলটন পরিবারের সম্পত্তি। হ্যামিলটন পরিবার এটি নিলামে তুললে লন্ডনের সাথেবিসে হলিউডের চিরপরিচিত মুখ রিচার্ড বার্টন সে সময় ৩৭ হাজার ডলারে মুক্তাটি কিনে নেন। ভালোবাসার উপহার হিসেবে এটি ঠাঁই নেয় স্ত্রী এলিজাবেথ টেইলরের গহনার বাক্সে। মুক্তাটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঠাঁই পেয়েছে নিজ বই ‘মাই লাভ এফেয়ার উইদ জুয়েলারি’তে। তিনি লিখেছেন, ‘সিজারস প্যালেসে আমাদের সুইটে বসে আছি। একটা সময় আমার মনে হলো লা পেরেগ্রিনাকে ছুঁয়ে দেখা দরকার। গিয়ে দেখি মুক্তাটি যেখানে রেখেছিলাম সেখানে নেই। মুহূর্তে রিচার্ডের দিকে তাকালাম। ভাগ্যিস সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল না! তাকালে দেখতে পেত আমার পাংশুটে মুখ। শোয়ার ঘরে গিয়ে বালিশ জড়িয়ে কান্নাকাটি শুরু করলাম। খুবই ধীরে, কোনোভাবেই যেন আমার কান্নার শব্দ রিচার্ডের কানে না পৌঁছে। জুতা থেকে শুরু করে জামা-কাপড় সব তন্ন তন্ন করে খুঁজতে শুরু করলাম। রিচার্ডের দেওয়া ভালোবাসার উপহার আমি হারিয়ে ফেললাম। এ আমি কী করলাম? ঠিক তখনই লক্ষ করলাম আমাদের কুকুরছানা কিছু একটা চিবিয়ে খাচ্ছে। অনায়াসে কুকুরছানার চোয়াল মেলে ধরলাম। দেখলাম ওর মুখের ভেতরে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত মুক্তা! ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। কোনো আঁচড় পড়েনি মুক্তার গায়ে।’

এলিজাবেথ টেইলরের অনেক ছবিতে প্রাকৃতিক মুক্তার প্রতি তার প্রেম ফুটে ওঠে। বছরের পর বছর লা পেরেগ্রিনা সযতেœ নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন তিনি। সবশেষে বিখ্যাত গহনা প্রতিষ্ঠান কার্টিয়ারের বিখ্যাত ডিজাইনার ও শিল্পী আল দুরানতেকে মুক্তার হার ডিজাইন করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। লা পেরেগ্রিনা যেন তার যোগ্য সম্মান পায় সে ব্যাপারে খুব সচেষ্ট ছিলেন দুজনই। সে হার তৈরির সময় এলিজাবেথ ও আল দুরানতে খুব যত্ন নিয়ে কাজ করেছিলেন। ২০১১ সালে এলিজাবেথের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুক্তাটি তার কাছে সংরক্ষিত ছিল।

হাতবদলের পালা

খুব কম মুক্তাই লা পেরেগ্রিনার মতো এত উত্তেজনা আর ইতিহাসের সঙ্গী হতে পেরেছে। প্রকৃতিতে একই সঙ্গে মসৃণ ও প্রতিসম মুক্তা খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। সেদিক দিয়ে এই মুক্তাটি দুর্লভ তো বটেই। তবে সৌন্দর্য, ইতিহাস ও লোকগাথায় কেউ তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। খুঁজে পাওয়ার পর থেকে এটি ইতিহাস তৈরি করতে করতে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে গেছে। তৈরি করে নিয়েছে নিজস্ব গল্প।

