চাকরি হারিয়ে বিশ্বসেরা টিকটকার খাবি লামে

জুলাই মাসে ৮৭ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে খাবি লামে হয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় টিকটকার। করোনা মহামারীতে চাকরি চলে গেলে সময় কাটাতে ক্যামেরার সামনে বসে লাইফ হ্যাকের কমিক ভিডিও বানাতেন তিনি। এই ভিডিওগুলোই তাকে পরিচিত করে তোলে। অর্থকষ্টে জীবন চালানো খাবির সেরা টিকটকার হয়ে ওঠার ঘটনা লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

খাবি লামে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার সময় একবার হলেও আপনার টাইমলাইনে খাবি লামের চেহারা এসেছে। আপনি হয়তো সেই ভিডিও দেখেছেন কিংবা এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু তার ভিডিও ঘোরাফেরা করেছে সবার টাইমলাইন জুড়েই। ‘লাইফ হ্যাক’ নামক কিছু ভিডিও যখন সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, তখন এই ভিডিওগুলোকে কমিক আকারে তুলে ধরছেন খাবি লামে।

খাবি লামের সম্প্রতি একটি টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কাঁচি দিয়ে দুধের কনটেইনার খোলার চেষ্টা করছেন। কীভাবে সহজে এটি করা যায় তা দেখানোর জন্য লেইম সাধারণভাবে হাত দিয়েই দুধের বোতলটি খুললেন এবং গ্লাসে দুধ ঢাললেন। এরপর ক্যামেরার দিকে অবাক হওয়ার ভান করে তাকিয়ে রইলেন। খুব সাধারণ একটি অভিনয়। বেশির ভাগ মানুষই রোজ এই কাজটি করে। অথচ এই ভিডিওটিতে লাইক এসেছে ৬০ লাখ। এই সপ্তাহেই ২১ বছর বয়সী খাবি চলে এসেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় টিকটকারের তালিকায়। বর্তমানে টিকটকে তার ফলোয়ার ৮৭ মিলিয়ন। তার অ্যাকাউন্টে লাইক ১.২ বিলিয়ন। গত মাসেই তার ফলোয়ার ছিল ৬৫ মিলিয়ন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এত ফলোয়ার বেড়েছে তার। খাবি যদি এভাবেই এগোতে থাকেন তবে খুব দ্রুতই চার্লি ডি অ্যামেলিওর ১২০ মিলিয়ন ফলোয়ারের রেকর্ড ভেঙে ফেলবেন।

খাবি লামে মূলত একজন সেনেগালিজ-ইতালিয়ান। তার আসল নাম খাবানে লামে। ২০০০ সালের ৯ মার্চে আফ্রিকার সেনেগালে তার জন্ম। এক বছর বয়সে ইতালির চিভাসোতে চলে আসেন। এখানেই বাস করছেন এখন। ফুটবল ও বাস্কেটবল তার প্রিয় খেলা। হাইস্কুলে জুনিয়র লেভেলে বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। টিকটকে যুক্ত হওয়ার আগে খাবি উত্তর ইতালির একটি ফ্যাক্টরিতে সিএনসি মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন। করোনা মহামারীতে চাকরি চলে যাওয়ার পর বেশ অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে খাবিকে। কোনো কাজ না থাকায় সময় কাটানোর জন্য মার্চ মাস থেকে খাবি লামে নামে টিকটকে ভিডিও বানানো শুরু করেন। এই ভিডিওগুলোই আজ খাবিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টিকটকার হিসেবে তৈরি করেছে।

টিকটকে রেকর্ড

গত বছরের মার্চ মাস থেকে ভিডিও বানানো শুরু করেন খাবি। পুরনো এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় নাচছেন। আবার দাবার গুটি দিয়ে গান বাজিয়ে ডিজে সাজছেন। এসব ভিডিও গতানুগতিক ছিল। খাবি পরিচিত হতে থাকেন তার পরের ভিডিওগুলো থেকে। জটিলভাবে দেখানো ভিডিওগুলোকে সহজ পদ্ধতিতে দেখানো শেষে অদ্ভুত অভিব্যক্তি ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায় খাবির চেহারায়। ক্যামেরার দিকে তার এমন অদ্ভুত অভিব্যক্তি নিয়ে তাকানোই ভেঙে দেয় টিকটকের সব রেকর্ড। ক্যামেরার সামনে তিনি নাচেন না, গান গান না, এমনকি কথাও বলেন না। তবু শুধু অভিব্যক্তি দিয়েই খাবি বর্তমানে সেরা টিকটকারদের একজন।

নিজের চেহারার অভিব্যক্তিই যে মানুষকে হাসায় সেটা খাবি নিজেও স্বীকার করেন। তার মতে, এই অভিব্যক্তি বর্তমানে ‘বৈশ্বিক ভাষা’ হয়ে উঠেছে। কারণ কোনো কথা না বলেও তিনি তার মনের ভাব সবার সামনে তুলে ধরতে পারছেন।

সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি যন্ত্র দিয়ে চেরি ফল ধরে তার ডাল কেটে দিচ্ছেন। খাবি তার সামনে দুটো চেরি ফল রাখেন। ক্যামেরার দিকে তাকান। হাত দিয়ে সাধারণভাবে সেই চেরি ফলের ডাল কাটেন। চেরি ফল মুখে নিয়ে ধীরে মাথা নেড়ে, মুখে কিছু না বলে বোঝান বিষয়টি কতটা সাধারণ ছিল। ট্রেনে বসেই খাবি ভিডিওটি করেন। এই ভিডিওটি দেখেছেন ১ লাখ ১৩ মিলিয়ন মানুষ।

৫০ মিলিয়ন ভিউ হওয়া আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রেতে করে পানীয় ও খাবার নিয়ে দ্রুত একজন ফাস্ট ফুডের কর্মী এসে গাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় গাড়ির জানালায় বাড়ি খেয়ে সব খাবার এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওর অংশটুকু নিজের সঙ্গে জোড়া লাগান খাবি। তাতে দেখা যায়, খাবির মুখে, গালে কয়েকটি ফ্রাই লেগে আছে। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। নিজের মুখের ওপর থেকে সেগুলো ফেলে জানালার গ্লাস তুলে দেন।

টিকটক ক্রিয়েটর খাবি জানান, তিনি সকার খেলতে ভীষণ ভালোবাসেন। তার প্রিয় দল ইতালির তুরিনের জুভেন্তাস এফসি। নিজের কাজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে এডি মরফি ও উইল স্মিথকে অনুসরণ করেন। কমেডির মাধ্যমে এক দিন তিনি তাদের পর্যায়ে যেতে চান।

সাধারণ ভিডিও

বড় বড় তারকা যেখানে ভিডিও বানানোর জন্য হাই-কোয়ালিটির ক্যামেরা, অনেক মিউজিক ব্যবহার করেন, লাইটিং নিয়ে খুব সচেতন থাকেন, সেখানে খাবি এসবের কিছুই করেন না। তার ভিডিওগুলো হয় একদম নীরব। আর তাতে কোনো ধরনের শব্দ থাকে না। অন্য যেকোনো ভিডিওর তুলনায় সেগুলোকে দেখলে বেশি বাস্তব মনে হয়। কোনো ধরনের নাচ বা কথা না বলে খাবি শুধু ক্যামেরার সামনে বসে থাকেন। তিনি লাইট নিয়ে কিছু ভাবেন না, এমনকি কোনো ভিডিও তিনি এডিটও করেন না। যেটা যেভাবে করেন সেভাবেই টিকটকে দেন।

খাবির কাজ বিশ্বজুড়ে ছড়াতে থাকে যখন তার ভক্তরাই ‘কযধনু খধসব ইঊঝঞ ঞরশঞড়শং’ এবং ‘ঋঁহহরবংঃ কযধনধহব খধসব ঈড়সঢ়রষধঃরড়হ’ বলে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেন। ইউটিউবে তার ভিডিওর ভিউ ছড়িয়েছে ১০ মিলিয়ন।

