দুবাইয়ের তরুণ লেখক বাশায়ের আরিফ শিশুদের জন্য ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অফ দুবাই’স স্ট্রিট ক্যাটস’ নামে একটি বই লিখেছেন। প্রচণ্ড বিড়ালভীতি থাকার পরও লেখার জন্য তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটি অসুস্থ বিড়ালের কাছ থেকে। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
দুবাইয়ের বিড়াল
বাশায়ের আরিফ আমিরাতের একজন তরুণী। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের জন্য তিনি ‘দ্য সিক্রেট লাইফ অফ দুবাই’স স্ট্রিট ক্যাটস’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটির গল্প ছয় থেকে নয় বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের নিয়ে। তাদের বন্ধুত্ব, সাহসিকতা, প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা নিয়ে লেখা হয়েছে গল্পটি। দুই বিড়ালের সঙ্গে নতুন এক বিড়ালের পরিচয় নিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। বাশায়ের আরিফ ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া করে ফ্রিল্যান্স কপিরাইটার, প্রুফরিডার ও এডিটর হিসেবে কাজ করছেন। বইটির ইলাস্ট্রেশন করেছেন ইলিস বয়েল। তিনি একজন মাল্টিডিসিপ্লিনারি ডিজাইনার ও ইলাস্ট্রেটর।
বাশায়ের আরিফ জানান, ‘আমার বইয়ের প্রধান চরিত্র একজন শক্তিশালী নারী। তিনি অভিভাবক ও শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দেন। আমি আশা করি এই বার্তাগুলো আমাদের আশপাশের পরিবেশকে বুঝতে সাহায্য করবে।’ ইতিমধ্যে বাশায়েরের লেখা বইটি পাঠকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
বাসায় এলো একটি বিড়াল
আমিরাতের রাস্তায় বিড়ালের দেখা পাওয়া নিত্য ঘটনা। কিন্তু বিড়াল ভীষণ ভয় পেতেন বাশায়ের। যে রাস্তায় বিড়াল থাকত সেই রাস্তা বদলে অন্যদিক দিয়ে যেতেন তিনি। অথচ এই ভয় কাটিয়ে বিড়াল নিয়ে লিখে ফেলেন বাচ্চাদের জন্য একটি বই। বাশায়ের বলেন, ‘একটি গল্প লেখার পেছনে অনেক গল্প থাকে। আমার গল্পটাও ঠিক তাই। আমি কখনো বিড়াল পছন্দ করতাম না। অথচ বিড়াল খুব নিরীহ একটি প্রাণী। তবু বিড়াল দেখলেই আমার ভয় লাগত। যে আমি রাস্তায় হাঁটার সময় কোনো বিড়াল সামনে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা বদলে ফেলতাম সেই আমার জীবন বদলে দিয়েছিল অ্যারাবিয়ান মাও জাতের এক বিড়াল। সে পুরোপুরি আমার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল। ২০১৫ সালের এক রাতের ঘটনা। আমরা জুমেইরাতে থাকতাম। একটি বিড়াল এসে আমার বাবা-মায়ের ঘরের বারান্দার পেছনে আশ্রয় নিয়েছিল। তাকে দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছিল। কিন্তু সে দেখতে দারুণ ছিল। কী মিষ্টি চেহারা। আমার মনে হতো ওর একটু যতেœর প্রয়োজন। রাতের বেলা একটি বাটিতে করে কিছু খাবার আর পানি রেখে আসতাম ওর সামনে। পাঁচ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ওর খাওয়া দেখতাম। আবার দৌড়ে ভেতরে এসে জানালা দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাস হয়ে গেল। বিড়ালটিও নিয়মিত খাবার পাওয়ার আশায় আমাদের বাড়িতে আসত। একদিন আমি বিড়ালটিকে দিনের বেলা দেখলাম। ওর শরীরে অনেক বড় একটি জখম ছিল। দেখে এত খারাপ লাগল। ঘটনাটি আমার বোনকে জানালাম। প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটা পেট ক্যারিয়ার চেয়ে নিয়ে এলাম। তাতে করে দুজনে মিলে বিড়ালটিকে পশু চিকিৎসকের (ভেট) কাছে নিয়ে গেলাম।
