‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন কার্যক্রম

গ্রেপ্তারদের গাদাগাদি করে রাখতে নিষেধ হাইকোর্টের

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে বাইরে বের  হয়ে যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের গাদাগাদি করে আদালতের গারদখানায় রাখা এবং আদালতে হাজির করার বিকল্প দেখতে বলেছে উচ্চ আদালত। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে না নিয়ে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাজিরার নির্দেশনা চেয়ে এক আইনজীবী বিষয়টি গতকাল বুধবার হাইকোর্টের নজরে আনলে এমন অভিমত দেয় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ^াস ও বিপুল বাগমার।

আদালতের নজরে আনা আইনজীবী শুনানিতে বলেন, লকডাউনের গত ছয় দিনে তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের অনেককে প্রিজনভ্যানে গাদাগাদি করে আদালতের গারদখানায় রাখা হচ্ছে। আদালতে হাজির করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আত্মীয়স্বজনরাও আদালতে ভিড় করছেন। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাজিরার ব্যবস্থার নির্দেশনা চান আইনজীবী। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ বিশ^াস বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

হাইকোর্ট এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনতে চায়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ভার্চুয়ালি যুক্ত হলে হাইকোর্ট এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা জানতে চায়। অ্যাটর্নি জেনারেল এ সময় আদালতকে জানান, তিনি এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আদালতকে অবহিত করবেন। হাইকোর্ট  অ্যাটর্নি জেনারেলকে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গেও পরামর্শ করতে বলে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, লকডাউনে বাইরে বের হয়ে যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তাদের অনেককে প্রিজনভ্যানে, আদালতের গারদখানা ও আদালতে হাজির করতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এ বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনেছিলেন ওই আইনজীবী। হাইকোর্টকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।