কথিত আছে ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পানামা উপকূলে এই মুক্তা পাওয়া যায়। বহুল প্রচলিত এই গল্পের দাবি অনুযায়ী, পানামার স্প্যানিশ উপনিবেশে একজন আফ্রিকান ক্রীতদাস ১৫১৩ সালে এটি আবিষ্কার করেন। এত সুন্দর প্রাকৃতিক মুক্তা খুঁজে দেওয়ার জন্য সেই ক্রীতদাসকে পুরস্কার হিসেবে মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু ইতিহাস বলছে সময় অনুযায়ী সে সময়ে পানামায় কোনো ক্রীতদাস ছিল না। তাহলে হয় এই গল্পটি মিথ্যা, না হয় মুক্তা খুঁজে পাওয়ার যে সময় উল্লেখ করা হচ্ছে সেটি ভুল। যেভাবেই মুক্তাটি খুঁজে পাওয়া হোক না কেন পানামা উপনিবেশের তৎকালীন প্রশাসক ডন পেদ্রো ডি টেমেজের কাছে হস্তান্তর করা হয় তা। স্পেনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এটি। তিনি স্পেনের হবু রাজা দ্বিতীয় ফিলিপকে মুক্তাটি উপহার দেন। ফিলিপ তার হবু স্ত্রী ইংল্যান্ডের প্রথম মেরিকে বিয়ের আগাম উপহার হিসেবে মুক্তাটি উপহার দেন। এ সময়েই লা পেরেগ্রিনা অভিশপ্ত হওয়ার খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করে। তাদের বিয়ের পর মেরি টিউডার পরপর দুটি ফ্যান্টম গর্ভাবস্থার (ফলস প্রেগনেন্সি) শিকার হন। ফ্যান্টম গর্ভাবস্থা হলো সেই জটিল অবস্থা, যেখানে নারী গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও গর্ভধারণের পুরো লক্ষণ দেখা যায় তার শরীরে। সবমিলিয়ে অত্যন্ত জটিল এক শারীরিক পরিস্থিতি তৈরি হয় সেই নারীর। মেরির চূড়ান্ত শারীরিক অসুস্থতায় রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ তাকে ছেড়ে স্পেনে চলে যান। মেরি রয়ে যান ইংল্যান্ডে। স্ত্রীর প্রতি আর কোনো টান অবশিষ্ট ছিল না দ্বিতীয় ফিলিপের। ফিলিপ চলে যাওয়ার ৪ বছর পর প্রথম মেরি ১৫৫৮ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পর লা পেরেগ্রিনা স্প্যানিশ আদালতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে আবার স্পেনে ফিরে আসে মুক্তাটি।

পরের শতাব্দীতে ফিলিপের সৃষ্ট হ্যাপসবার্গ রাজবংশ ১৭০০ সালের মধ্যে নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ গোদ রোগে মারা যান। ১৮০৮ সালে নেপোলিয়নের বড় ভাই জোসেফ বোনাপার্ট স্পেনের রাজা হন। ভিটোরিয়া যুদ্ধে পরাজয়ের আগে ৫ বছর তিনি স্পেন শাসন করেন। যুদ্ধে পরাজিত হলে প্যারিসের ভার ভাইয়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে স্পেন থেকে বের হয়ে যান তিনি। জোসেফ তখন মুক্তাটি সঙ্গে নিতে ভোলেননি। আমেরিকা এসে বসবাস শুরু করেন তিনি। মূলত জোসেফের ভাসমান সময়ে এই মুক্তার নামকরণ করা হয় ‘লা পেরেগ্রিনা’। স্প্যানিশ ভাষায় লা পেরেগ্রিনার অর্থ তীর্থযাত্রী। আমেরিকা এসে মুক্তাটি বিক্রি করে দেন তিনি। স্প্যানিশ রানী মার্গারিটা, ইসাবেলসহ মুক্তাটি একাধিক লোকের কাছে হাতবদল হতে থাকে। ২৫০ বছর ধরে স্প্যানিশ রাজপরিবারের সাক্ষী ছিল এই মুক্তাটি। ১৮০০ সালের প্রথমদিকেও স্প্যানিশ রাজপরিবারের দখলে ছিল সেটি। ১৮১৩ সালে ফরাসিরা স্পেন থেকে বিতাড়িত হলে জোসেফ মুক্তাটি ফ্রান্সে ফিরিয়ে আনেন। লা পেরেগ্রিনা তখন ডি বিউহারনাইসের গায়ে তার শোভা দেখাতে ব্যাকুল। উত্তরাধিকার সূত্রে হাতে হাতে বদল হতে থাকে মুক্তাটি। তৃতীয় নেপোলিয়নের আর্থিক প্রয়োজনে ডিউক অব এবারকর্ন জেমস হ্যামিলটনের কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু হ্যামিলটনের স্ত্রী লুইসাও এলিজাবেথ টেইলরের মতো একই আতঙ্কের শিকার হন। সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বেশ কয়েকবার হারিয়ে ফেলেন এই মহামূল্যবান মুক্তাটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল হারিয়ে ফেলার পর বাকিংহাম প্যালেসের একটি সোফার কুশনে মুক্তাটি খুঁজে পাওয়া যায়। সেই থেকে এর মালিক ছিল হ্যামিলটন পরিবার।