ভেটের কাছে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো রাস্তা বিড়ালটি চিৎকার করে ডাকছিল। ওর আসলে কোনো ধারণা ছিল না ওকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি। ভেটের কাছে যাওয়ার পর পেট ক্যারিয়ার থেকে বের করার পর চিৎকারের মাত্রা বেড়ে গেল। ওর চোখে ছিল প্রচণ্ড ভয়। সেই ভয়ার্ত চোখের দৃষ্টি আমি কখনো ভুলব না। ভেট ওকে কোলে নিয়ে খুব ধীরে ধীরে আদর করতে শুরু করলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিড়ালটি একদম শান্ত হয়ে গেল। ও হয়তো বুঝতে পেরেছিল ও এখানে একদম নিরাপদ।
চিকিৎসক জানালেন বিড়ালটি মাইরিয়াদ (সুৎরধফ) নামে এক ধরনের অসুখে ভুগছে। জিহ্বার পুরনো ক্ষত থেকে অসুখটি হয়। এর কারণে বিড়াল নিজের যতœ নিতে বা ভালোভাবে খাবার খেতে পারে না। এর অর্থ যদি ওর সঠিক যতœ না নেওয়া হয় তবে ওকে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রথমবার বিড়াল দেখে আমি ভয় না পেয়ে কষ্ট পেলাম। বিড়ালদেরও এমন অসুখ হয় আমার জানা ছিল না। মনেপ্রাণে দোয়া করতে লাগলাম যেন ওকে বাঁচানো যায়। আর বাঁচাতে হলে সবার আগে ওর জন্য একটা ঘর প্রয়োজন। আমি জানতাম এটা চ্যালেঞ্জিং হবে। একে তো স্বাস্থ্য সমস্যা, সঙ্গে বিড়ালটির গায়ের রং কালো। বেশিরভাগ মানুষ কালো বিড়াল পছন্দ করে না, সঙ্গেও রাখতে চায় না।
আমি আর আমার বোন ওর নাম দিলাম সালিম। অসুস্থ শরীরে দেখাশোনার প্রয়োজন ছিল সালিমের। বাইরে অন্য বিড়াল ওর ওপর হামলা করতে পারে এ জন্য ও খুব বেশি বাইরে যেত না। কিছু কারণে আমাদের বাসায় পোষা প্রাণী রাখা যেত না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সালিমের জন্য একটা বাসা খুঁজতে হবে। দুবাইয়ের একটি বিড়ালের গ্রুপে তখন সালিমের জন্য বাসা প্রয়োজন লিখে পোস্ট দিই।
বিড়াল নিয়ে পোস্ট দেওয়ার সময় আমি অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই যেগুলো আগে জানতাম না। প্রথমত, আমি জানতাম না যে রাস্তার বিড়ালরা ফরমাল ব্রিডের হয় আর ওদের অ্যারাবিয়ান মাও নামে ডাকা হয়। জানতাম না যে ওরা এখানকারই স্থানীয় বিড়াল। অনেকেই এ তথ্যটি আগে জানত না। আমি বুঝতে পারলাম অ্যারাবিয়ান মাও আর অন্যান্য স্থানীয় বিড়ালদের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। যেমন- আমরা বাজপাখি আর উটকে অনেক গুরুত্ব দিই। কিন্তু কখনো বিড়ালও যে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হতে পারে তা ভাবিনি। অথচ আমাদের বর্তমান জীবনে বিড়ালের উপস্থিতি অনেক বেশি। দুবাইয়ের রাস্তায় বিড়াল পাশ কাটিয়ে রাস্তা পার হওয়া এক রকম অসম্ভব।
বিড়ালের গ্রুপেই জানলাম এই মাওগুলো কতটা সুন্দর। তাদের ব্যক্তিত্ব অসাধারণ। মানুষের সঙ্গে অল্প সময়েই তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এমনকি বাচ্চাদের সঙ্গেও তাদের বেশ সখ্য আছে। ফ্লাফি ব্রিডের হয় বলে লোকে কেবল স্কটিশ অথবা পার্শিয়ান বিড়াল পালতে চায়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি সঠিকভাবে যতœ নিই আর সঙ্গ দিই, তাহলে অ্যারাবিয়ান মাও-ও ভালো সঙ্গী আর পোষ্য হয়ে উঠতে পারে। আমার বাসায় রাখতে পারিনি বলে দাদির কাছে কিছুদিন রাখতে হয়েছিল সালিমকে। আমি রোজ ওকে দেখতে যেতাম। রোজ ব্লগ আর নানা আর্টিকেল পড়তাম। অ্যারাবিয়ান মাও সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম। শুরু করলাম গ্রুপে পোস্ট দেওয়া।
