ভারতে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে একদিনেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনসহ পদত্যাগ করেছেন ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। পদত্যাগ করাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গঙ্গোয়ার। তবে খুব বেশি সময় খালি থাকছে না এসব মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপদ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়ই একযোগে নতুন ৪৩ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এই ৪৩ জনের মধ্যে ১৫ জন পূর্ণমন্ত্রী বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।
৪৩ জনের মধ্যে আটজনের পদোন্নতি হয়েছে। সাতজন প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন চারজন। এরা হচ্ছেন শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক, সুভাষ সরকার ও জন বার্লা। এ চারজনই প্রতিমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। শান্তনু ঠাকুরের হাত ধরে এবারই প্রথম মতুয়া সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে বেঁকে বসেছিলেন শান্তনু।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদ অনুসারে, করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদি সরকার। পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনও দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। এ অবস্থায় গোটা মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গতকাল আরও পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে; শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোত্রে; মহিলা ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; উপভোক্তাবিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন প্রতিমন্ত্রী দানবে রাওসাহেব পাটিল। আলোচিত নেতাদের মধ্যে আরও পদত্যাগ করেছেন রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া; থাওয়ারচাঁদ গহলৌত; রতনলাল কাটারিয়া; প্রতাপচন্দ্র ষড়ঙ্গী।
ভারতের নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তত একজন মুসলিম, একজন শিখ, একজন খ্রিস্টান ও দুজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনজনকে মন্ত্রী করা হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে। আজ বৃহস্পতিবার মোদি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে চা চক্রে মিলিত হবেন।
২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম মন্ত্রিসভায় রদবদল। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার রদবদলে উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ।