আমাদের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে অনেক কিছু প্রভাবিত হয়েছে করোনায়। বাদ যায়নি স্ট্রিট আর্টও। বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা দেয়ালের গায়ে এঁকে দিচ্ছেন ভারাক্রান্ত এ সময়ের স্মারক। শিল্পীর আঁকা ম্যুরালে ঢেকে যাচ্ছে দেয়াল। করোনাকালে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের উল্লেখযোগ্য কিছু ম্যুরাল নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডের ভেঙে ফেলা এক পরিত্যক্ত ভবনের দেয়ালে উজ্জ্বল রঙে আঁকা হয়েছে একটি ম্যুরাল। শিল্পীর তুলিতে সেখানে ফুটে উঠেছে দুটি পাখিরূপী স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসকে ঠেকিয়ে রাখছেন। থাই এ শিল্পী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর্মীদের লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সৃষ্টি করেছেন তার শিল্পকর্ম। ঘরে বসে থমকে থাকা সময়ে যে যার মতো করে শ্রদ্ধা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন। শিল্পীর তুলি সেখানে থমকে থাকেনি। সময়কে ধরে রাখতে, মানুষকে সচেতন করতে সৃষ্টি করে চলেছেন নিজেদের একের পর এক শিল্পকর্ম।
৩৭ বছর বয়সী থাই এ স্ট্রিট আর্টিস্টের নাম মুয়ে বন। দ্রুত হাতে আঁকেন সময়। নিজেকে পরিচয় দেন সময়ের অনুবাদক হিসেবে। তিনি মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চান ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের প্রচেষ্টা শেষ হয়ে যায়নি, আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু করার আছে।
তিনি জানান, ‘আমি মানুষকে পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিতে চাই। ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করতে মানুষের এ মুহূর্তে বাড়িতে থাকা দরকার। মানুষ যে বাড়িতে থেকেও একে অপরকে সাহায্য করতে পারে সে ইতিহাস রেকর্ড করছি আমি। এ মুহূর্তে আমার ভূমিকা সময়ের পরিক্রমা লিপিবদ্ধ করার। সে ভূমিকায় নিজের সেরাটুকু দিতে চাই।’
সামাজিক জীব হিসেবে একজন শিল্পীর মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে। সে সামাজিক দায়িত্ব ভুলে যাননি তিনি। ফলে তার শিল্পকর্ম সবসময় সামাজিক বার্তা দেয়। এ ব্যাপারে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন তিনি। যে মানুষদের সচেতন করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি, তারা খুবই সাধারণ কেউ। তাদের কেউ ছবি দেখার জন্য গ্যালারিতে ঘুরে বেড়াবে না। খুব সুউচ্চ শিল্পবোধ নিয়ে তারা জীবন যাপন করে না। আটপৌরে জীবনযাত্রার সে মানুষদের কাছে পৌঁছানোর কাজটিই সফলভাবে করতে পেরেছেন তিনি। কথাগুলো নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে করতেই উদাস হয়ে ছবি আঁকার কাজে সামান্য বিরতি নিলেন তিনি। জানালেন, ‘শিল্প ও সাধারণ মানুষের ভেতরে একটি বিশাল ব্যবধান রয়েছে। সেই ব্যবধানটিই আমি উৎরে যেতে চেয়েছি। আমার ছবিগুলো এমন স্থানে আঁকি যেখান থেকে গাড়িতে বসে থাকা লোকেরাও মুহূর্তের জন্য হলেও চোখ ফেলতে বাধ্য।’
শিল্পীর কাজ যত সাধারণ হবে, শিল্পের পরিমাপ ততই অনন্য সাধারণ হয়ে উঠবে। সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনী নামাতেই যেন রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে এঁকে চলেছেন এই শিল্পী। সাধারণ হতে হতে অসাধারণ হয়ে উঠেছেন তিনি। থাইল্যান্ডের ঘরোয়া দেয়াল ছাপিয়ে তিনি পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং সম্প্রতি ফিলিস্তিনে প্রদর্শিত হয়েছে তার এ শিল্পকর্ম। গতানুগতিক ধারার বাইরের শিল্পী তিনি। তাই সরাসরি সেই শিল্প তুলে ধরার সুযোগ মেলে না। অবশ্য দেশ-দেশান্তরের দর্শক ফটোগ্রাফির মাধ্যমেই তার চিন্তাধারাকে লুফে নিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিট শিল্পী আলফা ইগো। ইন্দোনেশিয়ায় কভিড সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আলফা ইগো ও স্থানীয় স্ট্রিট আর্টিস্টদের অ্যাসোসিয়েশন সেরিকাট ম্যুরাল সুরাবায়ার সঙ্গে মিলে একটি দল গঠন করেন। শিল্পীরা একত্রিত হয়ে দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে দেয় কভিডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপি। একসঙ্গে মিলে তারা কভিডের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে এগিয়ে আসেন। সাধারণ মানুষকে কিছু বোঝানো বেশ কঠিন বিষয়। আবার ক্রমাগত তাদের সমালোচনা করাও খুব কাজের কিছু নয়। ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়ায় তারা দেয়ালে দেয়ালে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিয়ে চলেছেন। আলফা ইগো জানান, ‘মানো অথবা না মানো। এর বাইরে আমাদের বলার কিছু নেই। স্বাস্থ্যবিধি খুব স্পষ্ট কিন্তু সেগুলো মানার ব্যাপারে মানুষের দ্বিধা রয়েছে। সে দ্বিধা দূর করাই আমাদের লক্ষ্য।’ শিল্পীদের এই দলটি সরকারের সমালোচনাও করছে তাদের দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ রঙের মাধ্যমে কঠিন এ সময়ের বার্তা খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র
