ছুটিতে বাড়ি গেলেই আটকা পড়বেন চাকরিজীবীরা

ঈদের আগে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য সব খুলে দিয়েছে সরকার। ঈদুল আজহা উদযাপন এবং ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য বিধিনিষেধও শিথিল করেছে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলেই বিপদে পড়বেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। কারণ ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়ে যাবে। ওই বিধিনিষেধের সময় কলকারখানা বন্ধ থাকলেও সরকারি অফিস চলবে ভার্চুয়ালি। তাছাড়া সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থলে অবস্থান করতেও বলা হয়েছে। দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে আগামী ২১ জুলাই। মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ২০২১ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২০, ২১ ও ২২ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটি। ২২ জুলাই বৃহস্পতিবার। ২৩ জুলাই শুক্রবার ও ২৪ জুলাই শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদ আর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট ছুটি ৫ দিন। ২৪ জুলাই পর্যন্ত ছুটি থাকলেও ২৩ জুলাই থেকেই শুরু হয়ে যাবে কঠোর বিধিনিষেধ। তাই ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি যাবেন, তাদের কর্মস্থলে ফিরতে অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।

দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ কোরবানি ঈদ উপলক্ষে শিথিল করা হলেও ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর লকডাউন শুরু হবে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। যেখানে সড়ক রেল, নৌপথে গণপরিবহন ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও ব্যাংক, বীমা বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। তাছাড়া রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি সচল রাখার কথাও বলা হয়েছে বিধিনিষেধের আদেশে।

এই অবস্থায় প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যেতে পারলেও ফেরার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। কারণ ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরতে হলে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবারেই রওনা দিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকার চায় কর্মস্থলে রেখেই ঈদ করাতে। এ কারণেই কর্মস্থলে থাকার কথা বলা হয়েছে। কর্মস্থলের বাইরে গেলেই সংক্রমণের ভয় থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কথা চিন্তা করে বিধিনিষেধ ছাড় দেওয়া হয়েছে।