অনেক বছর আগের কথা, স্কটল্যান্ডের স্কি আইল্যান্ডের একটি গ্রামের নদী পারাপারের একমাত্র উপায় ছিল ফেরি। পাহাড়ি নদীটির ভাটিতে ছিল কাঠ আর কংক্রিটের তৈরি একটি ফেরিঘাট। তবে ২৫ বছর আগে নদীটির ওপর একটি সেতু হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। এরপর গত দুই যুগের বেশি সময় ঘাটটি ছিল পুরোপুরি অব্যবহৃত। সম্প্রতি সেই ঘাটটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয় কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্মীরা সেখানেই গিয়েই থমকে যান। ঘাটের একপাশে রেলিংয়ের ওপর বাসা বেঁধেছে গাংচিল! তাতে তিনটে ছানা চিঁ চিঁ করছে।
ওই দৃশ্যে দেখেই সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা যোগাযোগ করেন স্থানীয় ফেরিঘাটটির মালিক ক্যালেডোনিয়ান মেরিটাইম অ্যাসেট লিমিটেডের সঙ্গে। কী করবেন চাওয়া হয় তার নির্দেশনা। পরে কর্র্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সেটি ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কি আইল্যান্ডের একটি গ্রামে গত সপ্তাহে পুরনো একটি ফেরিঘাট ভাঙতে যান শ্রমিকরা। ওই নদীতে ১৯৯৫ সালে একটি সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ফেরিঘাটটি বন্ধ ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে সেটি ভাঙতে গিয়েই তারা থমকে যান। ঘাটের একপাশে বাসা বেঁধেছে এক গাংচিল দম্পতি। তিনটি ছানাও হয়েছে তাদের। সেপ্টেম্বর মাসের আগে তাদের বাসা ছেড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এজন্য ঘাটটির মালিক ক্যালেডোনিয়ান মেরিটাইম অ্যাসেট লিমিটেড সেটির ভাঙার কাজ সেপ্টেম্বর মাস অবধি স্থগিত করেছে।
ক্যালেডোনিয়ান মেরিটাইমসের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ব্রায়ান সিডনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতিই ছিল। ঘাটটি আমরা সরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গাংচিলের তিনটি ছোট্ট বাচ্চা থাকায় আমাদের কাজ আপাতত স্থগিত করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো অধিকার নেই, আমরা পারি না তিনটি সদ্যজাত পাখির ছানাকে বাসা থেকে উচ্ছেদ করে তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে। এখন তাদের বাসা ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে সব ধরনের পাখির বাসা সংরক্ষণের বিশেষ আইন আছে। সেই আইন ভঙ্গের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে জেল-জরিমানা হতে পারে।