করোনা মহামারী প্রায় পুরো বিশ্বকে লকডাউনে ফেলতে বাধ্য করেছে। বরাবরের মতোই সংকটের চূড়ান্ত মুহূর্তে মানুষ তার সেরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বাড়ি থাকতে বাধ্য হওয়া মানুষ আত্ম-বিচ্ছিন্নতায় মগ্ন হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বেছে নিয়েছে রং-তুলি। শিল্পীরা ভিন্ন উপায়ে তাদের শিল্পসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে রাস্তায় রাস্তায় বহু ম্যুরাল ও গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। উজ্জ্বল হলুদ রঙে আঁকা একটি ম্যুরাল স্থানীয় শিল্পী করি ম্যাটির ‘হোপ ডিলার’ সিরিজের অংশ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি মাস্ক ও সাদা কোট পরে আছেন। একদিকে সাদা কোটের একটি অংশ খুলে তিনি ‘হোপ’ বা আশা শব্দটি প্রকাশ করছেন। পাশেই লেখা আছে ‘পরিকল্পনা বাতিল করুন, মানবতা নয়।’ শিল্পীরা শহরজুড়ে এমন বার্তাও লিখে দিচ্ছেন যেখানে লেখা থাকছে ‘যদি আপনি এটি পড়ে থাকেন, তবে বাড়ি যান।’ আশ্বাস ও সমর্থনের ছড়াছড়ি ছাড়াও সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও হাত ধোয়ার বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে সমসাময়িক রাজনীতিও। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জীবাণুনাশক ইঞ্জেকশনের কথা বলার পর যে বিতর্কের মুখে পড়েন সেটিও উঠে এসেছে এই দেয়ালচিত্রগুলোতে।
ব্রাজিল
কভিডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের তালিকায় আছে ব্রাজিল। ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর অদূরদর্শী চিন্তাভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে পুরো ব্রাজিলকে। শুরু থেকেই তিনি সামাজিক দূরত্ব মানার ব্যাপারে দেশবাসী ও তার দলের মানুষদের নিরুৎসাহিত করেন। এমনকি যখন করোনার একের পর এক ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ব্রাজিল তখনো তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। হু হু করে বাড়ছিল কভিড সংক্রমণের হার। কভিড পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ‘তাতে আমার কী? এখানে আমাকে কী করতে বলেন?’ বলসোনারোর সেই প্রশ্নের জবাবে স্ট্রিস্ট আর্টিস্ট আইরা ওক্রেস্পো ‘করোনার বিরুদ্ধে বলসোনারোর মুখোশ’ এঁকে ফেলেন ব্রাজিলের এক দেয়ালে। শিল্পকর্মটিতে জোকারের বেশে ছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট বলসোনারো। সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের নির্মম সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্ট্রিট আর্ট গণমানুষের ভাষায় কথা বলে উঠছে। সে ভাষা কখনো তীক্ষè। কখনো খেলাচ্ছলে, কখনো কখনো খুবই রূঢ় ভাষায়।
১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু দেখিয়েছিল উত্তেজনা ও সামাজিক পরিবর্তন অনিবার্যভাবে শিল্পের ওপর প্রভাব ফেলে। টাইম ম্যাগাজিন সম্প্রতি দেখিয়েছে, মহামারী সময়ের অপরিহার্য অংশ এবং পরবর্তী শিল্প আন্দোলনকে মহামারী কীভাবে প্রভাবিত করে। ঠিক একইভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বলসোনারোকে জোকারের মুখোশে দেখা ব্রাজিলে যে কারও জন্য স্বাভাবিক। নিজের খেয়ালখুশি তিনি চাপিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের ওপরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া মাস্ক ম্যান্ডেট ও সামাজিক দূরত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হওয়ার জন্য তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন। নিয়ন্ত্রণে আসা পরিস্থিতি এর পরে মুঠো ফসকে গেছে। প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়েছে ব্রাজিল। এ সমস্ত সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ফতোয়া দেওয়া বলসোনারোকে জোকার বলা হলে খুব ভুল কিছু বলা হয় না।
কানাডা
