পুঁজিবাজার ঠিক রাখতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের অবণ্টিত বা অ-দাবিকৃত লভ্যাংশ নিয়ে যে তহবিল গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে, তা বিলম্বিত হতে পারে। ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড বা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে টাকা স্থানান্তরের জন্য সময় চেয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। গত ৭ জুলাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সময় চেয়েছে সংগঠনটি।
আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্রোকার হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে তাদের কাছে থাকা অ-দাবিকৃত লভ্যাংশ, অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিওর রিফান্ড ইত্যাদি পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় এসইসি। ওই তহবিলের একটি ব্যাংক হিসাবে বিনিয়োগকারীদের অবণ্টিত ও অ-দাবিকৃত লভ্যাংশের অর্থ পাঠাতে গত ৬ জুলাই নির্দেশনা জারি করে এসইসি।
তবে করোনা পরিস্থিতি ও প্রক্রিয়াগত কারণে বিএপিএলসি এই টাকা জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চেয়েছে। তবে কতদিন সময় প্রয়োজন তা উল্লেখ করেনি। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই ধরনের অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার/সিকিউরিটি হোল্ডার অথবা তাদের নমিনিকে ৩০ দিনের আগাম নোটিস দিতে হবে। এছাড়া আইপিওর সাবস্ক্রিপশনের টাকা রিটার্নের ক্ষেত্রে বহু বছরের পুরনো নথিপত্র ঘাঁটতে হবে। কিন্তু করোনাভাইরাস অতিমারীর কারণে প্রায় সব অফিস সীমিত পরিসরে চলছে বলে এই কাজগুলো ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজটি করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড) রুল, ২০২১ নামে বিধিমালা জারি করেছে। ইতিমধ্যে তহবিলটির বোর্ড অব গভর্নেন্স গঠনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে। মূলত লভ্যাংশ ঘোষণা বা অনুমোদনের দিন বা রেকর্ড তারিখের পরবর্তী তিন বছর ইস্যুয়ার কোম্পানিতে পড়ে থাকা নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইট শেয়ার ও পাবলিক সাবস্ক্রিপশনে পড়ে থাকা অর্থ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে জমা হবে।
বাজারের তারল্য প্রবাহ এবং গভীরতা বাড়াতে তহবিলটি কাজ করবে। তহবিলটির আকার চূড়ান্ত না হলেও শেয়ার ও নগদ অর্থ মিলিয়ে এর আকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যার মধ্যে নগদ হিসাবে সর্বোচ্চ দুই হাজার কোটি টাকা হতে পারে। বিধিমালায় এ তহবিলের গঠন, উদ্দেশ্য ও ব্যবহার নিয়ে যে নির্দেশনা রয়েছে, তাতে করে তহবিলে থাকা নগদ অর্থের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ দিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ কেনাবেচা করা যাবে। অবশ্য তহবিলে থাকা শেয়ার বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ধার দেওয়া কিংবা তাদের কাছ থেকে ধার নেওয়া যাবে।