মুক্তা সংস্কৃতি

সময়ের বাঁকে বাঁকে ছুটে চলা লা পেরেগ্রিনার জীবন-কাহিনীর ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে আছে উত্তেজনা, সৌন্দর্য ও ক্ষমতার ইতিহাস। আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে মানব সংস্কৃতিতে মুক্তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার দরজা খুলে দেয় এটি। এলিজাবেথ টেইলরের ছবিগুলোতে প্রাকৃতিক মুক্তার প্রতি বিশেষ আবেগ টের পাওয়া যায়। চল্লিশের দশক থেকে বেড়ে চলে মুক্তার গ্ল্যামার। সে সময়ে মুক্তা হয়ে ওঠে খ্যাতির সমার্থক। ১৮ শতকের শুরুতে ফ্রেঞ্চ ফ্যাশন ডিজাইনে মেয়েদের পোশাকশিল্পের আদ্যোপান্ত বদলে দেওয়ার কারিগর কোকো শানেল, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্ত্রী জ্যাকি কেনেডি ও আমেরিকান অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর মতো নারীরা যখন গহনা হিসেবে মুক্তাকে বেছে নেন তখন পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তো বটেই, সে মুক্তার ঝলক গিয়ে লাগে পৃথিবীর সব প্রান্তে। কিন্তু মুক্তার সাংস্কৃতিক তাৎপর্য আরও অনেক পুরনো। ধারণা করা হয়, ভারত মহাসাগরের উপকূলের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টপূর্ব ৫ হাজার বছর আগে মুক্তা শিকার শুরু হয়। ভারত, শ্রীলঙ্কা, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের কয়েকটি মুক্তাকেন্দ্রিক প্রাচীন বাণিজ্য নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সমুদ্র থেকে জন্ম নেওয়া গ্রিক প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি হয়ে ওঠেন মুক্তার প্রতীক। খ্রিস্টপূর্ব ৬২ অব্দে পম্পেইতে আঁকা একটি ফ্রেস্কোতে (দেয়ালে আঁকা ছবি) দেখা যায় একটি খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি। রোমানরা আবার মুক্তার সম্পর্কে ছিল বিশেষ সচেতন। রোমান ঐতিহাসিক প্লিনি দ্য এল্ডারের বর্ণনা মতে, প্রাচীন রোমে খুব দামি সব জিনিসের দাম নির্ধারণ করা হতো মুক্তা দিয়ে। আরেক ঐতিহাসিক স্যুটোনিয়াসের লেখা থেকে পাওয়া যায় যে, একজন রোমান সমরপ্রধান তার মায়ের মুক্তা বিক্রি করে সেনা অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে ধারণা পাওয়া যায় প্রাকৃতিক মুক্তা তখন এতই দামি বস্তু ছিল যে বিশাল সেনাবাহিনী পরিচালনার অর্থ সংগ্রহ করা গিয়েছিল একটি মাত্র মুক্তা থেকেই।

