গত ১৬ জুলাই আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও তালেবান যোদ্ধাদের সংঘর্ষের সময় মারা গেছেন সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। রোহিঙ্গা সংকট, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, করোনায় বিপর্যস্ত ভারতের যেসব ছবি দেখে নির্বাক হয়েছে বিশ্ববাসী, তার অনেকগুলো দানিশের তোলা। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ও দানিশ সিদ্দিকিকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি
ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। তার জন্ম ১৯৮০ সালের ১৯ মে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেন। সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমস ও টিভি টুডে চ্যানেলে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন তিনি। টেলিভিশন সাংবাদিকতার ইতি ঘটিয়ে রয়টার্সে যোগ দেন। ফটোগ্রাফির দিকে আগ্রহ বাড়তে থাকে তার। এক সময় পুরোদস্তুর ফটোসাংবাদিকতায় ঝুঁকে পড়েন। সব মিলিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রয়টার্সের হয়ে কাজ করেছেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত নিউজ এজেন্সি রয়টার্সের প্রধান ফটোগ্রাফার ছিলেন তিনি।
৪১ বছর বয়স বয়সী এই মেধাবী ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরার লেন্স আর কথা বলবে না। রোহিঙ্গা সংকট, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, করোনা বিপর্যস্ত ভারতের জ্বলন্ত শ্মশানের যে ছবিগুলো বিশ্বকে নির্বাক হতে বাধ্য করেছে দানিশ আর তার ক্যামেরা হাতে নিয়ে সে রকম ছবি তুলবেন না। আফগানিস্তানে গত ১৬ জুলাই থেমে গেছে তার ক্যামেরা।
গত সপ্তাহের শুরু থেকে তিনি কান্দাহারের দক্ষিণ প্রদেশে আফগান বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে খবর সংগ্রহ করছিলেন। স্পিন বোলডকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে একটি চেক পয়েন্টে সেনাবহরকে লক্ষ্য করে তালেবানরা হামলা চালায়। আফগান কমান্ডো ইউনিট পাল্টা গুলি ছোড়ে। সে সময় অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে দানিশ রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তালেবানরা পিছু হটে। বিপদ কেটে গেছে দেখে খবর সংগ্রহে নেমে পড়েন দানিশ। পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি দানিশ স্থানীয় দোকানদারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এমন সময় সেখানে তালেবানরা আবার আক্রমণ করে। ক্রসফায়ারে মারা যান দানিশ। যদিও এখনো নিশ্চিত না, যুদ্ধের কোন পরিস্থিতিতে, কোন দলের আঘাতে তিনি মারা গেছেন। আবার আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর কত জন সেনা নিহত হয়েছে তা জানাও সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে রেডক্রসের কাছে তার মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে তালেবান বাহিনী।
আফগানিস্তান পরিস্থিতি
২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়েদার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তালেবান সরকার সন্ত্রাসী নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান আক্রমণ করে বসে। তালেবান নেতৃত্ব হটিয়ে দিয়ে নিজের দখলদারি মনোভাবের প্রয়োগ ঘটায় আমেরিকা। কাবুলে পশ্চিমা সমর্থিত সরকার বসিয়ে আমেরিকান প্রভাব জারি রাখতে চেয়েছে তারা। দীর্ঘমেয়াদি এ যুদ্ধে উপায় করতে না পেরে পিছু হঠতে শুরু করে আমেরিকা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সরাসরি আলোচনার পর মার্কিন সরকার ও তালেবানরা ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করবে। ১৪ মাস সময়ের ভেতরে তারা তাদের সম্পূর্ণ সৈন্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবে। বিনিময়ে তালেবানরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে না এবং ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। এই চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে তালেবানরা। আমেরিকা সৈন্য প্রত্যাহার করলে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী তালেবানরা তাদের শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রাখবে এটাই স্বাভাবিক। এ বছর সেপ্টেম্বরের পর কোনো সেনা আফগানিস্তানে থাকতে দেবে না বলে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তালেবানরা। আঞ্চলিকভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে আফগান সরকারের