‘চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২১’ পাস হওয়ায় তথ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পী সমাজ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সরকারি বাসভবনে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাপত্র হস্তান্তর করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, সহসভাপতি ডিপজল এবং রুবেলসহ চিত্রতারকা রোজিনা, অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, তমা মির্জা, মিষ্টি জান্নাত, ববি প্রমুখ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রণীত এবং চলচ্চিত্রশিল্পীদের বহু প্রতীক্ষিত ‘চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০২১’ গত শনিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য চলচ্চিত্র শিল্পীদের দাবি অনেক পুরনো হলেও আগে কেউ এতে কর্ণপাত করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যখন চলচ্চিত্র শিল্পীরা এই দাবি উত্থাপন করেন তখন তিনি এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আপনারা লক্ষ করেছেন, দেশে যখন লকডাউন চলছে, সেই পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা
দিনরাত কাজ করে আইনটি সংসদে নিয়ে গেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র দেশের সব শিল্পীর জন্য সবসময় উদারপ্রাণ, উদারহস্ত এবং তার কাছে আবেদন না করলেও কোনো বিষয় তার চোখে পড়লে তিনি সবসময় সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন এবং চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণকে একটি স্থায়ী কাঠামো দেওয়ার জন্যই এই ট্রাস্ট।’
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ড. হাছান মাহমুদ স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার সারা দেশে স্বল্পসুদে সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারে ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠন করেছে। তাছাড়া এ আইন প্রণয়নে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সদস্যবৃন্দ, সব সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী জানান, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা কেউ কেউ এই আইনের বিরোধিতা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবও তাকে দিতে হয়েছে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামাতের প্ররোচনা ও ব্যবস্থাপনায় একটি গোষ্ঠী বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু ওয়েব পোর্টালে দেশের বিরুদ্ধে গুজব রটায়। দেশবাসীকে এসব গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাই।’
এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর স্মরণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।