কোরবানির ‘মূল্যহীন’ পশুর চামড়া নিয়ে চিন্তিত মেয়ররা

প্রতিবছরই ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় সিটি করপোরেশনগুলোকে। এর সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে নতুন সমস্যা। কোরবানির পশুর চামড়ার দাম না পাওয়ায় এখন সেগুলো যত্রতত্র ফেলে রাখে সংশ্লিষ্টরা। পশুর অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের অভিজ্ঞতা থাকলেও চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করছেন মেয়ররা। তাই পশুর চামড়ার ন্যাযমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইকরণ এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে তুলনামূলক পশু কোরবানির সংখ্যা বেশি। গত বছর জনগণ চামড়ার উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় যেখানে সেখানে চামড়া পড়েছিল। এ চামড়া অপসারণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে বেশ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক বলেন, ‘পশুর চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। এসব চামড়া যে যার মতো ফেলে রেখে দেয়। ফলে এসব ব্যবস্থাপনা করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে কষ্টসাধ্য।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘এ বছর কভিড-১৯ মহামারীর কারণে পশুর হাটগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একমুখী চলাচল নিশ্চিত করা হবে।’ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো স্থায়ী পশুর হাট নেই। নগরীর উপকণ্ঠে তিনটি পশুর হাট বসানো হচ্ছে। কভিড-১৯-এর কারণে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা সংখ্যা সীমিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বসাধারণের চলাচল একমুখী করা হবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কোরবানির পশুর হাটে একমুখী চলাচল নিশ্চিত করা হবে। প্রবেশপথ ও বহির্গমনের পথ পৃথক হবে। তাছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেককে হাটে প্রবেশের মুখে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র এবং হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত বেসিন, পানি ও জীবাণুনাশক সাবানের ব্যবস্থা থাকবে।

তবে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো থেকে বিরত থাকার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত মো. ইউসুফ আলী মোল্লা। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কে যাত্রী ও পশু পরিবহনের যানবাহন বেড়ে যায়। তাই মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসালে সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে।’ কিন্তু জায়গা সংকট থাকায় সড়কের পাশেই পশুর হাট বসানোর কথা জানান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পশুর হাট বসানোর জন্য নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। সিটি করপোরেশনের নিকটবর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক, টাঙ্গাইল সড়ক এবং সিলেট মহাসড়কের পাশে ১৫টি স্থানে পশুর হাটের আয়োজন করা হচ্ছে।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর বাইরে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় আমাদের দেশেও কিছু কিছু এলাকায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে পশুর হাট বসানো হবে।’