দেশ রূপান্তর পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের সেই ড্রেজার বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেলে ড্রেজারের সকল সরজ্ঞমাদি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর খনন কাজে বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করে আসছিলেন।
এ নিয়ে দেশরূপান্তরের অনলাইন ও পিন্ট ভার্সনে সংবাদ প্রচার করে। এরপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সোমবার বিকেলে ড্রেজার মেশিনটি বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনজুর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম মিঞা বলেন, হঠাৎ করে সোমবার বিকেলে ড্রেজার মেশিনটি সরিয়ে নেওয় হয়। এ সময় পুকুরটির পূর্ব পাশের দিকে ভাঙন দেখা দিলে পুকুরটিতে পানি দিয়ে ভরে দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, দেশ রূপান্তর পত্রিকার নিউজটি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। এর পরপরই মেশিনটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। একজন ম্যজিস্ট্রেট সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) কর্মসূচির ৪র্থ পর্যায়ে ১৩,৬৯,২০৫ টাকার মধ্যে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পাড় মেরামত ও পুকুর খনন কাজের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে পাড় সংস্কার করার কথা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম পুকুরটিতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটতে শুরু করেন।
এতে করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় ও ঐ বিদ্যালয় বিভিন্ন স্থাপনা হুমকিতে পড়ে। একই অর্থ বছরে বাসাইল উপজেলা খেলার মাঠ ভরাট প্রকল্প দেখিয়ে দুই লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে অন্তত সাত লক্ষ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়।
পূর্বে বরাদ্দকৃত অর্থের ১০ ভাগ কাজও হয়নি। পূর্বের বরাদ্দকৃত অর্থ বৈধ করতেই পুকুর খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কেটে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাঠ ভরাট শুরু করেছিলেন।