শতবর্ষী গাছ রক্ষায় বদ্ধপরিকর সিডিএ-পরিবেশ অধিদপ্তর

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে জটিলতার পাশাপাশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিআরবি এলাকার শতবর্ষী গাছ কেটে এই প্রকল্পের অধীনে বহুতল ভবন নির্মাণ করার যে পরিকল্পনা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের; তার অনুমতি দেবে না চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। যদিও রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক বলেছেন, শিগগিরই এই হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক) মো. আহসান জাবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ১০০ সিটের একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রেলওয়ের সঙ্গে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের চুক্তি হয়েছে। তবে বর্তমান বিদ্যমান শতবর্ষী গাছগুলো কেটে এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে কি না, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘শিগগিরই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে। তখন দেখা যাবে। যেটা ভালো হয়, সেটাই করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনোভাবেই সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করতে পারবে না। সেটা আমাদের মাস্টারপ্ল্যানবিরোধী হয়ে যাবে। যদিও এখনো এই হাসপাতালের নির্মাণের অনুমতির জন্য সিডিএতে আবেদন করা হয়নি। করলেও কোনোভাবেই অনুমোদন পাবে না। তা ছাড়া সিআরবি আমাদের হেরিটেজ এরিয়া। এখানে কোনোভাবেই হাসপাতাল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। হাসপাতাল নির্মিত হলে এখানে হাজার হাজার লোকজন চিকিৎসা নিতে আসবে, তখন পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে।’

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নূরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করা অযৌক্তিক। এটা তো রিজার্ভ এরিয়া। সেখানে অনেকগুলো শতবর্ষী গাছ আছে। আশা করি অনুমোদনও পাবে না। সিডিএর অনুমোদনের পর পরিবেশের কাছে আসবে। পরিবেশের বিরূপ প্রভাবের সমীক্ষা (ইআইই) রিপোর্টের পর পরে সিদ্ধান্ত হবে। কোনো মতেই নগরীতে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।’

রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ছয় একর জায়গার ওপর ৫০০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে। সিআরবি এলাকায় বিদ্যমান রেলওয়ের হাসপাতাল (বক্ষব্যাধি) সংশ্লিষ্ট ও দক্ষিণ অংশে ছয় একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হবে এই হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। এই অংশে রেলওয়ের কয়েকটি কোয়ার্টারও রয়েছে। এই পুরো জায়গাজুড়ে রয়েছে নানা প্রজাতির শতবর্ষী অনেকগুলো গাছ। এ স্থানেই বিশেষায়িত হাসপাতাল  ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণে গত বছরের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

তারা আরও বলেন, ৫০ বছর মেয়াদের এই চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রেলওয়ের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য রেলওয়ের ছয় একর জমি দেওয়া হবে। তবে এই জায়গা দেওয়া হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে ২.৪২ একর এবং ২য় ধাপে বাকি ৩.৫৮ একর জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে এই প্রতিষ্ঠানকে। আর ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তিন বছরের মধ্যে ২৫০ শয্যা এবং পরবর্তী দুই বছরে বাকি ২৫০ শয্যার নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। তবে ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনে ১০ বছর সময় দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে রেলওয়ে পাবে এককালীন পাঁচ কোটি টাকা। আর জমির ফি বাবদ পাওয়া যাবে প্রতি বছর দেড় কোটি টাকা। চিকিৎসা সুবিধা হিসেবে হাসপাতালের নিয়মিত খরচের ২০ শতাংশ কমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।