তালেবান প্রশ্নে কৌশলী প্রতিবেশীরা

দুই দশক পর আফগানিস্তানে ফের তালেবানদের উত্থানে এশিয়ার শক্তিশালী দেশগুলোতে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনাবাহিনী বের হয়ে যাওয়ার পর দেশটির ক্ষমতা যদি তালেবানদের হাতে চলে যায়, তাহলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেমন কৌশল নিতে হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। আফগানিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এক্ষেত্রে রাশিয়ার সহায়তা চায়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আফগানিস্তানে রাশিয়ার ভূমিকা দেখতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আফগানিস্তান প্রশ্নে নতুন কৌশল ঠিক করতে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। সম্প্রতি জয়শঙ্কর গিয়েছিলেন মস্কোতে। সেখানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে তার আফগানিস্তান প্রশ্নে বৈঠক হয়। রাশিয়ার প্রতি জয়শঙ্করের চাওয়া এমন যে, মস্কো যেন বৈধতার সঙ্গেই আফগানিস্তানের সহিংসতা নিরসনে এগিয়ে আসে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার গত শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ গত সপ্তাহে গোপনে ভারত সফর করেছিলেন। এই আবদুল্লাহই আফগান প্রশাসন ও তালেবানদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। বলা হচ্ছে, আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভারত সফর করেছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, সে বিষয়েই ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে আবদুল্লাহর।

গত শুক্রবার তালেবানরা দাবি করে যে, তারা আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকার দখল নিয়েছে। ওই দাবির পরই মূলত জয়শঙ্কর নড়েচড়ে বসেন। ভারতের সঙ্গে তালেবানদের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পর্যায়ে কিছু যোগাযোগ রয়েছে। যদিও ভারত সরকারিভাবে বিষয়টি স্বীকার করে না। আফগানিস্তানে ভারতের বিনিয়োগ ও প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন নিশ্চয়তা চাইছেন জয়শঙ্কর। তাকে বলাও হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা চলে গেলেও ভারতের কোনো প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কিন্তু আইএসআই সংযুক্ত তালেবানদের ওপর ভরসা করতে পারছে না ভারত। এক সংবাদ সম্মেলনে জয়শঙ্কর বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে কিছু মানুষ থাকে যাদের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত ৩০ বছর ধরে আফগানিস্তানে আমরা যে পরিবেশ লক্ষ করেছি, তাতে আমাদের এখনকার চাওয়া হলো দেশটিতে সহিংসতা কমানো। আফগানিস্তানের জন্য সহিংসতা কোনো সমাধান হতে পারে না।’