পল্লীবিদ্যুতের বাড়তি বিলে গ্রাহক অতিষ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরসহ উপজেলার গ্রামগুলোতে পল্লীবিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে তোলপাড় চলছে মানুষের মাঝে। আখাউড়া পল্লীবিদ্যুতে কর্মরত অনেকেই বলছেন, সার্ভিস তারে ব্যাপক বিদ্যুৎ টানে যা মিটার রিডিংয়ে দেখা যায় না, তাই বিলের পরিমাণ বেশি আসে।

একদিকে ‘কঠোর লকডাউনে’ সাধারণ মানুষ সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে পল্লীবিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মানুষ।

এদিকে আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুতুড়ে বিল সরবরাহ, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও ডিজিএমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। হয়রানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয়ে অনেক গ্রাহক এসব নিয়ে অভিযোগ করেন না। গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিল নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত বিল কীভাবে সমন্বয় হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তরও পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় করোনাঝুঁকির মধ্যেই তাদের বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় ধরনা দিতে হচ্ছে। পল্লীবিদ্যুৎ অবশ্য বলেছে, জুলাই মাসের যে বিল পাবেন তাতে অতিরিক্ত টাকা সমন্বয় করা থাকবে।

আখাউড়া পৌর শহরের নারায়ণপুর গ্রামের হাজি আবুল কালাম মিয়ার ছেলে তোফায়েল মিয়া বলেন, বসতবাড়িতে একটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ নিই। এই মিটার থেকে শুধু রান্নাঘরে একটি লাইট ধরাই, এতে সর্বোচ্চ ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। প্রতিমাসে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল আসত। কিন্তু গত দুই মাস (মে-জুন) ৮৫০ ও ৮৯৪ টাকা বিল আসছে। মিটারে অতিরিক্ত বিল আসায় আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আফিসে জানালেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিলে জানা যায়, আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস আওতায় প্রায় ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের নামে ভুয়া বিল প্রদানসহ প্রতিমাসে বিল নিয়ে এর আগেও কমবেশি অভিযোগ ছিল। তবে এবারের অভিযোগ আগের তুলনায় আরও ব্যাপক। মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে হাতে পাওয়া বিল নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন গ্রাহকের ঘরে কয়েক মাস বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তাদেরও বিল এসেছে। অনেকের টিভি, ফ্রিজ নেই, তাদের বেলায়ও মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে গেলে বিল নিয়ে ভোগান্তির শিকার একাধিক গ্রাহক জানান, মার্চ, এপ্রিল, মেÑ এ তিন মাসের বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় তিনগুণ করা হয়েছে। এ দুই মাস বাসায় মিটার রিডারও আসেননি।

আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবুল বাশার বলেন, ভুতুড়ে ও ভুয়া বিলের কোনো সুযোগ নেই আমাদের পল্লীবিদ্যুতে। মিটারের রিডিংয়ের বাইরে বিল করা হয় না। হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ আলম বলেন, বিদ্যুতের বিল নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। আখাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।