ডিজিটাল কমার্স

নির্দেশিকার সফল বাস্তবায়নে সবাই উপকৃত হবে

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ই-কমার্সের ক্রেতা ও উদ্যোক্তাসহ সব পক্ষ উপকৃত হবে বলে মনে করছেন নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।

গতকাল মঙ্গলবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সদ্য প্রণীত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন মতামত ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘করোনা মহামারীর মধ্যে ই-কমার্স খাতের বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে এ খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২০ এর আলোকে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে তিনটি অধ্যায়ে মোট ৬৯টি ধারা রয়েছে। যার মাধ্যমে এ খাতের ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এই নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ই-কমার্স খাতের ভোক্তা ও উদ্যোক্তা উভয়ে উপকৃত হবেন বলে মন্তব্য করেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার ও বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। গত ৪ জুলাই ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শমি কায়সার বলেন, ই-কমার্সে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যেমন আছে, তেমনি বড় উদ্যোক্তারাও আসছে। এক্ষেত্রে সব ধরনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যাতে সমতা রক্ষা করে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য প্রতিযোগিতা কমিশনের হস্তক্ষেপ দরকার হবে।

বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘এই নির্দেশিকায় একজন ভোক্তার অধিকার কীভাবে সংরক্ষণ করা যাবে তা স্পষ্ট করে বলা আছে। এর ফলে গত ১৫ মাসে করোনার মধ্যে ই-কমার্স খাত যেভাবে বেড়ে উঠেছে সেটা আরও বেশি জোরদার হবে।’

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবার তথ্য প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়, সাধারণ নিয়মাবলি, মার্কেটপ্লেসে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন, পণ্য ডেলিভারি, অগ্রিম পরিশোধিত মূল্য সমন্বয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্সের আওতায় নেশা সামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। জুয়া বা অনলাইন বিটিং বা অনলাইন গেমবলিং-এর আয়োজন বা অংশগ্রহণ করা যাবে না। ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের লটারি’র আয়োজন করতে পারবে না। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসায় পরিচালনা করা যাবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য বিক্রেতা বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ‘স্টকে নেই’ কথাটি স্পষ্টভাবে পণ্যের পাশে লিপিবদ্ধ করতে হবে। নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে স্টকের পরিমাণের পরিবর্তে  ‘অ্যাভেইলেবল ফর ডেলিভারি’ কথাটি লেখা থাকতে হবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভেতরে ‘রেডি টু শিপ’ পর্যায়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি পারসন বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করার মতো অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশের বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস-এর মাধ্যমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে। বিক্রির জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতাকে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে জানাতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি প্রদান করতে হবে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারির সময় যাতে পণ্যের কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে কোনো ধরনের ঘোষিত ডিসকাউন্ট বিক্রি কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার মূল্য পরিশোধের পরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর হতে হবে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।