ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে করোনা রোগীদের লাশ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালকের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেয় মমেক শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় লাশ সময়মতো বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের স্বজনরা। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, গত সোমবার রাতে তাদের ডেকে নিয়ে লাশ পরিবহনের জন্য চাঁদা দাবি করেন ছাত্রলীগ নেতা অনুপম সাহার কয়েক অনুসারী। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গতকাল দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী জরুরি বিভাগের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে যায়। এ সময় শেরপুর, হালুয়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার ৪-৫টি লাশ আটকা পড়ে। পরে বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকের কাছে চাবি ফেরত দেন তারা।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি অনুপম সাহা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালকরা নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার জেরে সাধারণ ছাত্ররা এটি করে থাকতে পারে। বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালককে অবহিত করা হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মমেক হাসপাতালের ডিউটিরত এসআই শফিক জানান, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জাকিউল জানান, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া হালুয়াঘাট ও শেরপুরের দু’জনের লাশ আঙ্গিনায় পড়ে ছিল। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে লাশ দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রলীগ ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে আলোচনা হবে।