গ্রুপে পোস্ট দিতে দিতে এক সময় আমি সালিমের জন্য খুব ভালো একটি ঘর পেয়ে যাই। প্রায় এক বছর পর একজন ডাচ নারী ওকে দত্তক নিয়েছিলেন। সালিমকে নিয়ে তিনি হল্যান্ড চলে যান। কোনোভাবে তিনি সালিমের খোঁজ পেয়েছিলেন। খুব আগ্রহ নিয়ে তিনি সালিমকে দত্তক নিতে চেয়েছেন। তিনি নিজেও একজন পশুপ্রেমী, তার অনেকগুলো বিড়াল আছে। সব খোঁজখবর নিয়ে কাগজপত্রে সাইন করে আমি সালিমকে তার হাতে তুলে দিই। তিনি সালিমের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করে ওকে নিয়ে যান। সালিম যাওয়ার পর আমি প্রায়ই ওর কথা ভাবতাম। মনে হতো, সালিম কীভাবে আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। সালিম সত্যিই সৌভাগ্যবান ছিল। কিন্তু আরও অসংখ্য অ্যারাবিয়ান মাও আছে যারা সালিমের মতো ভাগ্যবান নয়। সালিমকে উদ্ধার করার আগে অ্যারাবিয়ান মাওকে আমি শুধু রাস্তার বিড়াল বলে জানতাম। ওদের আসল পরিচয় জানার পর ভাবলাম এই ভাবনার পরিবর্তন দরকার। যেহেতু এক দুজনকে বলে সেটা সম্ভব নয়, তখনই বই লেখার কথা চিন্তায় আসে। যে বইটি শুধু বিড়ালপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং বিড়াল ভালোবাসেন না এমন ব্যক্তি, আমার মতো যারা বিড়াল ভয় পেত তারাও পড়বেন। বইটি পড়ে হলেও অন্তত তাদের মনোভাবে পরিবর্তন আসতে পারে।’ বাশায়েরের বই সরাসরি সালিমকে নিয়ে লেখা নয়। আরব দেশে অ্যারাবিয়ান মাও নিয়ে সবার ধারণা বদলানোর জন্যও গল্প সাজানো হয়েছে।
ইলাস্ট্রেশন
বই লেখার আগে অনেক কিছু নিয়ে ভেবেছেন বাশায়ের। বইয়ের ছবি, কী ধরনের হবে সবকিছু নিয়ে ভেবেই তিনি বই লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। ‘বই লেখার সময় আমি সব সময় ইলাস্ট্রেশনের কথা চিন্তা করতাম। তখনই বইটিকে গ্রাফিক নভেল অথবা অ্যানিমেটেড সিরিজের পোর্ট্রইেট হিসেবে ভাবতাম। বইটি যদি আবারও অ্যানিমেটেড সিরিজ হিসেবে বের হয়, তবে সেটিও আমার দারুণ লাগবে। ব্যাকড্রপে দুবাইয়ের ছবি রাখায় পাঠকরাও পড়ার সময় পরিচিত অনেক এলাকা পাবেন। আর যারা সরাসরি কখনো দুবাই দেখেনি তারাও বইটি পড়লে দুবাইকে চোখের সামনে দেখতে পাবে।’
দুবাইয়ের নতুন ছবি
বই লেখার ক্ষেত্রে বাশায়ের যে শুধু বিড়ালের দিকেই লক্ষ রেখেছেন তা নয়, দুবাইয়ের আসল চিত্রও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বাশায়ের বলেন, ‘ঝলমলে ও সাধারণ এবং ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক দুবাইয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। বইয়ের মধ্যে শহরের এই মাত্রাটা তুলে ধরা জরুরি ছিল। দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবনগুলো আধুনিকতাকে যেমন চিহ্নিত করে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী দুবাইতে বিড়ালরা মসজিদে যাওয়া-আসা করে, মসজিদের আজান শোনা যায়। বইয়ের মলাটেও আবায়া ও কান্দুরার সঙ্গে প্যান্ট ও স্নিকারস আছে। ঝলমলে ছাড়াও সড়কের দূষণ, ব্যস্ত দোকান আর ক্যাফেটেরিয়াসহ আবার দুবাইয়ের অপরিষ্কার দিকও কিন্তু আছে। আমাদের কিন্তু একদম আদিম কিছু পাড়াও আছে। সেসব চিত্রই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বইয়ে।’
লেখার শুরু