মুক্তা শুধু বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থনীতি গঠন করেছে তাই-ই নয়, বিশেষ কিছু ধর্মেও রেখে গেছে নিজস্ব ছাপ। রোমান সাম্রাজ্যে একজন মুক্তা ব্যবসায়ী সমাজে সর্বোচ্চ সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন। প্রথমদিকের খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা মুক্তাকে শুধু গহনা হিসেবে দেখতেন না। মুক্তা ছিল মেরি ও যিশুখ্রিস্টের বিশুদ্ধতার প্রতীক। শিল্প ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত মুক্তা নিঃসন্দেহে ইয়োহানেস ভিমিয়ারের আঁকা গার্ল উইদ আ পার্ল। চিত্রশিল্পী ভিমিয়ার তার ছবিতে মুক্তার ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু মুক্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত নাম মিসরীয় রানী ক্লিওপেট্রা। ‘আগে থেকেই ভিনেগার আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চাকরদের ভেতরে কেউ একজন সেই ভিনেগারের পাত্র এনে ক্লিওপেট্রার সামনে রাখলেন। সে ভিনেগার এতই শক্তিশালী যে, মুক্তাকে গলিয়ে ফেলতে পারে। সে মুহূর্তে ক্লিওপেট্রার কানে ছিল অনিন্দ্য সুন্দর প্রাকৃতিক মুক্তার দুল। তিনি একটি কানের দুল খুলে সামনে রাখা ভিনেগারের পাত্রে ফেলে দিলেন। সে মুক্তা গলে যেতে কিছুক্ষণ সময় নিল। মুক্তা মিশে যাওয়া ভিনেগারের সে দ্রবণ পান করেন ক্লিওপেট্রা’ ঠিক এভাবেই প্লিনির বিশ্বকোষে ক্লিওপেট্রার সঙ্গে মুক্তার অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। প্রেমিক অ্যান্টনি পৃথিবীতে কী করতে চলেছেন তা জানার অপার কৌতূহল ছিল ক্লিওপেট্রার। ফলে নিজের তারুণ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত মুক্তা দ্রবীভূত ভিনেগার পান করতেন তিনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া এলিজাবেথ টেইলর অভিনীত ক্লিওপেট্রা সিনেমার নাম ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ঠিক এর ৬ বছর পর লা পেরেগ্রিনা তার হাতে এসে পৌঁছে।

পরবর্তী গন্তব্য

১৯৬৯ সালে হ্যামিলটন পরিবার লন্ডনে লা পেরেগ্রিনাকে নিলামে তোলে। বিয়ের পর স্ত্রীকে দেওয়া রিচার্ড বার্টনের ভালোবাসার উপহার হিসেবে সে মুক্তা শোভা পায় এলিজাবেথ টেইলরের গলায়। মুক্তার অভিশাপ তো সহজে শেষ হওয়ার নয়। জনশ্রুতি আছে, রিচার্ডের সঙ্গে এলিজাবেথের সম্পর্কের অস্থিরতা শুরু হয় এই মুক্তার অভিশাপে। এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ক্রিস্টিতে আবারও নিলামে ওঠানো হয় লা পেরেগ্রিনাকে। মূলত এলিজাবেথের সংগঠন টেইলর এইডস ফাউন্ডেশনের তহবিল সংগ্রহের জন্য এই নিলামের আয়োজন করা হয়। বিশ্ব জুড়ে এইডস রোগীদের সরাসরি সহায়তার লক্ষ্যে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বেনামি এক ক্রেতা ১১.৮ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেন রহস্যঘেরা লা পেরেগ্রিনাকে। সাধারণত দেখা যায়, একটি মাঝারি মূল্যের মুক্তা উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার ঝিনুকের বুক খুঁড়তে হয়। লা পেরেগ্রিনার মতো একটি মুক্তা পেতে হলে সে ক্ষেত্রে অসংখ্য ঝিনুক খুঁড়ে দেখতে হবে সে কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। লা পেরেগ্রিনা আমাদের দেখিয়ে দেয় শুধু অলংকার নয়, মুক্তা হতে পারে সাম্রাজ্যবাদ, ক্ষমতা, সম্পদ, আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা ও সৌন্দর্যের আকর। তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়ানো ঐতিহাসিক যাত্রায় এরপরে কোন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে লা পেরেগ্রিনা?