স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্তিহীনভাবে করোনার এ সময়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তা দেখে অটোয়ার ডোম লাপোর্তে বসে থাকতে পারেননি। শ্রদ্ধা প্রদর্শনের খাতিরে তিনি অটোয়ার এক রাস্তায় এঁকে ফেলেন ম্যুরাল। সৃষ্টিশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা ম্যুরালিস্ট ও ইলাস্ট্রেটর ডোম লাপোর্তের। তার মাও একজন শিল্পী। কিশোর বয়স থেকে দেয়াল আঁকার হাতেখড়ি হয় তার। পরিবারের সবাই আঁকাআঁকির সঙ্গে জড়িত থাকায় শিল্পী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে ভীষণ সুবিধা হয়েছে। বিশ্বের জনপ্রিয় স্ট্রিট আর্টিস্টদের সম্পর্কে পড়াশোনা করেছেন, তাদের কাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। যদিও নিজে কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত সে পড়াশোনার ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ ঘটেনি তার। অটোয়ার অলিতে গলিতে তিনি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করতে ম্যুরাল এঁকেছেন। শুরুর সেই বছরগুলোতে তিনি দেখেছেন কীভাবে নিজস্ব শৈলী বিকাশ করতে হয়। শিল্পীর যে নিজস্ব চিন্তাভাবনা কীভাবে গড়ে তুলতে হয় সেই কাজটিই করেছেন তিনি।
করোনার এ সময়কে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। হাসপাতালের সামনেই তাই এঁকেছেন বিশাল ম্যুরাল। দেখাতে চেয়েছেন, করোনার এ সময়ে আমাদের জীবনযাত্রায় মিশে ছিল মাস্ক।
অটোয়ার রাস্তায় যেন বিশাল ক্যানভাস হিসেবে দেয়ালে দেয়ালে তিনি একক প্রদর্শনী করছেন। তিনি জানান, ‘যে রং যেখানে উপযুক্ত মনে হয় সেটি সেখানে ব্যবহার করি। এতে শিল্পীর নিজস্ব বোধে মিলেমশে একটি সুন্দর শিল্পকর্ম তৈরি হয়। ম্যুরালের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা। সেক্ষেত্রে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার মানুষের চোখকে বেশি আটকে রাখে। মুঠোফোনের এ যুগে কয়েক সেকেন্ডের বেশি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা খুব কঠিন। তাই আমি মানুষকে থামানোর চেষ্টা করি। তারা যেন আমার ছবি নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে সে চেষ্টা করি। এখানে মূল ভূমিকা পালন করে রং।’
রুয়ান্ডা
রুয়ান্ডার রাস্তায় রাস্তায় এক দল শিল্পী উজ্জ্বল রং দিয়ে দেয়ালে আঁকছেন সচেতনতার প্রতিচ্ছবি। সে চিত্র কাউকে সচেতন করবেই এই নিশ্চয়তা না দিলেও উজ্জ্বল রঙের সমাবেশ যে কাউকে সে ছবির দিকে তাকাতে বাধ্য করবে, ভাবতে বাধ্য করবে। রোলাল্ড কুরেমা নামে একটি দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রুয়ান্ডার শহরজুড়ে। মোট ১৪ জন শিল্পী আছেন দলটিতে। সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে তারা বেছে নিচ্ছেন উজ্জ্বল সব রং। ক্যানভাস হিসেবে তো থাকছেই শহরের দেয়াল।
রোজ সকালে রং স্প্রে ক্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দলের একজন ম্যুরাল শিল্পী জিমি রোলান্ড। হুট করে মাথায় চলে আসে কোনো ভাবনা আর তা বাস্তবায়নে যদি তখন রং সঙ্গে না থাকে, শিল্পীর জন্য কী বিচ্ছিরি ব্যাপার হবে সেটি! জিমি জানান, ‘কভিড-১৯-এর এ সময়ে আমি দেখিয়েছি আমাদের কাছে প্রতিরোধের একটিই উপায় আছে। সেটি হলো মাস্ক পরা। এরপরে আসবে নিজের কাছে স্বচ্ছ ও শক্ত থাকা।’
আসলেই কি মানুষের মনোযোগ কাড়তে পারছেন এই শিল্পীরা? স্থানীয় বাসিন্দা মোইসে নিযোগকিয়া বলেন, ‘চিত্রকর্মটি আমাকে মাস্ক পরার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটি এতই রঙিন যে আপনি তাকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আপনাকে ফিরে তাকাতেই হবে। দেখার পর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়বে আপনার মাস্ক সঙ্গে আছে তো?’
রোলাল্ড কুরেমা রুয়ান্ডা সরকার এবং ইসরায়েল ও জার্মান দূতাবাসের সমন্বিত অর্থায়নে পরিচালিত হয়। রোলাল্ড কুরেমার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জুডিথ কাইনে বলেন, ‘সমাজে আমাদের কাজগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একসঙ্গে কাজ করা। কভিড-১৯ একটি সম্মিলিত যুদ্ধ। এখানে মানুষকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি, শিল্পীর কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে দিতে এবং সমাজে সৃজনশীল মানুষের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দর্শকের কাছে পৌঁছানো জরুরি। মানুষের আচরণ এত সহজে বদলাবে না। তাদের সে ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে।’