পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধিতে (ওয়াশ) বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হতে পারে। এতে নিশ্চিত হবে সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং হাইজিন। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কভিড-১৯ মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের জন্য পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিনে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক দাতাদের বিনিয়োগ অপরিহার্য। যা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অত্যাবশ্যকীয় ও ভবিষ্যৎ অতিমারী মোকাবিলার প্রস্তুতি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্পগুলোয় যুক্তরাজ্য সরকারের দ্বিপক্ষীয় বৈদেশিক তহবিল ৮০ শতাংশের বেশি কর্তনের পর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।
‘অত্যাবশ্যকীয় : স্বাস্থ্যকর ও সবুজ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে স্যানিটেশন এবং হাইজিনে বিনিয়োগ করুন’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ একটি টেকসই ‘সবুজ’ অর্থনৈতিক প্রণোদনামূলক বিনিয়োগের শর্ত পূরণ করে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রণীত প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ায় ওয়াশ বিনিয়োগের কিছু কেস স্টাডি দিয়ে এর উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ও সময়-সাশ্রয়ী সুবিধা, বিশেষত নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিধার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশ বন্যার কবলে পড়ে। বন্যার পুনর্বাসন ও ওয়াশ সুবিধা ব্যাহত হওয়ায় ব্যয় হয় প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অথচ জলবায়ু সহিষ্ণু সেবার জন্য ৯ কোটি ডলার ব্যয় করলে এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার কারণে লবণাক্ত পানি প্রবেশে নিরাপদ পানির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ হুমকিতে পড়ছে। এতে প্রতি বছর দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের স্বাস্থ্যে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করা সাধারণ বাস্তবতা। মৌলিক পানি পরিষেবা বিশ্বে প্রতি বছর নারীর ৭ কোটি ৭০ লাখ কর্মদিবস বঁাঁচাতে পারে, যা তাদের কাজের সুযোগ ও জীবিকার বিকল্প খুঁজতে সক্ষম করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সময় নারীর অপরিশোধিত শ্রম ওয়াশ খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। কভিড-১৯ এর কারণে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আরও অবনতি হয়েছে। ওয়াশ খাতে পর্যাপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও লিঙ্গ সমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
ওয়াটারএইডের প্রধান নির্বাহী টিম ওয়েনরাইট বলেন, মহামারীর আগের পরিস্থিতি আবার নাও ফিরতে পারে। কভিড-১৯ মোকাবিলা, সম্ভাব্য অতিমারীর প্রস্তুতি এবং সবুজ বা পরিবেশবান্ধব পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক কাজটি করতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে ওয়াটারএইড সরকার, দাতাসংস্থা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ওয়াশ খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ব্যয়ে অর্থনৈতিক সুযোগ ও স্বাস্থ্য সংরক্ষণের সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে। এছাড়া কভিড পরবর্তী প্রণোদনা ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ সহায়ক হতে পারে।