ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, আর্থিক হিসাব, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারধারণ, ফ্রি ফ্লোট শেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রকাশ করতে পারবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ডিজিটাল সাবমিশন অ্যান্ড ডেসিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম অব ডিএসই’ নামে এই সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেছে ডিএসই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।
ডিএসই জানিয়েছে, সফটওয়্যারটিতে ৫০ টেমপ্লেট বা ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারধারণের তথ্য, পিএসআই, প্রান্তিক আর্থিক হিসাব, বার্ষিক আর্থিক হিসাব, করপোরেট গভর্নেন্স রিপোর্ট, ফ্রি ফ্লোট রিপোর্ট, ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট, ইয়ার ইন্ডিং, কোম্পানির ওয়েবসাইট, ট্রেডিং তারিখ, ট্রেডিং কোড, লিস্টিং ডেট, ডিভিডেন্ড ইত্যাদি বিষয়ে আলাদাভাবে তথ্য প্রকাশ করা যাবে। বর্তমানে ডিএসইর ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের প্রতি মাসের শেষ দিনের শেয়ারধারণের তথ্য প্রকাশ করা হয়; যা প্রকাশ করতে ডিএসই কয়েক দিন সময় নেয়। তবে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে রিয়েল টাইম শেয়ারধারণ দেখা যাবে। এ ছাড়া প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের শেয়ারধারণ, গিফটের শেয়ার ইত্যাদি বিষয়ে সফটওয়্যারে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সফটওয়্যার সময়ের সঙ্গে আপডেট করতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া কেউ যেন মিথ্যাচার বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির লোকজনকে অনেকবার সশরীরে আসতে হয়। এ কারণে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায় নাÑ এমন অভিমত দিয়ে এসইসির কমিশনার বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। এর একটি কারণ এসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির লোকজনকে অনেকবার যেতে হয়। তবে আজকের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই সমস্যা কেটে যাবে বলে আশা করছি। অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারি, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জিয়াউল করিম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আব্দুল লতিফ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
ডিএসইর সিটিও জিয়াউল করিম বলেন, এই সফটওয়্যার এমনভাবে করা হয়েছে যেকোনো সময় পরিবর্তন করা যাবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে। কেউ ভুল তথ্য দিতে পারবে না, সফটওয়্যার সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে।
সফটওয়্যারটি তৈরির পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে ডিএসইর সিটিও বলেন, সফটওয়্যার তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন সায়িদ মাহমুদ জুবায়ের। একটি ভুল তথ্যের কারণে আমি তাকে বরখাস্ত করি। ওই ভুলের পরে আজকের সফটওয়্যারটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। আসলে কিছু ভুল থেকে অনেক সময় ভালো কিছুও হয়; যা আজকের সফটওয়্যার উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ভুলের জন্য শাস্তি পাওয়া সায়িদ মাহমুদ জুবায়ের।