দখলে থাকা এলাকা নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া তালেবান গোষ্ঠী। আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ঘাঁটিতে নিয়মিত হামলা এখানে সহজাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে তারা। হামলা-পাল্টা হামলায় আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ৫ হাজার তালেবান বন্দি মুক্তির সময় নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে আলোচনা শুরু হতে দেরি হচ্ছে। তালেবানদের আশা, আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে আফগান সরকার আলোচনার পর বন্দিমুক্তির বিষয়ে পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে নিজেই স্থানীয় চাপে আছে ন্যাটো সমর্থিত আমেরিকাপন্থি আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার। ২০১৯ সালের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেটিও আবার তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেনি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন এই ফলাফল ঘোষণা করে। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে নির্বাচনী ফলাফল। ফলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বসেন এবং নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে একটি নির্বাচনের আয়োজনও করেন।
২০১৯ সালের মার্কিন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সরকার নিয়ন্ত্রিত আফগান জেলা মাত্র ৫৩.৮ শতাংশ, ৩৩.৯ শতাংশ এখনো যুদ্ধের অধীন, বাকি ১২.৩ শতাংশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। ঊর্ধ্বতন আফগান কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০-৪০ জন নিহত হয়েছে। ২০১৮ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, ১০ হাজার ৯৯৩ জন বেসামরিক লোক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে এই হতাহতের সংখ্যা সামান্য কমে এসেছে। তবে টানা ষষ্ঠ বছরের মতো মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দক্ষিণ প্রদেশে হেলমান্দের একটি শক্ত ঘাঁটি ছাড়াও একাধিক প্রদেশে তারা তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাচ্ছে। ২০১৮ সালের মে মাসে ফারাহ প্রদেশ ও আগস্ট মাসে গজনি প্রদেশের রাজধানী দখল করে গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে ফেলে।
সব মিলিয়ে আফগান যুদ্ধে যেমন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি সেনা প্রত্যাহারের পরেও দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির শিকার হবে দেশটি। আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তার ভবিষ্যৎ ঘিরে অনিশ্চয়তা আফগান অর্থনীতিতে টান ফেলেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আগেই কাবুলকে সহায়তার চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তার সত্ত্বেও বেকারত্বের হার বৃদ্ধিসহ আফগান সমাজ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এদিকে তালেবান বিদ্রোহের পুনরুত্থান আফগানিস্তানকে আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে পারে। কারণ আমেরিকা সরে যেতেই প্রভাবশালী দেশগুলো আফগানিস্তানকে তাদের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসতে সদা তৎপর।
দানিশের বিশেষ কাজ
দানিশ ছিলেন স্বশিক্ষিত ফটোগ্রাফার। মানুষের দুর্ভোগ ক্যামেরায় ধারণ করার সময় তিনি তার সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এই চেষ্টাই তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে দানিশ বলেছিলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের জন্য ছবি তুলি।’ বন্ধু ও সহকর্মীদের ভাষায়, কোনো ঘটনা কাভার করার আগে তিনি সে মানুষগুলোর প্রতি খুবই যত্নশীল ছিলেন। অ্যাসাইনমেন্ট শুরু করার আগে তিনি নিখুঁতভাবে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করতেন। যে মানুষগুলোর ছবি তুলছেন তাদের দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন সব সময়। নয়াদিল্লির রয়টার্সের সংবাদদাতা ও দানিশের প্রতিবেশী দেবজ্যোতি ঘোষাল বলেন, ‘ব্রেকিং নিউজ লেখার সময়েও একটি গল্পকে মানবীয় করার কথা ভাবতেন তিনি। সম্প্রতি দিল্লির দাঙ্গা ও কভিড-১৯ মহামারী নিয়ে তোলা ছবিগুলো তার সেরা কাজ। মানুষের সঙ্গে মানবীয় উপাদানের বিচ্ছেদকে তিনি দারুণ করে ফুটিয়ে তুলতেন।’
