দেশে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা যুগান্তকারী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ভাইরোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা এবং দেশকে সংক্রামক রোগমুক্ত করার কাজে নেতৃত্বদান করেছেন। বর্তমানে তিনি করোনা মহামারী মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এখন দেশে কভিড-১৯ মহামারীতে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যু, করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেছেন প্রবীণ এই ভাইরোলজিস্ট। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : দেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে গোটা বিশে^র জন্যই একটা বড় হুমকি হিসেবে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এদিকে বিগত সপ্তাহগুলোতে সারা দেশে সংক্রমণ শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান এই মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?  

ডা. নজরুল ইসলাম : অনেকে এটাকে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ বলছে হয়তো। কিন্তু আসলে আমরা এখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের চূড়ার দিকে যাচ্ছি দ্বিতীয় ঢেউটিই এখনো শেষ হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। গত বছর ঈদের সময় রাজধানী আর নানা শহরের বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে গেল, জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ল। তার কিছুদিন পরই আসলে ভারতে এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেখা গেল। সে সময় সরকার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিল। বিশেষ বিবেচনা ছাড়া পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত বন্ধ হলো। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি চলছিল। অর্থাৎ যারা পাসপোর্টধারী নয় তাদের যাতায়াত বন্ধ করতে সরকার সক্ষম হলো না। এর মধ্য দিয়েই কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেল। অবশ্য এভাবে ডেল্টার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াটা হয়তো খানিকটা বিলম্বিত হলো। এই প্রক্রিয়ায় যে ছবিটা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো ঈদযাত্রার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকা ও বড় শহরগুলো থেকে গ্রামে গ্রামে ছড়াল আর সীমান্ত দিয়ে দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ঢুকল। যে কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আমরা প্রথমবারের মতো গণসংক্রমণ দেখতে পেলাম। সে-সময় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হাসপাতালগুলোতে সিট স্বল্পতা এবং অক্সিজেন ও আইসিইউর সেবার ঘাটতির খবর আসছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই কিন্তু অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতেও ডেল্টার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পেলাম আমরা। এভাবে এটা রাজধানী ঢাকাতেও ছড়িয়ে পড়ল। তখন ঢাকার চারপাশের সাতটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলো। অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমণের ঢাকা বিচ্ছিন্ন হলো। কিন্তু এভাবে সারা দেশে গণসংক্রণ রোধ করা যায়নি। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর খবর আপনারা দেখছেন যে, সেসব জায়গায় সংক্রমণের হার ৬০-৭০ ভাগও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতেও সংক্রমণের হার মারাত্মক হারেই বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি যে ভয়ংকর সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারী মোকাবিলায় প্রায় সোয়া বছর সময় অতিক্রম করছি আমরা। এই সময়ে করোনার চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি কতটুকু হলো বলে মনে করছেন? রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসাপাতালগুলো এখন কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে? অক্সিজেন-ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ সেবাসহ করোনার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করেন কি?   

ডা. নজরুল ইসলাম : করোনায় সংক্রমিতদের চিকিৎসাসেবায় কাক্সিক্ষত উন্নতি হয়নি। আমরা মনে করতে পারি, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা কদিন আগেও এ বিষয়ে খবর নিলাম। জানতে পারলাম যে, ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টি জেলাতেই এখনো আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। এই প্রশ্ন করায় স্বাস্থ্যের ডিজি অফিসের মুখপাত্র বললেন বললেই কি সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউ’র ব্যবস্থা করা যায়? তিনি আরও বললেন আইসিইউ স্থাপন করতে সময় লাগবে, ডাক্তার রিক্রুট করতে হবে এবং সেই ডাক্তারদের দুই বছর থেকে পাঁচ বছর ধরে ট্রেনিং দিতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই বিষয়টিতে মর্মাহত হয়েছি। আমি নিজে খোঁজ নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করলাম। আমরা তো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিস্টদের পড়িয়েছি। তারা পাশও করেছে। এখন অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিসএমএমইউর আইসিইউর প্রধান অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি জানালেন, স্যার, এমবিবিএস-এর পর অ্যানেসথেসিয়ায় ডিপ্লোমা পাস করা আমাদের অন্তত ৪০০ চিকিৎসক বসে আছেন। আর এ বিষয়ে এএমডি-এফসিপিএস করা আরও জনা পঞ্চাশেক চিকিৎসক রয়েছেন। এই চিকিৎসকরা এখনো সরকারি চাকরিই পাননি। অথচ স্বাস্থ্যের ডিজি অফিস বলছে, চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে তাদের নাকি পাঁচ বছর ধরে ট্রেনিং দিতে হবে! অর্থাৎ মহামারীর বিদ্যমান বাস্তবতাতেও স্বাস্থ্য বিভাগের বিবৃতি আর এসব বাস্তবিক তথ্যের মধ্যে অনেক ফাঁকফোকর আছে। ফলে বুঝতেই পারছেন যে, করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থায় কাজ কতটা এগিয়েছে।

দেশ রূপান্তর : সব জেলায় আইসিইউ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কিছুদিন পর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল শীতকালে করোনার সম্ভাব্য প্রকোপ বৃদ্ধি মোকাবিলায় জেলা হাসপাতালগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট, হাই-ফ্লো নোজাল ক্যানোলা ও ভেন্টিলেটর সরবরাহতে জোর দেবেন তারা। সে বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে? 

ডা. নজরুল ইসলাম : পত্রপত্রিকার খবর থেকে আমরা তো তেমন কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আপনাদের উচিত এসব স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজিকে জিজ্ঞেস করা। আমি এই বিষয় আর কী বলব! একটা বিষয় খেয়াল করা দরকার। আমরা এসব নিয়ে কথা বলছি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর। একটা বৈশি^ক মহামারীর মধ্যে। তাহলে এই প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক যে, বিগত পঞ্চাশ বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী কাজ করল আর দেশের স্বাস্থ্যসেবা কতদূর এগোলো!

দেশ রূপান্তর : আপনি দেশের স্বাস্থ্যসেবার হালচালের কথা বললেন। এদিকে, বিগত কয়েক দিনে জানা গেল ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৭ জেলাতেই এখন উচ্চ সংক্রমণ চলছে। এই অবস্থাতেও যদি করোনা চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকে তাহলে মহামারীর এই সংকটজনক পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে?

ডা. নজরুল ইসলাম : যে প্রশ্ন করলেন এর উত্তর দেওয়া কঠিন। এভাবে চলতে থাকলে অনেক মানুষ মারা যাবে। বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। এখন বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন- ভেন্টিলেটর-আইসিইউ সংকটের যে সব খবর আমরা পাচ্ছি তা-ই হবে। আর উপায় কি!

দেশ রূপান্তর : স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির অন্তরায়টা আসলে কোথায়? সরকার কেন এই পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না বা বারবার হোঁচট খাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়?

ডা. নজরুল ইসলাম : একটা বিষয় এখানে বলা দরকার, সেটা হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু মহামারীর এই সংকট মোকাবিলায় অনেক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই তো প্রতিপালিত হচ্ছে না! প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এখন চিন্তা করবেন যে, গত জুনে সব জেলায় আইসিইউ স্থাপনে নির্দেশ দিলাম কিন্তু এখনো ৩৫টি জেলায় আইসিইউ হলো না কেন! খেয়াল করেন, ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলাতেও প্রধানমন্ত্রীকেই সিদ্ধান্ত দিতে হলো। সে সময় কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে বিদেশফেরতরা বিমানবন্দরে চারদিন কোয়ারেন্টাইন করবে তারপর বাকি সময় বাসায় থাকবে। এমন উদ্ভট সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। তার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘোষণা দিলেন যে বিমানবন্দরেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেই সেবার পরিস্থিতি মোকাবিলা করা গেছে। আমি রাজনীতির লোক না তবু একটা কথা বলি। রাজনৈতিক নেতাদেরই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ঘোষণা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। দেশেই করোনার ভ্যাকসিন তৈরির প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা যুগান্তকারী। এজন্য দেশে অচল পড়ে থাকা ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না যে আমাদের দেশেই একসময় ভ্যাকসিন তৈরি হতো। আমাদের দেশে যে ভ্যাকসিন ল্যাবরেটরি ছিল সেটা বিশ্বমানের। সেখানে স্মল পক্সের ভ্যাকসিন তৈরি করা হতো। আমরা নেপালে এই ভ্যাকসিন রপ্তানি করতাম। আমি তখন ওই ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরি সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলাম। ১৯৮০ সালে স্মল পক্স ইরাডিকেটের হওয়ার পর ল্যাবরেটরি বন্ধ হয়ে গেল। এখন আমরা যাদের বানানো করোনার টিকা কিনছি, ভারতের সেই সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তখন একটা প্রতিনিধিদল এলো। তারা বলল তোমাদের তো এখন কাজ নেই, এই পেশাদারদের আমাদের কাছে পাঠাও, আমরা প্রশিক্ষণ দিই তারা অন্য ভ্যাকসিন বানাক। আমাদের নীতিনির্ধারকরা কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন না তারা ভাবলেন না যে, আমাদের এই ইনস্টিটিউটেই আমরা নিজেরাই অন্যান্য টিকা বানাতে পারি!

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারী মোকাবিলায় দফায় দফায় লকডাউনসহ নানা কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সবকিছুর পরও করোনা থেকে পরিত্রাণের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে গণ-টিকাকরণের ওপরই জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গণ-টিকাকরণের বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ কী?  

ডা. নজরুল ইসলাম : সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়ে অনেক চেষ্টা করে এখন গণ-টিকাকরণের বিষয়ে সফলতার দিকে হাঁটছে। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। জনসংখ্যার আশি ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া বলতে আসলে কী বোঝায়। এর অর্থ হলো১৮ বছরের বেশি যাদের বয়স, জনসংখ্যার সেই অংশের ৮০ ভাগকে টিকা দিতে হবে। কারণ ১৮ বছরের কমবয়সীদের জন্য কোনো টিকা বিজ্ঞানীরা তৈরি করতে পারেননি। ফলে আমাদের সবচেয়ে আদরের ধন শিশুদের সুরক্ষা যাতে নিশ্চিত করা যায় সেটা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। এজন্য ঘরে-বাইরে সর্বত্র যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় সবাইকে আরও মনোযোগী হতে হবে। রাস্তায় রাস্তায় যদি মানুষ মাস্ক না পরেই ঘোরাফেরা করে, আর শিশুরা যদি এসব সংস্পর্শে আসে তাহলে বাচ্চারা কতটা ঝুঁকিতে পড়বে ভাবুন।

দেশ রূপান্তর : পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই সময়মতো চাহিদা অনুসারে টিকা জোগাড় করা নিয়ে সংকটে আছে। এই বাস্তবতায় বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি করা টিকাগুলোর মধ্যে একটাকে প্রথম ডোজ আরেকটিকে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ যথাযথ ট্রায়ালের সাপেক্ষে ইতিমধ্যেই ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ হিসেবে অভিহিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আমাদের দেশেও এখন বিভিন্ন দেশের কয়েকটি টিকা আমদানি করা হচ্ছে। আমরা কি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ পদ্ধতি অনুসরণ করব? 

ডা. নজরুল ইসলাম : বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ পদ্ধতিতে ক্ষতি তো নেই-ই বরং বেশি উপকার পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত বিদেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করছি। তবে, আমার জানামতে এখনো দেশে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ টিকা দেওয়ার কোনো ট্রায়াল চালানো হয়নি। অবশ্য অনেক সময় এসব ক্ষেত্রে আগে ট্রায়াল দিয়ে পরে ফলাফলসহ বিষয়টা ঘোষণা করা হয়। আমি নিজে এ বিষয়ে খোঁজ নিইনি। তবে, এক্ষেত্রে লোকাল ট্রায়ালের অবশ্যই দরকার আছে।