স্বরূপে ফিরেছে দু’দলই। তিকিতাকা ছন্দে আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। আর ইতালি ফিরেছে ডিফেন্সিভ ঘরানার সেরা কাতেনেচ্চিও স্টাইলে। এবারের ইউরোতে দু’দলের খেলায় এ দুই ঘরানাই ছিল অনুপস্থিত। তবে সেমিফাইনালের বড় মঞ্চে ঐতিহ্য আঁকড়ে তাদের খুঁজতে হয়েছে সাফল্য। ৯০ + ৩০ এই ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে পুরোটা জুড়েই ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। তবে টাইব্রেকারে দেখা গেছে বৈপরীত্য। ইতালির টাইব্রেকার ভাগ্য বরাবরই খারাপ। সেটি বড় মঞ্চ হলো তো কথাই নেই। ’৯৪-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যাজ্জিওর সেই পোস্টের ওপর দিয়ে যাওয়া শটের কথা ভুলতে পারবে না ইতালি কোনোদিন। স্পেনের কাছেও ইউরোতে হেরেছে শুটআউটে। তবে মঙ্গলবার রাতে ওয়েম্বলিতে এই ভাগ্য পরীক্ষায় উতরে ৯ বছর পর ফের ইউরোর ফাইনালে আজ্জুরিরা। ১২০ মিনিট ১-১ সমতার পর তিনবারের ইউরোসেরা স্পেনকে টাইব্রেকারে তারা হারিয়েছে ৪-২ ব্যবধানে। মাঠের ফুটবল মন ভরায়নি ঠিক। কিন্তু টানা ৩৩তম ম্যাচ অপরাজিত থাকা রবার্তো মানচিনির দল শিরোপার দাবিটা পাকাপোক্ত করেছে নিজস্ব ঢঙে।
৭১ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণের হিসাবটাই স্পেনের আধিপত্যের সাক্ষী। অবিশ্বাস্য ৯০৮টি পাস; যার ৮৮ শতাংশ সফল, ইতালির লক্ষ্য নির্দেশ করে ১৬টি শট, যার মধ্যে পাঁচটি অন টার্গেট, ছয়টি কর্নার আদায়েই স্পেন এই ম্যাচে ছিল সুন্দরের ফেরিওয়ালা! তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দানি ওলমো। নিয়মিতই অসাধারণ সব বলের জোগান দিয়ে গেছেন। তবে কিয়েল্লিনি-বোনুচ্চির জমাট রক্ষণে সেভাবে চিড় ধরাতে পারেননি স্পেনের অ্যাটাকাররা। স্পেনের বেশ কটি সহজ সুযোগ নষ্ট হওয়ায় প্রথমার্ধ থাকে গোলশূন্য। ৬০ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল পায় ইতালি। মার্কো ভেরাত্তির বাড়ানো বল মার্কাস লাপোর্তা ঠেকিয়ে দিলেও তা পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে বল পাঠান ফেডেরিকো চিয়েসা। পিছিয়ে পড়ার পর ফেরান তোরেসের জায়গায় লুইস এনরিকে মাঠে নামান আলভারো মোরাতাকে। ৮০ মিনিটে তার কৃতিত্বেই স্পেন ম্যাচে ফিরেছে। ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে দ্রুত বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় ইতালি কিপার দোনারুমাকে পরাস্ত করেন। বাকিটা সময় দু’দলের চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
ইতালির হয়ে লোকাতেল্লির নেওয়া প্রথম শট রুখে দেন স্পেন কিপার উনাই সিমন। ওলমোও অবশ্য পারেননি স্পেনকে এগিয়ে নিতে। তার শট বার উঁচিয়ে বাইরে যায়। এরপর ইতালির হয়ে টানা তিন গোল করেন বেলোত্তি, বোনুচ্চি ও বেনারদেস্কি। স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রচেষ্টায় মোরেনো ও আলকানতারা গোল করলেও মোরাতার চতুর্থ শট রুখে দিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন দোনারুমা। ইতালির হয়ে জর্জিনহো বুদ্ধিদীপ্ত শটে স্পেন কিপারকে বোকা বানিয়ে উল্লাসের ঢেউ তোলেন ওয়েম্বলির গ্যালারিতে।
৯ বছর আগে এই স্পেনের কাছেই ফাইনালে ৪-০ গোলে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল ইতালিকে। সেই হারের প্রতিশোধই শুধু নয়, এবার ইতালি চোখ রাখছে ইউরোর শিরোপায়।