চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তানহারা স্বজনদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের তালিকা করে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে চট্টগ্রাম জেলা ও মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) অর্থায়নে ইলেকট্রনিকস, মেকানিক্যাল, গার্মেন্টস সেক্টর, ভাষা শিক্ষা, আইটি প্রশিক্ষণসহ যোগ্যতা অনুযায়ী এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। লকডাউন শেষ হলেই কার্যক্রম শুরু হবে। স্মরণকালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনার পর নিহতদের আত্মীয়স্বজনদের সান্ত¡না জানাতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা। কিন্তু ঘটনার ১০ বছর পরও সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় গত রবিবার (১১ জুলাই) দৈনিক দেশ রূপান্তরের তৃতীয় পাতায় ‘আজও পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এ সংবাদ প্রকাশের পরপরই চট্টগ্রাম জেলা ও মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
ইউএনও মিনহাজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করি। দুর্ঘটনার সময় আমি এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কেউই এখানে দায়িত্বে ছিলাম না। কিন্তু আমরা তখন সেটা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছিলাম। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এখনো মনে হলে গা শিউরে উঠে। কিন্তু এখন জানতে পারলাম অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই চট্টগ্রাম জেলা ও মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের তালিকা করে তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। আর এ প্রশিক্ষণ শেষে তারা মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, দেশের বিভিন্ন জায়গা অথবা সরকারি উদ্যোগে (কম খরচে) দেশের বাইরেও কাজ করতে যেতে পারবেন। আশা করছি এতে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। যদিও তাদের সন্তানরা বেঁচে থাকলে হয়তো এতদিনে ভালো ভাবেই পরিবারের দায়িত্ব নিতেন। আমরা তো আর সেই ক্ষত পূরণ করতে পারব না।’ এ সময় বিষয়টি তুলে ধরার জন্য দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই সদর স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখে বাড়ি ফেরার পথে সৈদালী এলাকায় মিনি-ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে যায়। এ সময় মিনি-ট্রাকে থাকা ৪৩ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করেন স্বজন-প্রতিবেশী, সহপাঠী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ।