বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি

গাজীপুর-সোনারগাঁয়ে পোশাককর্মীদের সড়ক অবরোধ

গাজীপুরে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লক্ষ্মীপুরা এলাকায় ‘স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড’ নামে ওই পোশাক কারখানার শ্রমিক ও স্টাফরা ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে কারখানা চত্বরে নিয়ে যায় শিল্প ও সদর থানা পুলিশ। এ ছাড়া একই দিন সকালে একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ করে ‘সিনহা অ্যান্ড ওপেক্স’ কারখানার শ্রমিকরা। ওই সময় সড়কে আড়াআড়িভাবে খালি ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। এতে দুই মহাসড়কেই কয়েক শ মালবাহী যান ও প্রাইভেট কার আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড নামে ওই পোশাক কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মধ্যে ৭০০ স্টাফও রয়েছেন। কয়েক বছর ধরেই মাসিক বেতন-ভাতা নিয়ে গড়িমসি করে আসছে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের ৮ মাসের বেতন আটকা পড়ে। এ ছাড়া প্রতি মাসেই বেতনের সময় আন্দোলন করতে হয়। গত ঈদের আগেও আন্দোলন করে বেতন নিতে হয়েছে। গত মে মাসে আন্দোলনের সময় কারখানার মালিক জানান, ১৪ জুন বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু সেদিন না দিয়ে ফের ২২ জুন এরপর ২৮ জুন বেতন দেওয়ার কথা বললেও তা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় গতকাল সকালে বেতনের দাবি জানালে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ ফের টালবাহানা শুরু করে। পরে শ্রমিক ও স্টাফরা কাজ বন্ধ করে সকাল ৯টায় কারখানার ভেতর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার সামনে গাজীপুর-ঢাকা সড়কে অবস্থান নিয়ে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। এতে সড়কের দুই পাশেই যানজটের সৃষ্টি হয়।

কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দিন আহমদ জানান, কারখানার ৬-৭ জন স্টাফের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। গত বুধবার তাদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও করোনার কারণে তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তাই ১৫ জুলাই বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা না মেনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।

গাজীপুর সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে সোনারগাঁয়ে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও অনেকের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়ে গেছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের অবসর সার্ভিসের টাকা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, বার্ষিক ছুটির টাকা, মৃত্যুজনিত এককালীন বীমার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। এসব বিষয় নিয়ে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখায়। শ্রমিকরা বলেন, ‘গতকাল শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা ছিল। আমরা কারখানার প্রধান ফটকে গিয়ে দেখি নোটিসে লেখা রয়েছে এক মাসের বেতন ও একটি বোনাস ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হবে না। তাই আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছি। আমাদের দাবি পূরণ না হলে মহাসড়ক ছাড়ব না।’

ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের পরিচালক তারেক রহমান জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে বিকেলের দিকে অনেকটা চাপ প্রয়োগ করে মহাসড়ক থেকে তাদের সরানো হয়। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় মালবাহী যান, প্রাইভেট কার ও অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ যানজটে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়।