সাবেক সহকর্মী রাহুল ভাটিয়া তার এক লেখায় জানিয়েছেন, ‘দানিশ সুন্দর মানুষ ছিলেন। দায়িত্ব শেষে ব্যুরোয় ফিরে আসার পরে তাকে তারকার মতো করে অভিবাদন জানাত হাউজের সবাই। আসলেই তিনি তারকা ছিলেন। তিনি ছিলেন আলাদা। যে কোনো খবরকে কেবল খবর হিসেবে দেখতেন না তিনি। খবরের পেছনের লোকদের কাছ থেকে দেখতেন। তিনি চাইতেন, যাদের খবর সংগ্রহ করা হচ্ছে সবাই যেন তাকে অনুভব করতে পারে।’
দানিশ একবার লিখেছিলেন, ‘আমি যে ফটোগ্রাফি শিখেছি তার নব্বই শতাংশই ফিল্ডের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে এসেছে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই মানুষের মুখের ছবি তুলতে। সে ছবিতে একটি গল্প থাকে। আমি খুব সাধারণ মানুষের জন্য ছবি তুলি যেন মানুষ ছবির মানুষের পরিবর্তে নিজেকে কল্পনা করে নিতে পারে। মানুষ যেন ঘটনাস্থলের মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে।’
দানিশ সিদ্দিকি ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের ছবি তোলার জন্য ফিচার ফটোগ্রাফি বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী রয়টার্স ফটোগ্রাফি দলের অংশ ছিলেন। বিচারকদের ভাষায় সে ছবির সিরিজকে ‘মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহিংসতার সম্মুখীন হওয়া মর্মান্তিক ছবি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ২০১০ সাল থেকে রয়টার্সের ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধ, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, হংকং বিক্ষোভ ও নেপালের ভূমিকম্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসে দেশটিকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেয়। সে সময়ে ভারতের যে ছবিগুলো দেখে বিশ্বের সবাই চমকে ওঠে সেগুলোর প্রায় সবই ছিল দানিশের তোলা।
মারা যাওয়ার আগ মুহূর্তেও ছবি তুলেছেন তিনি। শেষ মুহূর্তে কী হয়েছিল–এই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার জন্য রয়টার্স উদগ্রীব হয়ে আছে। কেউ ঠিকঠাক জবাব না দিলেও দানিশের হয়ে কথা বলেছে তার ক্যামেরা। তার তোলা শেষ ছবিতে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের চেকপোস্টে তালেবান যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে যুদ্ধরত আফগান বিশেষ বাহিনীর ছবি তুলেছেন।
শোক
তার মৃত্যুতে রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ফ্রিডেনবার্গ ও এডিটর ইন চিফ আলেসান্দ্রা গ্যালোনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ বিষয়ে অবিলম্বে আমরা আরও তথ্য চাই। এ অঞ্চলের কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি। দানিশ একজন অসাধারণ সাংবাদিক, একনিষ্ঠ স্বামী ও বাবা এবং আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। ভয়াবহ এ সময়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘সিদ্দিকির মৃত্যুর খবরে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘তালেবানরা জানত না যে, একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে রিপোর্ট করছেন। সিদ্দিকিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের হামলায় কমপক্ষে ১১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আরও কাজ করা দরকার। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানের ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এ বছরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে ৩৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল কাবুলে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন ৯ জন সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারসহ ১০ জন। একই সময়ে খোস্ত শহরে তালেবানদের গুলিতে বিবিসির আফগান প্রতিনিধি নিহত হন। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটির সংবাদ মাধ্যমের ওপরে চাপ বাড়তে থাকে। ২০০১ সালের ১৯ নভেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি বার্টন ও আফগান বংশোদ্ভূত আজিজুল্লাহ হায়দারিও বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। সে সময় তারা তালেবান শাসনের পতনের খবর সংগ্রহ করতে কাবুল যাচ্ছিলেন। জাতিসংঘ সাংবাদিকদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং দানিশ সিদ্দিকির হত্যার সরকারী তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আফগানিস্তানে কাজ করা মিডিয়াসহ দেশটিতে সাংবাদিকতা ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে। আফগানিস্তানে প্রচার মাধ্যমের ক্রমবর্ধমান বিপদের এক বেদনাদায়ক স্মারক। কর্র্তৃপক্ষকে অবশ্যই এ ঘটনার তদন্ত করতে হবে।’