ঢাকার বাইরে করোনা

নমুনা পরীক্ষায় অনীহা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছেই। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি নেই, ফ্লোরে রেখে চলছে চিকিৎসা। এরপরও থেমে নেই রোগী আসা। রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। করোনার উপসর্গ থাকলেও তারা নমুনা পরীক্ষা করাতে চাচ্ছেন না। এতে অন্যরা যেমন সংক্রমিত হচ্ছেন, তেমনি রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেই কেবল হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। বেশিরভাগ করোনা রোগী শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় কিছুই করার থাকছে না, মৃত্যুকে মেনে নিতে হচ্ছে। 

দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত

খুলনা : খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৩২ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত ৬৭ হাজার ৫৩১ জন। মারা গেছে ১ হাজার ৪১৬।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃতদের মধ্যে ৮ জন ষাটোর্ধ্ব, ৫ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ৩ জন চল্লিশোর্ধ্ব ও ২ জন ত্রিশোর্ধ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭০ রোগীসহ মোট ৪৮৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বরিশাল : বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৪ জনের করোনা শনাক্ত ও মারা গেছে ১৫ জন। এ নিয়ে বিভাগে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হলো। মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৬৮।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শনাক্ত হয়েছে ২৩২, নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২২।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ মানুষ নিয়ম মানছে না। আক্রান্ত হলেও তারা নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ফলে অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছে। অক্সিজেন লেভেল একেবারে কমে গেলে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। তখন আমাদের চিকিৎসা কাজে আসছে না। মৃত্যু বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের ২০০ শয্যা করোনা রোগীদের জন্য রাখা হলেও এখন চিকিৎসাধীন ২৮৯ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ২০২ জন। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৪৬ জনের মৃত্যু হলো। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২৫৪ জন।

জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘রোগীদের ৭০-৮০ শতাংশ ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’

রংপুর : রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪ জন আক্রান্ত ও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ হাজার ৮৫৭। আর মোট মারা গেছে ৬১২ জন।

দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দুমকিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন শনাক্ত হলেও করোনায় কোনো মৃত্যু নেই। উপজেলায় এ পর্যন্ত ১২২ জন শনাক্ত ও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন কার্যকরে অভিযান চালালেও মানুষ তা মানছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের সচেতন করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় ৫ জন, বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে আইসিইউতে ২১ জনসহ মোট ৩৭১ জন চিকিৎসাধীন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত দাঁড়াল ৯ হাজার ২৫০ জন।

দোহার-নবাবগঞ্জ : ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দুই উপজেলায় মোট শনাক্ত দাঁড়াল ২ হাজার ৩৪৭ জন।

মোংলা (বাগেরহাট) : গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৩১। এ ছাড়া গত বুধবার মোংলায় করোনায় মারা গেছেন উলুবুনিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবার কল্যাণ সহকারী মেহেরুননেছা (৫৩)।