জ্বরে অবহেলা নয়

করোনা মহামারীর সময়ে জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে প্রথমে কভিড-১৯ নিয়ে ভাবতে হবে। বিশেষত হালকা সর্দিজ্বর, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট হলে সাবধান হবেন। অন্য কোনো রোগ প্রমাণ হওয়ার আগে পর্যন্ত ধরে নিতে হবে এটি কভিড-১৯। যেহেতু এই রোগের কোনো নির্ধারিত ওষুধ আবিষ্কার হয়নি সেজন্য উপসর্গের চিকিৎসা ঘরে বসেই শুরু করতে হয়। অনেক হাসপাতালের আউটডোর কার্যক্রম সীমিত। বাইরে বেরুনো ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকের চেম্বারও ক্ষেত্রবিশেষে সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। সে জন্য ঘরে বসেই রোগীরা চিকিৎসা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত টেলি-মেডিসিনের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

সাবধানতা : উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি আলাদা (আইসোলেশন) থাকবেন। এমনকি বাসায় অন্যদের সামনে আসতে হলে সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করতে হবে। আক্রান্ত হলে উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, রক্তের কিছু আনুষঙ্গিক পরীক্ষা এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা তদারকি করতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ জটিল রোগ রয়েছে তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। করোনা চিকিৎসায় অবহেলা করা যাবে না।

অনেক সময় করোনা টেস্ট নেগেটিভ হয়। অর্থাৎ করোনা হলেও টেস্টের রিপোর্ট  নেগেটিভ আসে। এমনটা হতে পারে। তবে মৃদু মাত্রার কভিডের কিছু ওষুধ ঘরে বসেই শুরু করে দিতে তেমন সমস্যা নেই। তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দিনে ৩ থেকে ৪ বার সেবন করা যেতে পারে। মাথাব্যথা, গা ব্যথা হলেও ট্যাবলেট গ্রহণ করুন। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিসটামিন জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। এক্ষেত্রে ফেক্সোফেনাডিন, ডেস-লরাটাডিন, সিট্রিজিন ইত্যাদি যে কোনো একটি ওষুধ খেতে পারেন। দিনে একবার। ভিটামিন সি, জিঙ্ক এগুলো ভাইরাস নির্মূলের কোনো ওষুধ নয়। তবে খেলে কোনো ক্ষতিও নেই। বরং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে রোগপ্রতিরোধে এসবের অনেক ভূমিকা রয়েছে। দিনে দুবার করে খেতে হবে।

আইভারমেকটিন কভিড-১৯ এ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ওষুধটি সস্তা, সহজলভ্য। খুব বেশি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। যাদের ওজন ৬০ কেজির বেশি তারা ৬ মি.গ্রা. এর তিনটি ট্যাবলেট একবার খেতে পারেন। ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মি.গ্রা. তেমনি আরেকটি ওষুধ। এটিও আইভারমেকটিনের পাশাপাশি দিনে দুবার করে খাওয়া যাবে। এ ওষুধের খুব মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। সাত দিনের জন্য ওষুধটি খাওয়া যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে এবং বাসায় বসে চিকিৎসকের পরামর্শে শেষের দুটো ওষুধ সেবনে কভিড-১৯ এ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।

যাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগসহ অন্যান্য অসুখে দীর্ঘদিন ভুগছেন তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করবেন। ওষুধ সেবনের পর উপসর্গ বেড়ে গেলে কিংবা শ্বাসকষ্টসহ নতুন উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রতিরোধই মুক্তির চাবিকাঠি। সে জন্য দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে হবে। মৃদু মাত্রার করোনার চিকিৎসা অনলাইনে নিন।