সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চলতি মাসেই জাপান ও ইইউ থেকে ৩৫ লাখ টিকা আসছে

চলতি মাসেই করোনাভাইরাসের ৩৫ লাখ ডোজ টিকা আসবে। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের আওতায় আগামী সপ্তাহে জাপান থেকে ২৫ লাখের মতো টিকা আসতে পারে। এছাড়া এ মাসের শেষের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ১০ লাখ টিকা আসতে পারে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘এ সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহে জাপান কোভ্যাক্সের আওতায় বড়সংখ্যক টিকার চালান পাঠাবে। কোভ্যাক্সের আওতায় বলে এটা বিনামূল্যে পাব। জাপান থেকে আড়াই মিলিয়ন টিকা পেতে পারি।’

ফলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অভাবে যে ১৫ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাচ্ছিলেন না, সেই সংকট কেটে যেতে পারে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট চুক্তি অনুযায়ী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চীন থেকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে তিন মাসে দেড় কোটি সিনোফার্মের কেনা টিকা দেশে আসবে।’ তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাত করোনার টিকা আমদানি করতে আগ্রহী হলেও জননিরাপত্তার কারণে সরকার আপাতত নিজেই তা করবে।

ড. মোমেন বলেন, ‘আমার সঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলাপ হয়েছে। ওরা (জাপান) অন্য দেশকে টিকা দিয়েছে, সেটা আমরা তুলে ধরেছি। তারা বলেছে, আমাদের দেবে তবে সঠিক পরিমাণটা বলেনি। বড় অঙ্কের টিকা জাপান দেবে, আশা করি আড়াই মিলিয়নের মতো হবে। যেকোনো দিন আসবে, আগামী সপ্তাহে জাপান কোভ্যাক্স থেকে টিকা দেবে, এটা আমরা পাব।’

জাপান কোন টিকা দেবে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাপানের কাছ থেকে আমরা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাব। তাদের কাছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আছে। এসব বড় বড় দেশ বহু টিকা সংগ্রহ করেছে বা লাইনআপ করে রেখেছে।’

ইইউ থেকে টিকা আসার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোভ্যাক্সের আন্ডারে তারা (ইইউ) ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) টিকা দেবে। আমাদের জেনেভার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইইউ দেশগুলো থেকে আমরা এক মিলিয়ন টিকা পাব। এটা চলতি মাসের শেষের দিকে পাওয়া যেতে পারে।’

টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সে দুভাবে টিকা সংগ্রহ করা হয়। প্রথমত বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোভ্যাক্সকে টিকা কিনে দেয়। দ্বিতীয়ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোভ্যাক্সকে টিকা কিনতে টাকা দেয়। ওই অর্থ দিয়ে কোভ্যাক্স প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা কিনছে।

এদিকে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোভ্যাক্স যে টিকা সংগ্রহ করছে, তার ৬০ শতাংশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সরবরাহ করার কথা। ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সেরাম বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি কোভ্যাক্সেও টিকা সরবরাহ বন্ধ রেখেছ। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মজুদে থাকা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনে নিচ্ছে কোভ্যাক্স। এখন বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা কোভ্যাক্স সরবরাহ করবে, সেটি কোভ্যাক্সের নিজ তহবিল থেকে যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাপানের দেওয়া এবং কোভ্যাক্সের তহবিল থেকে কেনা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশে একেবারে কাছাকাছি সময়ে পৌঁছবে।