ঢাকা জেলার সরকারি হাসপাতালের রোগীর সেবা সম্পর্কিত ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে সিভিল সার্জন ছাড়া অন্য কাউকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর ছবি তোলা, ভিডিও করা অথবা সাক্ষাৎকার নিতে সাংবাদিকদের বারণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়।
ঢাকা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্দেশ করে এতে বলা হয়, ‘বিরাজমান কভিড-১৯ মহামারীকালীন পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জন ব্যতীত অন্য কাউকে টিভি চ্যানেল কিংবা কোনো প্রকার প্রিন্ট মিডিয়ার নিকট স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক কর্মকাণ্ড অথবা রোগ ও রোগীদের সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদান বা মন্তব্য না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’
একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের রোগীর ছবি তোলা, ভিডিও করা অথবা সাক্ষাৎকার ধারণ করা থেকে বিরত থাকার নিমিত্তে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা যাচ্ছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
এতে দাবি করা হয়, হাসপাতালে গিয়ে রোগীর ছবি তোলা ও ভিডিও করা রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। তাই এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য-উপাত্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে সরাসরি ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
ডিআরইউর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ : স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক কর্মকান্ড এবং রোগ ও রোগীদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে তথ্য প্রদানে ঢালাওভাবে নিষেধাজ্ঞায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। গতকাল শুক্রবার ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান এক বিবৃতিতে বলেন, ৮ জুলাই ২০২১ ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালে রোগীর সেবা সম্পর্কিত ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকান্ড বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো প্রকার তথ্য প্রদান ও মন্তব্য না দিতে বলা হয়েছে। সিভিল সার্জনের এ নির্দেশনায় ডিআরইউর নেতারা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত।
ডিআরইউর নেতারা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ঢালাওভাবে তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের নির্দেশনা অবাধ তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। নিষেধাজ্ঞাটি অবাধ তথ্য প্রদানের জন্য কেবল অন্তরায় নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ এবং স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় সারা দেশে জনমনে এক আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সম্মুখসারীর যোদ্ধা হিসেবে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের বিদ্যমান সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার নানা বিষয় তুলে ধরে সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করছেন। অন্যদিকে সাধারণ জনগণকে সচেতন ও সাবধান করে তুলতে ভূমিকা রাখছেন। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, অপকর্ম ও ব্যর্থতা ঢাকতেই তথ্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতারা। তারা অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।