জনপ্রিয়তা

সামাজিক বিশ্লেষণ ওয়েবসাইট সোশ্যালব্লেডের মত অনুযায়ী, খাবির ফলোয়িং রেট ডি অ্যামেলিওর তুলনায় আট গুণ বেশি। গত ৩০ দিনে তাকে নতুন করে ফলো করেছে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ। যেখানে এই কদিনে একজন সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন পর্যন্ত ফলোয়ার পান। যদি এভাবেই খাবির ফলোয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে টিকটকে আগস্ট নাগাদ ডি অ্যামেলিওকেও পেছনে ফেলে দিতে পারেন। সবাইকে ফেলে যেভাবে খাবি এগিয়ে যাচ্ছেন তাতে তার মধ্যে কিছু অহমিকা আসার কথা। কিন্তু সবার থেকে ব্যতিক্রম খাবি একে মোটেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন না। তিনি শুধু তার কাজটুকু করছেন। দর্শক তার কাজ দেখেই বরং তাকে ফলো করছে।

ইতালির নাগরিকত্ব

খাবিকে নিয়ে বেশ কিছু ফ্যান পেজ আছে। সেগুলো ইংরেজি, জার্মান, অ্যারাবিক, পর্তুগিজ, স্প্যানিশসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় পরিচালিত হয়। কিং বিচসহ বেশ কয়েকজন সুপরিচিত ইউটিউবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। টিকটকের মাধ্যমে আয়ের জন্য তার সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অফার আসছে। কথা হয়েছে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের সঙ্গেও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতালিয়ান পাস্তা ব্যারিলা ব্র্যান্ড। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে উখঁরজবঢ়ঁননষরপধ ম্যাগাজিনের জন্য মডেলিংয়ের কাজ করেছেন। তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছেন। তাকে ঘিরে কাজের চাহিদা বাড়ছে।

বিশ্বজুড়ে ইতালিয়ান টিকটকার হিসেবে পরিচিতি পেলেও ইতালিই তাকে ইতালিয়ান হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে না। এক বছর বয়সে ইতালি এসেছেন, ইতালিয়ান স্কুলে পড়েছেন, সকার টিমে খেলেছেন। এত কিছুর পরও ইতালি তাকে নাগরিকত্ব দেয়নি। ক্ষোভ থেকেই খাবি বলেন, ‘নিজেকে ইতালিয়ান প্রমাণ করার জন্য আমার কোনো কাগজের টুকরোর প্রয়োজন নেই। ইতালিয়ান পাসপোর্ট না থাকার পরও এখনো কোনো কাজে সমস্যা হয়নি আমার।’ তবে একটি সমস্যা তার হচ্ছে। ইতালিয়ান পাসপোর্ট না থাকায় টিকটক প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন না। সেনেগালিজ পাসপোর্ট নিয়ে আমেরিকায় ঘুরতে যাওয়া কঠিন। নাগরিকত্বের জন্য এখনো তিনি ইতালিয়ান ব্যুরোর সঙ্গে কাগজপত্র নিয়ে কথা বলছেন।

ইতালিয়ান নাগরিকত্ব সাধারণত রক্তের ওপর বেশি নির্ভর করে। অন্য আরেকটি উপায় হচ্ছে, যদি অভিবাসীদের সন্তান সে দেশে জন্মগ্রহণ করে তবে ১৮ বছর বয়স হলে সে নাগরিকত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে ইতালিতে জন্ম না হলে নাগরিকত্ব পেতে অনেক সময় লেগে যায়। সরকারের ওপর যেসব আইনপ্রণেতার শক্ত প্রভাব ছিল তারা এ নীতি তৈরি করেছেন।

খাবি হেরে যাচ্ছেন এই নীতিতে এসেই। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়র নই। আমি আসলে কেউ না। আমি আইন বদলাতে পারব না। তবে যে আইনপ্রণেতারা এসব আইন তৈরি করেছিলেন তাদের কারও ৬০ মিলিয়ন ফলোয়ার ছিল না। কিন্তু আমার রয়েছে। আমি হয়তো এ নীতি বদলাতে পারব আমার জনপ্রিয়তা দিয়ে। আমার ক্ষমতা এখানেই।’

ফেইসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গ খাবির ইন্সটাগ্রাম পোস্টে থাম্বস আপ ইমোজি দিয়েছেন। ১৯ মে, খাবিকে তার প্রিয় জুভেন্তাস টিমের খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরোর সঙ্গে দেখা গিয়েছে। প্রভাবশালী অনেকেই খাবিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য।

ব্রাজিল ও আমেরিকায় তার অনেক ভক্ত আছে। তার জন্মস্থান সেনেগালেও ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে। খাবি জানান, ইতালির বাইরে বিভিন্ন দেশে তার ভক্তকুলের সংখ্যা বেশি।

বর্তমানে তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে রাস্তায় বের হলে যে কেউ তাকে চিনে ফেলেন। ভক্তরা রাস্তায়, রেস্টুরেন্টে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলে। শুধু তা-ই নয়, খাবি এখন বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকার প্রথম পাতা অথবা টেলিভিশন নিউজের খবরও হয়ে উঠেছেন।

সেরা টিকটকারকে পেছনে ফেলে

গত এপ্রিলেই খাবি পেছনে ফেলেছেন ইতালির জানলুকা ওয়াকিকে। তিনি টিকটকের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। ৫৩ বছর বয়সী জানলুকা পরিচিত তার নাচ ও দুর্দান্ত লাইফস্টাইলের জন্য। প্লাস্টিক ম্যাগনেট হিসেবে পরিচিত এই উদ্যোক্তার টিকটকে ফলোয়ার ২০ মিলিয়ন। খাবির বর্তমান ম্যানেজার রিগো আলেসান্দ্রো আগে জানলুকার কাজ করতেন। জানলুকা যখন ইতালির বিলাসবহুল জীবনের ছবি দিতেন, তখন খাবি শেয়ার করতেন বড় ভাইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা ছোট রুমের ছবি। রুমটি ডেকোরেশন করা ছিল সেনেগালের পতাকা আর জুভেন্তাসের সকার স্কার্ফ দিয়ে। ভিডিও করার জন্য ব্যবহার করতেন পুরনো ফোন, যাতে ঘরের লাইটও ঠিকঠাক আসত না। অথচ মানুষ এই ভিডিওগুলোই পছন্দ করত।

মিশিগানের বার্মিংহামের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাডাম মিসকৌরি বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রভাবশালীদের লাইফস্টাইল, তাদের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য, ভালো লাইটিং সবকিছু দেখে মানুষের মনে হয়েছে ভিডিও করতে হলে এসব জরুরি। কিন্তু এ দুনিয়ায় যখন খাবি এসেছে সে একদম সাধারণভাবেই এসেছে। কোনো রকম ভণিতা নেই তার মধ্যে। তার ভিডিওগুলো দেখলে চোখে প্রশান্তি লাগে। নিজে সাধারণ বলেই অন্যের কাছে পৌঁছানো তার জন্য সহজ হয়েছে। তাই বড় প্রভাবশালীদের সঙ্গে টেক্কা দিতে সহজেই রাস্তা তৈরি করেছে সে।’

অর্থের পরিমাণ

টিকটকে নতুন হওয়ায় এখনো খাবির নির্দিষ্ট আয় কত তা জানা যায়নি। তবে তার অর্থের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। মার্কেটিং হাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাবি প্রতি টিকটক পোস্টের জন্য ৯৮,৫৬১ ডলার থেকে শুরু করে ১,৪৭,৮৪২ ডলার চার্জ করছেন। ঈবষবনং খরভব জববষ-এর তথ্য মতে, খাবির অর্থের পরিমাণ ১-২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। তাকে স্পনসর করা একেকটি পোস্টের মূল্য ১৩,৩৮০ ডলার থেকে ২২,৩০০ ডলারের মধ্যে।