‘মা আমার নামে তারা যে বদনাম উঠিয়েছে তাতে আমি এ পৃথিবীতে থাকতে পারছি না। আমি একটা খারাপ মেয়ে, আমি নাকি খুব খারাপ। আমাকে কেউ বিশ্বাস করে না। কেউ না তুমি ছাড়া’। এই চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া সামিরা। কিশোরীর আত্মহত্যার অভিযোগে জামাল হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে বরগুনা পৌর শহরের খামারবাড়ি এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসার বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সামিরা বরগুনা কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের, খাজুরতলা গ্রামের রফিকের মেয়ে।
এলাকাবাসী জানান, সামিরার মা সুমী বেগম ও তার বাবা রফিকের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। এরপর সামিরার মা সুমী বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামী রাশেদ ও মেয়ে সামিরাকে নিয়ে পৌর শহরের খামারবাড়ি এলাকায় আবুল বাশারের ঘর ভাড়া নেন। এরপর থেকে বাড়ির মালিকের ছেলে জামাল হোসেন কিশোরী সামিরাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি সামিয়া তার মাকে এবং জামালের স্ত্রীকে জানায়। এলাকার অনেকেই বিষয়টি জেনে যায়। জামাল সামিরাকে বাইরে দেখলেই অশ্লীল মন্তব্য ও ইঙ্গিত করত। কিন্তু পাল্টা অপবাদ দেওয়া হতো সামিরাকে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, উত্ত্যক্ত ও অপমান সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে সামিরা। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছে সামিরা। সেখানেও তাকে দেওয়া অপবাদ সহ্য করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে।
সামিরার মা সুমী বেগম বলেন, ‘জামালের উত্ত্যক্ত করার কারণে আমার মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়ের কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায় নাই, এখন আমার মাইয়াডা তো চইলা গেল, এখন নিশ্চই সবাই বিশ্বাস করবে। জামালের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করলে সামিরাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত পর্যন্ত করত জামাল’।
তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে সামিরা ও জামালকে জড়িয়ে প্রতিবেশীরা অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলছিল। আমি রোববার রাতে বাসার মালিক আবুল বাশারকে মোবাইল করে তার ছেলের এই বিষয়গুলো জানাই। পরে আবুল বাশার গ্রামের বাড়ি থেকে এসে জামালকে শাসন করবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু হের আগেই মোর মাইয়াডা মোগো ছাইড়া চইলা গেল’।
সামিরার বান্ধবী জামিয়া বলেন, সামিরা আমার খুব কাছের বান্ধবী ছিল এবং অনেক ভালো ছিল। সকাল ১০টার দিকে সামিরা বাথরুমে ঢুকলে অনেক সময় ধরে দরজা বন্ধ করে রাখায় আমি ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। আমি চিৎকার করলে সবাই এসে ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পাই। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জামালের বাবা আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা একটি সুইসাইড নোট পেয়েছি। এ বিষয়ে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী জামাল নামের একজনকে অভিযুক্ত করলে তাকে পুলিশ আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।