সম্প্রতি প্রকাশ পেলেও এই বই নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভাবছিলেন বাশায়ের। যেনতেন কাজ তিনি পাঠকদের উপহার দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমি বইটি লেখা শুরু করেছিলাম ২০১৫ সালে। সালিমকে উদ্ধার করার পর আমি নিজেই বেশ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম। সেই সঙ্গে সচেতন হয়েছিলাম অ্যারাবিয়ান মাও নিয়ে। বই লেখা শেষ হয়েছিল আগেই, কিন্তু আমি ভালো গল্প খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে কিছু সময়ের জন্য বইটি সেভাবেই রেখে দিই। যা লিখেছিলাম তাতে আমি খুব বোর হয়ে গিয়েছিলাম। ২০১৯ সালে আমি আবারও পুরনো লেখাটা পড়লাম। তখন গল্পের নতুন একটি দিক ভাবনায় এলো। বুঝলাম এটা এমন একটি গল্প যেটি দুনিয়াবাসীর সঙ্গে শেয়ার করা যায়। কিছু পরিবর্তন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিলাম। ড্রিমওয়ার্ক কালেকটিভের কাছে বইয়ের মূল কপিটি জমা দিলাম। তারা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছে। এ জন্য আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তাদের সঙ্গে আমি চুক্তি করি। অসাধারণ একটি দলের সঙ্গে আমার কাজ শুরু হয়। আমার বইয়ের সম্পাদক অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্বের মানুষ। তিনি চেষ্টা করেছেন যত দ্রুত সম্ভব বইটি প্রকাশ করা যায় সে বিষয়ে। অবশেষে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর মধ্যেই আমরা বইটির পা-ুলিপি অনুযায়ী ছবি আঁকা শুরু করি।’
বিড়ালপ্রেমীদের নতুন দুনিয়া
‘আমি যখন প্রথম সালিমকে উদ্ধার করেছিলাম, ওর জন্য একটা ঘর খুঁজে পেতে আমি একদম মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব। বিড়ালদের গ্রুপে যুক্ত হওয়া আমার জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো ব্যাপার ছিল। দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিড়াল সম্প্রদায়ে আমি পরিচিত হলাম। বেশ ভালো কিছু উদ্যোগের সঙ্গে আমি পরিচিত হলাম। আমাদের শহরসহ আমিরাতের অন্যান্য জায়গায় কুকুর ও বিড়ালদের জীবন বাঁচায় উদ্ধারকারী ও আশ্রয় দেওয়ার এমন বেশ কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রাস্তার প্রাণীদের বাঁচানোর জন্য সব সময় কাজ করে এমন সহানুভূতিশীল কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গেও আমার দেখা হয়েছে। আমি এমন মানুষকেও চিনেছি যিনি একাই অন্তত ২০টি বিড়ালকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে রেখেছেন। সালিমকেও কয়েকটি বাড়িতে রেখে সুস্থ করতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন ওকে আজীবনের জন্য রেখে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের বাড়িতেও আরও বিড়াল ছিল। আমি তাদের কষ্ট আর বাড়াতে চাইনি। যারা আমাকে সালিমের জন্য সহায়তা করেছেন তাদের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।’
ভালোবাসার উৎস
বাশায়ের বিশ্বাস করেন তিনি যেমন ভয় পার করে বিড়ালকে ভালোবাসছেন তেমনি আরও অনেকেই আছেন। তিনি বলেন, ‘এই শহরে বিড়াল ভালোবাসেন এমন অনেক মানুষ আছেন। আমার ধারণা এটি হয় প্রাকৃতিক কারণেই। এমনিতে যারা বিড়াল ভালোবাসেন তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের আদর করেন, আবার অ্যারাবিয়ান মাও নিজেরাও এতটা আদুরে যে ওদের যে কেউ আদর করতে চাইবে। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, একবার যদি এই বিড়ালগুলোকে আপন ভাবা হয়, তারাও আপন হতে সময় নেবে না। বিড়ালের প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসা দেখলে সত্যিই ভালো লাগে।’