করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই আবারও শুরু হবে টিকার জন্য নিবন্ধন। এবার নিবন্ধনের জন্য বয়সসীমা ৫ বছর কমিয়ে ন্যূনতম ৩৫ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় মডার্না এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব তথ্য জনান।
গণটিকা কার্যক্রমের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সারা দেশে আবারও গণটিকাদান কার্যক্রম চালু হবে। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই আবারও নিবন্ধন শুরু হবে। টিকার জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা ৪০ বছর পর্যন্ত ছিল। এটা ৩৫ বছর পর্যন্ত নামিয়ে আনার একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে যারা নিবন্ধন করেছেন তারা আগে টিকা পাবেন। এভাবেই আমরা ঠিক করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে থাকা কয়েকটি পেশার কর্মীদেরও টিকা পাওয়ার তালিকায় রাখা হচ্ছে। নিবন্ধনের জন্য আইসিটি বিভাগকে বলা হয়েছে। তারা বলেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা এটা করে দেবে। আমরা আশা করছি, আমাদের গণটিকাদান কার্যক্রম খুব দ্রুতই শুরু করব। কিছু কিছু নিবন্ধন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখের মতো নিবন্ধন করে দিয়েছি, তারা এরই মধ্যে টিকা নিয়েছেন।’
সারা দেশে টিকা বিতরণের বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কোভ্যাক্স সুবিধায় পাওয়া মডার্নার টিকা দেওয়া হবে দেশের ১২ সিটি করপোরেশন এলাকায়। আর চীন থেকে কেনা সিনোফার্ম দেওয়া হবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছি আগের মতো এবারও উপজেলা পর্যন্ত ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে যাব। হাতে এখন দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। দেশে কয়েক দিন আগে মডার্নার টিকা এসেছে ২৫ লাখ এবং সিনোফার্মের এসেছে ২০ লাখ, সঙ্গে আগে এসেছে প্রায় ১১ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে বেশকিছু টিকা এখন হাতে রয়েছে।’
ডা. শামসুল হক আরও বলেন, ‘মডার্নার ভ্যাকিসন টেম্পারেচার সেনসিটিভ, মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তাই এ টিকা দেওয়া হবে সিটি করপোরেশন এলাকায়। সিটি করপোরেশন এলাকার সাধারণ মানুষ এই টিকার আওতায় আসবে। আর সিনোফার্মের ভ্যাকসিন রাখা যায় দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাই জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া একই জায়গায় যদি দুই ধরনের টিকাদান কর্মসূচি চলে তাহলে হয়তো কিছুটা সমস্যা তৈরি হতে পারে; সঙ্গে তাপমাত্রার একটা বিষয় তো রয়েছেই। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’