চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ধাক্কা সামলে আয় ও মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ে ১৩ লাখ নতুন গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। বেড়েছে রাজস্ব আয়ও। গতকাল গ্রামীণফোনের প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। অর্ধবার্ষিকীতে গ্রামীণফোন যে মুনাফা করেছে, তার প্রায় ৯৭ শতাংশই শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ।
চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আয়ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ফলে সে সময় পরিচালন মুনাফা কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে হ্রাস পায়। অবশ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বাড়ায় প্রথম প্রান্তিকের ধাক্কা সামলে উঠে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসে দেশের শীর্ষ এই মোবাইল ফোন অপারেটরটি।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কর্মীদের বেতন-ভাতা, ট্রাফিক চার্জ, রেভিনিউ শেয়ারিং ও স্পেকটার্ম চার্জ বেড়েছে। বিপরীতে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ, অবচয় ও অন্যান্য ব্যয় কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। এ সময় পরিচালন আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সুদ ব্যয়ও কমেছে। কর পরিশোধের পর চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭২৬ কোটি টাকা।
অবশ্য চলতি অর্ধবার্ষিকীতে (জানুয়ারি-জুন) গ্রামীণফোনের রেভিনিউ বাড়লেও নিট মুনাফা আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কমেছে।
১৩ লাখ নতুন গ্রাহক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ, যার মধ্যে ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ কোটি ৪৭ লাখ। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, ‘গ্রাহক অভিজ্ঞতার মানোন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কারণে আরও বেশি সংখ্যক গ্রাহক গ্রামীণফোনের সেবা বেছে নিয়েছেন এবং একই কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইন্টারনেট ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে নিজেদের সব টাওয়ারে ফোরজি সেবা সম্প্রসারণ করে গ্রামীণফোন। পাশাপাশি, অধিকৃত নতুন তরঙ্গ ব্যবহার ও নেটওয়ার্ক বিস্তারের ব্যাপারেও আমরা আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আমাদের ২৩ লাখ ফোরজি গ্রাহক বেড়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। কভিডের মহামারীর চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণফোন ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে।’
গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, ‘২০২১ সালের শুরু থেকে ব্যবসায়িক গতির ধারা উন্নতির দিকে থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় আমাদের সাবক্রিপশন ও ট্রাফিক রাজস্ব বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রাহকপ্রতি ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ মার্জিন নিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৫১ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১৪ জলাই অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় পরিচালনা পর্ষদ আমাদের সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছেন।’
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি নেটওয়ার্ক কাভারেজ উন্নয়নে ৫১৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গ্রামীণফোনের মোট সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪১৬টি। ২০২১ সালের প্রথম অর্ধবছরে প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, ডিউটি, ফি, ফোরজি লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফি বাবদ ৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মোট রাজস্বের ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ।