মধ্যরাতে নেওয়া হাইকোর্টের উদ্যোগে ১০ থেকে ১৫টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাচ্ছে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল। করোনাভাইরাস সংক্রমণে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য আজ রবিবারের মধ্যে এগুলো সেখানে পাঠানো হবে বলে হাইকোর্টকে অবহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। গতকাল শনিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চকে এটি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
দুদিন আগে বগুড়ার ওই হাসপাতালে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সংকটে সাতজন কভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, তাদের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকট রয়েছে। দুই শতাধিক রোগী থাকলেও মাত্র দুটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকায় দুজনের বেশি রোগীকে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গত শুক্রবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এমন প্রতিবেদন দেখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ মোবাইল ফোনে রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে বিষয়টি অবহিত করেন। বিচারপতির মোবাইল ফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি জানান আইনজীবী। বার্তা পেয়ে আদালত এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আদালতকে অবহিত করতে বলেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলে গতকাল শনিবার হাইকোর্টকে অবহিত করেন যে, আজ রবিবারের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বগুড়ার ওই হাসপাতালে ১০ থেকে ১৫টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বগুড়ার ওই হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকটে সাতজন রোগী মারা গেছেন। আটজন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। গত শুক্রবার রাতে বিষয়টি টেলিভিশনে দেখার পর রাত ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে বিচারপতিকে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করে প্রতিকারের আরজি জানাই। হাইকোর্ট অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাতে বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আজ (গতকাল) হাইকোর্টকে জানান, তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রবিবারের (আজ) মধ্যে সেখানে ১০ থেকে ১৫টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাঠানো হবে।