বরিশালে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ খাবার সংকটে রোগীর স্বজনরা

করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের লকডাউনের চতুর্থ দিন রবিবার বরিশালে সব ধরনের খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ছোটখাটো চায়ের দোকানও বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। গত শুক্রবার বরিশাল সার্কিট হাউসে ‘করোনা প্রতিরোধ কমিটি’র সভায় সরকার ঘোষিত লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে শনিবার থেকে বরিশাল জেলার সব ধরনের খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ ও বিকেল ৫টার পরে ফার্মেসি ব্যতীত দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এতে করে বিপাকে পড়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ ছাড়া বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের রোগীরাও পড়েছেন চরম খাদ্য সংকটে। পাশাপাশি বরিশাল নগরের সদর রোড, হাসপাতাল রোডের বিভিন্ন ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন বিপাকে। রবিবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ। খাবার নিতে অনেকেই এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

জানতে চাইলে আবুল কালাম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, সকালে হাসপাতালে যে নাশতা দেয় তা রোগী খেতে পারে না। একটু সুপ, ময়দা রুটির জন্য এসেছিলাম। কিন্তু সব দোকান বন্ধ। দুপুরে ভাত খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে একজনের ভাত দেয়। বাকি যারা রোগীর সঙ্গে থাকে তাদের বাইরে থেকে কিনে খেতে হয়।

সজল নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, কাল রাতেও ভাত খাইনি। একটু চা-রুটি খাব তা-ও দোকান বন্ধ।

কাঁঠালিয়া থেকে আসা রতন হাওলাদার বলেন, আমার রোগীর সঙ্গে আমিসহ আরও একজন মহিলা আছে। দুজনের জন্য ভাত নিতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও ভাতের হোটেল খোলা নেই। তারা হাসপাতালগুলোর সামনের খাবার হোটেল খোলা রাখার দাবি জানান।

এদিকে গত দুদিন শেবাচিম হাসপাতালের সামনের খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় রোগীর স্বজনদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছেন হাসপাতালের সামনের হোটেল মালিকরা।

হাসপাতালের সামনের নিউ রাঁধুনী, ভোলা, হাওলাদার, তাওহীদ, ভাই-ভাই, নন্দিনী, মিতালী খাবার হোটেল মালিকার ৮০ কেজি চালের খাবার রান্না করে পরিবেশন করেন।

হাওলাদার হোটেলের মালিক অলি হাওলাদার বলেন, ‘অন্যান্য জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা খাবার না পেয়ে খুব অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তাই আমরা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছি। এই হাসপাতালের সামানে যতগুলো ভাতের হোটেল আছে সবাই মিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুসংখ্যক মানুষের মাঝে খাবার পরিবেশন করেছি।’

এদিকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত বরিশালের সব ধরনের খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে থাকা রোগীদের কথা ভেবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানের নির্দেশে হোটেলগুলো সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখার পরামর্শ দেন।